এইবেলা ডেস্ক::
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) আসনের খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী (দলের নির্দেশে পরবর্তীতে মনোনয়ন প্রত্যাহার) ও কাতার প্রবাসি ব্যবসায়ি লুকমান আহমদকে সিলেটে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে চাঁদা আদায় ও হত্যার হুমকি প্রদানকারি সেই সিরিজ প্রতারক নাজমুল ইসলামকে অবশেষে বড়লেখা থেকে গ্রেফতার করেছে সিলেট কোতোয়ালি পুলিশ। চাঁদাবাজির ঘটনায় প্রবাসি লোকমান আহমদ প্রতারক নাজমুল ইসলামকে প্রধান এবং তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার রিয়া, জাহিদুল ইসলাম ও আব্দুস সালামকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকির অভিযোগে মামলা করেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল আমিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বড়লেখার অফিসবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে। রোববার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
নাজমুল ইসলাম সিলেটের সোবহানীঘাট আবাসিক এলাকায় বসবাস করে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মানুষকে ইউরোপ-আমেরিকা পাঠানোর নামে অর্থ হাতিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য প্রতারণা, চাদাঁবাজির, হত্যার হুমকির ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ ও মামলা। ইতিপূর্বে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে সে কারাবরণও করেছে। সে বড়লেখা উপজেলার সুজাউল পাচপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস শহিদের ছেলে।
মামলার অভিযোগ ও সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মৌলভীবাজার-১ আসনের খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী লোকমান আহমদ রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও কাতারে তার ব্যবসা রয়েছে। সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেও দলের নির্দেশে জোটগত কারণে ২০ জানুয়ারি তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। গ্রেফতার নজমুল ইসলাম তার সমন্ধিকের মেয়ে ফাতেমা আক্তার রিয়ার স্বামী। প্রায় ২ বৎসর থেকে তার শশুর বাড়ির লোকজনের সাথে ঝগড়া ও মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে তাদের পরিবারের সদস্যগণ এমনকি আত্মীয়-স্বজনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। নাজমুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মুখুশের আড়ালে একটি প্রতারক চক্র পরিচালনা করে। বিবাদী নাজমুল ইসলামসহ অপরাপর বিবাদীগণ প্রবাসী, সম্মানী, বৃত্তশালী মানুষদেরকে টার্গেট করে কৌশলে ফাঁদে ফেলে চাঁদাদাবী পূর্বক টাকা আদায় করে থাকে।
এছাড়াও নাজমুল ইসলাম সিন্ডিকেট শ্বশুড়বাড়ির লোকজনসহ বিভিন্ন পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করাসহ মোটা অংকের টাকা দাবী ও আদায় করার বিনিময়ে মামলা তোলে নেয়। এই ধারাবাহিকতায় বিবাদী নজমুল গত বছরের মে মাস থেকে তার সাথে প্রবাসি খেলাফত মজলিস নেতা লুকমান আহমদের সাথে যোগাযোগ করে তার নিকট ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। যদি তাহার দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দেন তাহলে সে তাকে ও তার পরিবারের লোকজনদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্নসহ প্রাণে হত্যার হুমকি দেয়।
অতঃপর আত্মসম্মানের ভয়ে তার দাবীকৃত ১০ লাখ টাকার মধ্যে তিনি তাকে ৫ লাখ টাকা দেন। কিন্তু এতে নাজমুল সিন্ডিকেট সন্তোষ্ট না হয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আবারো প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকার অবশিষ্ট ৫ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। বিবাদীদের হুমকি-ধামকির ভয়ে এবং সামাজিক মান-মর্যাদা রক্ষার্থে ওই বছরের ১৫ জুলাই তিনি বাংলাদেশে আসেন। সমঝোতার জন্য ২৪ জুলাই সন্ধ্যায় বিবাদীদের সোবহানীঘাটস্থ বাসায় যান। সেখানে পূর্ব হতে অবস্থান নেওয়া অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন বিবাদীকে দেখে ভয় পেয়ে তিনি চলে আসতে চাইলে তারা তাকে আটক পূর্বক মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অবশিষ্ট ৫ লাখ টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। প্রাণ ভয়ে তার স্ত্রীকে ফোন দিলে তিনি ঘরে থাকা ৪ লাখ টাকা তাদের বাসায় পাঠালে বিবাদীরা টাকা পেয়ে উক্ত বিষয়ে কোন মামলা মোকদ্দমা না করার শর্তে লুকমান আহমদকে তারা ছেড়ে দেয়।
এব্যাপারে সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকির মামলায় প্রধান অভিযুক্ত নাজমুল ইসলামকে ৩১ জানুয়ারি বড়লেখা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের সদস্যদের তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য আদালতে আসামির রিমান্ড চাওয়া হবে।