আল আমিন আহমদ :: চা শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব ও চা শিল্পের উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী–বড়লেখা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু। তিনি বলেছেন, চা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। এ শিল্পের সঙ্গে অসংখ্য মানুষের জীবিকা জড়িত। তাই চা বাগানের উৎপাদন ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে স্থায়ী নারী চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে এমপি মিঠু জানান, বৃষ্টির মৌসুমে চা শ্রমিকদের দুর্ভোগ কমাতে রেইনকোট বিতরণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন, জুড়ী আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোয়ার্দার আসিফ ইকবাল। এসময় উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি গোয়াল বাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপি সাবেক সহ সভাপতি, সাগরনাল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী লিয়াকত, ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম সেলু, পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, ফুলতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন সেলিম,
যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য ইমতিয়াজ গফুর মারুফ সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটের চা শিল্প এবং চা শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি চা শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করার কথা বলেছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকে বৃষ্টির মৌসুমে শ্রমিকদের অন্তত রেইনকোট দেওয়ার বিষয়ে আমি সংসদে আবেদন করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গ্রহণ করেন এবং সেই উদ্যোগ থেকেই রেইনকোট বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।”
রেইনকোট বিতরণের অর্থায়ন ও উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “অনেকে বলছেন, এটি আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেওয়া হচ্ছে। আসলে বিষয়টি তা নয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এবং সরকারের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এ রেইনকোট বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারি পর্যায়ে পরবর্তী ধাপে বিতরণে সময় লাগতে পারে। তাই অসমাপ্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আমি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ সহায়তা দিচ্ছি।”
চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণের পরিকল্পনা তুলে ধরে এমপি মিঠু বলেন, প্রথম পর্যায়ে সব চা বাগানের স্থায়ী নারী শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। বড়লেখার কয়েকটি বাগানসহ জুড়ী এলাকার যেসব বাগানে বিতরণ অসমাপ্ত রয়েছে, সেগুলোতেও পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে চা পাতা উত্তোলনসহ অন্যান্য কাজে নিয়োজিত নারী শ্রমিকদেরও এ সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
চা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “চা শ্রমিকদের যেমন দুঃখ-দুর্দশা রয়েছে, তেমনি চা বাগানগুলোরও নানা সমস্যা আছে। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকার এ শিল্প এবং শ্রমিকদের দেখভাল করতে বদ্ধপরিকর। আপনারা ধৈর্য ধরবেন। একই সঙ্গে বাগানের শ্রমিকদের শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আন্তরিক হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, চা বাগানের শ্রমিকেরা প্রতিদিন আট ঘণ্টা কাজ করেন। এ সময়টুকু মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। বাগানকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান মনে করে এর উন্নয়নে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। কারণ চা শিল্প টিকে থাকলে শ্রমিক, মালিক—উভয় পক্ষই উপকৃত হবে। এ শিল্পের সঙ্গে শ্রমিকদের জীবিকা ও অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত।
এমপি মিঠু চা শ্রমিকদের কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী বলেন, চা শ্রমিকেরা দেশের অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের কর্মপরিবেশ ও জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি রেইনকোট বিতরণ কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানান এবং চা শ্রমিকদের কল্যাণে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।