আল আমিন আহমদ :: মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বদলিজনিত বিদায়, অবসরজনিত বিদায় এবং নতুন যোগদানকৃত শিক্ষকদের বরণ উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জুড়ী ইউপিইটিসিতে জায়ফরনগর ইউনিয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জুড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দিলীপময় দাশ চৌধুরী ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাহমুদ হোসাইন-এর বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এছাড়া হাসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরমান আলী এবং পশ্চিম গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহানারা খানম-এর অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে জায়ফরনগর ইউনিয়নের বদলিজনিত বিদায় নেওয়া এবং নতুন যোগদানকৃত শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয়।
ভোগতেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় এবং মানিকসিংহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনিছুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউপিইটিসির ইন্সট্রাক্টর মো. তারিকুল ইসলাম এবং জুড়ী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অরবিন্দ কর্মকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আনিছুর রহমান বলেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেন না, তিনি একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কারিগর। একজন শিক্ষক কর্মস্থল পরিবর্তন করে অন্যত্র গেলেও তাঁর কর্মের স্মৃতি ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অবদান কখনো মুছে যায় না। যারা দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরে যাচ্ছেন, তাদের অভিজ্ঞতা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য মূল্যবান সম্পদ। আর নতুন যারা দায়িত্ব গ্রহণ করছেন, তাদের উচিত সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানসম্মত শিক্ষায় গড়ে তোলা। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি যত শক্তিশালী হবে, দেশের ভবিষ্যৎ তত বেশি সমৃদ্ধ হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ, নিয়মিত পাঠদান, বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিদায়ী শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদায়ী ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা নতুন কর্মস্থলে বিদায়ী শিক্ষকদের সফলতা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। পাশাপাশি নতুন যোগদানকৃত শিক্ষকদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
পরে বিদায়ী ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং নতুন যোগদানকৃত শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রাণবন্ত ও আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।