বড়লেখায় চা বাগানে শ্রমিক বিক্ষোভ, অবরুদ্ধ অডিট টিম ও ম্যানেজার – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কুড়িগ্রামে ৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল : জেলায় পাসের হার ৪০.৭২%  ওসমানীনগরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ৩ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ সিলেট চন্ডীপুল সিএনজি স্টেশনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় : যাত্রীদের হয়রানী দেশের কৃষি ও কৃষকরা উন্নত হলে দেশ-জাতির উন্নতি সাধন সম্ভব –কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন এমপি ছাত‌কে ৮শ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ‘মুল্লা’ ছালেককে কারাগা‌রে বিদেশমুখীতা ও অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবে এ অঞ্চলে শিক্ষারহার নিম্নগামী- তাহসিনা রুশদী লুনা কচাকাটা ডিগ্রি কলেজ নিয়ে অপ্রচার : তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এলাকাবাসী কমলগঞ্জের জমি বিক্রি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহত : আটক ১ বড়লেখায় মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন : দেড় বছরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে ৭ বছর পার! বড়লেখায় কেএসকেপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন : সভাপতি তোফায়েল, সম্পাদক মুর্শেদ আলম

বড়লেখায় চা বাগানে শ্রমিক বিক্ষোভ, অবরুদ্ধ অডিট টিম ও ম্যানেজার

  • মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬

Manual3 Ad Code

বড়লেখা প্রতিনিধি:

Manual4 Ad Code

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় চা শ্রমিকদের মজুরি বন্ধ ও অডিট টিমের সদস্যদের আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রায় দেড় হাজার বিক্ষুব্ধ চা শ্রমিক বাগান ম্যানেজার, বাগান কর্মচারি ও অডিট টিমের সদস্যদের দুই ঘন্টা ধরে বাগান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ চা বোর্ড নিয়ন্ত্রিত বড়লেখা উপজেলার নিউ সমনবাগ চা বাগানে এই ঘটনা ঘটে।

ইউএনও গালিব চৌধুরী, থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইমরান আহমদের হস্তক্ষেপে বেলা দেড়টার দিকে বিক্ষুব্দ চা শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

তবে, নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, টি বোর্ড শ্রমিক ডাটাবেজ তৈরীর কাজ শুরু করায় বাগান ব্যবস্থাপনার নানা অনিয়ম দুর্নীতির তথ্য উঠে আসার আশংকায় বাগান অভ্যন্তরের একটি মহল চা শ্রমিকদের উসকে দিয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, চা পাতা চয়ন বন্ধকালিন শ্রমিকদের গড় মজুরি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সে অনুযায়ি শ্রমিকরা সপ্তাহে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা গড় মজুরি পাওয়ার কথা। কিন্তু এবার বাগান কর্তৃপক্ষ চা শ্রমিকদের মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকা প্রদান করেছে। এছাড়া তিন সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরী বন্ধ রেখেছে চা বাগান। এর মধ্যেই গত ৫ জানুয়ারি চা শ্রমিকদের ডাটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে টি বোর্ড থেকে ৬ সদস্যের একটি অডিট টিম বাগানে তথ্য সংগ্রহে আসে। অভিযোগ রয়েছে, তথ্য সংগ্রহকালে চা শ্রমিক বিশেষ করে নারী চা শ্রমিকদের সঙ্গে অডিট টিমের সদস্য তথ্য সংগ্রহের নামে অশোভন আচরণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে নিউ সমনবাগ, পাথারিয়া চা বাগান ও মোকাম ডিভিশনের প্রায় দেড় হাজার চা শ্রমিক নিউ সমনবাগ চা বাগানের অফিসের সামনে জড়ো হয়। ক্ষুব্দ চা শ্রমিকরা বাগান ম্যানেজার এমদাদুর রহমান, অফিস স্টাফ, কর্মচারি ও অডিট টিমের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার গালিব চৌধুরী, বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান খান ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইমরান আহমদ। প্রশাসনের কর্মকর্তারা শ্রমিক নেতা, বাগান ব্যবস্থাপক ও অডিট টিমের সাথে দীর্ঘ প্রায় দেড়ঘন্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জুড়ী ভ্যালির সভাপতি শ্রীমতি বাউরী, সমনবাগ চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি নারায়ন কালোয়ার, পাথারিয়া সভাপতি মোহন রিকমুন, মোকাম ডিভিশনের সভাপতি ফজল তাতি, ইউপি সদস্য সমীরণ মুন্ডা প্রমুখ। অবশেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ইউএনও শ্রমিকদের সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে চা শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

Manual7 Ad Code

এ সময় প্রশাসনের উপস্থিতিতে অডিট টিমের প্রধান ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম নারী শ্রমিকদের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্যের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।

Manual5 Ad Code

চা শ্রমিক জুড়ী ভ্যালির সভাপতি শ্রীমতি বাউরী, শ্রমিক নেতা স্বরস্বতী সাওতাল, জানকি গড়াইত, হেমন্তি রবি দাস, স্বরস্বতী কানুসহ অন্যান্য শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন,‘আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। সামনে পৌষ সংক্রান্তি উৎসব, অথচ তিন সপ্তাহ ধরে বেতন (মজুরি ও এরিয়ার) পাচ্ছি না। আমাদের ঘরবাড়ি জরাজীর্ণ, সংস্কার করা হচ্ছে না। চা চয়ন বন্ধকালীন গড় মজুরি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এবার তা দেওয়া হয়নি। এর ওপর অডিট করতে এসে নারী শ্রমিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে। এতে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।’ ইউএনও ও ওসি সাহেবের হস্তক্ষেপে আমরা অবরোধ প্রত্যাহার করেছি।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন,‘চা বাগান ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিকদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। চা শ্রমিকরা লিখিত ভাবে তাদের সমস্যাগুলো জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

Manual4 Ad Code

অডিট টিমের প্রধান ও টি বোর্ডের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,‘চা শ্রমিকদের ডাটাবেজ তৈরির জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। ভাষাগত ভুল কারণে শ্রমিকরা বিষয়টিকে আপত্তিকর হিসেবে ধরে নিয়েছেন। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ইউএনও, থানার ওসি, ইউপি চেয়ারম্যান ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews