মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় বেকার যুবকদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে স্বাবলম্বী করতে সরকার সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মৌলভীবাজার ১ জুড়ী–বড়লেখা আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু। তিনি বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যারা উদ্যোক্তা হতে চান, সরকার তাদের পাশে থাকবে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) জুড়ী উপজেলা পরিষদ হলরুমে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আয়োজিত দুই হাজাট ২৬–দুই হাজার ২৭ অর্থবছরে উপজেলা পর্যায়ে বেকার যুবকদের অপ্রাতিষ্ঠানিক ট্রেডের প্রথম ব্যাচের ‘পোশাক তৈরি’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রশিক্ষণার্থীদের উৎসাহিত করতে প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর নিজ অর্থায়নে ২৮টি সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে হবে। শুধু প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেই হবে না, সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে হবে। বিশেষ করে পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়ে যুবক-যুবতীরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। এতে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সংসদ সদস্য বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুবসমাজকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষে যারা আত্মকর্মসংস্থান কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী, তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জুড়ী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে বায়োগ্যাসের ব্যবহার সম্প্রসারণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। গৃহস্থালির জৈব বর্জ্য ও গোবরের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বায়োগ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব। এর ফলে রান্নার জ্বালানির বিকল্প উৎস তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশদূষণ কমানো এবং জৈব বর্জ্যের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণকে সচেতন হতে হবে এবং বায়োগ্যাস প্রযুক্তির ব্যবহার ও সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণে আগ্রহী হতে হবে।
এমপি মিঠু বায়োগ্যাসের উপকারিতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রশিক্ষক, উদ্যোক্তা ও স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রশিক্ষণ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোয়ার্দার আসিফ ইকবাল, সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী ফৌজিয়া আহমেদ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি দেওয়ান আইনুল হক মিনু, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম এবং পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম। এ সময় প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।
যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসারে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জুড়ী উপজেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।