বাংলাদেশের অপ্রকাশিত একটি বই নিয়ে ভারতের সংসদে তোলপাড়! – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সৌদি আরবের সড়কে প্রাণ গেলো কুলাউড়ার যুবকের কুড়িগ্রামে মাছের উচ্ছিষ্ট আঁশ বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে সুনামগঞ্জ–৫ এলাকাকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করতে চান- কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন এমপি মৌলভীবাজার- কুলাউড়া মহাসড়কে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় ১ জন নিহত ওসমানীনগরে নকশী বাংলা’র রামাদান ফুডপ্যাক বিতরণ কমলগঞ্জের `ফাগুয়া’ উৎসবে মাতোয়ারা চা শ্রমিকরা কুলাউড়ায় দোকান ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী ফোরামের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ভারতীয় মহিষ পাচারকারিদের চক্রান্ত- বড়লেখায় মব সৃষ্টি করে বিজিবি সদস্যদের হেনস্থার অপচেষ্টা মৌলভীবাজারে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের সঙ্গে এমপি নাসের রহমানের বৈঠক রাজনগরে তারেক হত্যাকান্ড :: চট্টগ্রাম থেকে ৩ আসামি গ্রেফতার

বাংলাদেশের অপ্রকাশিত একটি বই নিয়ে ভারতের সংসদে তোলপাড়!

  • সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

Manual7 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই সোমবার তীব্র উত্তেজনায় উত্তাল হয়ে উঠল ভারতের লোকসভা। সাবেক সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবণের অপ্রকাশিত বইয়ের অংশ পাঠ করাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয় তুমুল শোরগোল।

সংসদে বক্তব্য দানকালে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বইয়ের একটি অংশ পড়তে শুরু করতেই তাকে বাধা দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। পরে সেই বিতর্কে সরাসরি যুক্ত হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।

পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে শেষ পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দিতে হয়।সোমবার লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপক বক্তৃতা শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতেই বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, কংগ্রেস দেশপ্রেমিক হতে পারেনি। তার এই বক্তব্যের পরেই বক্তৃতা করতে উঠে দাঁড়ান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

বক্তৃতা শুরু করেই রাহুল সাবেক সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবণের লেখা একটি বইয়ের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানান, ওই বইয়ের একটি অংশ থেকে তিনি সংসদের সামনে পাঠ করবেন। বইটির নাম ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি। এটি নরবণের আত্মজীবনীমূলক লেখা।

Manual2 Ad Code

বইটি ২০২৪ সালে প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রকাশিত হয়নি। তবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে বইটির কয়েকটি অংশ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। রাহুল গান্ধী বইয়ের যে অংশটি পাঠ করতে শুরু করেন সেটি ২০১৭ সালের ডোকলাম সংঘাত সংক্রান্ত।

ওই অংশে দাবি করা হয়েছে, ডোকলামে ভারত ও চীনের সেনা মুখোমুখি অবস্থানে থাকার সময় চিনের সাঁজোয়া যান ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল। এই বক্তব্য পাঠ করা শুরু হতেই সংসদে হইচই শুরু হয়। রাহুলের বক্তব্যের মাঝেই নিজের আসন থেকে উঠে দাঁড়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তিনি বলেন বইটি আদৌ প্রকাশিত হয়েছে কি না সেই প্রশ্ন আগে পরিষ্কার হওয়া দরকার।

তার বক্তব্য অনুযায়ী অপ্রকাশিত কোনও বই সংসদে উদ্ধৃত করা যায় না। রাজনাথ বলেন, বইটি প্রকাশিতই হয়নি তাই সেখান থেকে কিছু উদ্ধৃত করা নিয়মসঙ্গত নয়।এর পরেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

Manual5 Ad Code

তিনি প্রশ্ন তোলেন অপ্রকাশিত বইয়ের অংশ সংসদে পাঠ করা কেন হচ্ছে। শাসক দলের বেঞ্চ থেকে তখন একযোগে আপত্তি উঠতে থাকে। বিরোধী বেঞ্চ থেকেও পাল্টা স্লোগান শোনা যায়। লোকসভা কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ভারতের সেনাপ্রধান ছিলেন মনোজ মুকুন্দ নরবণে। তার লেখা বইটি ৪৪৮ পৃষ্ঠার। ওই বইয়ে সামরিক ও কৌশলগত নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উল্লেখ রয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অংশে জানা যায়।

বিশেষ করে ডোকলাম সংক্রান্ত অংশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আগে থেকেই আলোচনা চলছিল। লোকসভায় এই বিতর্ক চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত থাকলেও তিনি নিজে কোনও মন্তব্য করেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

তিনি রাহুল গান্ধীর উদ্দেশে বলেন, সংসদের নিয়ম অনুযায়ী সংবাদপত্রের প্রতিবেদন বই অথবা এমন কোনও উপাদান যা প্রমাণিত নয় তা পাঠ করা যায় না। স্পিকার রাহুলকে অনুরোধ করেন তিনি যেন বইয়ের ওই অংশ বাদ দিয়ে বক্তৃতা চালিয়ে যান। রাহুল পাল্টা যুক্তি দেন যে বইয়ের আসল অংশই ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং তা সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

তিনি বলেন, যে বিষয়টি দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এবং তা সংসদের আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত। রাহুলের বক্তব্যের পক্ষে দাঁড়ান কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপাল। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অখিলেশ সিংহ যাদবও রাহুলকে বক্তব্য রাখতে দেওয়ার আবেদন জানান।

Manual8 Ad Code

অন্যদিকে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভার নিয়মাবলি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, সংসদের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং তা মেনে চলতেই হবে।

স্পিকার ওম বিড়লা জানান, বইটি প্রকাশিত হলেও রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপক বক্তৃতার আলোচ্যসূচির সঙ্গে এই প্রসঙ্গের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে এই ধরনের বিষয় সংসদে পাঠ করা যাবে না। রাহুল গান্ধী তখন অনুরোধ জানান তিনি সরাসরি উদ্ধৃতি না করে বইয়ের মর্মার্থ পাঠ করার অনুমতি চান। সেই আবেদনও খারিজ করে দেন স্পিকার।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ অভিযোগ করেন রাহুল সংসদকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।

এরপর কিছু সময় স্পিকার ও রাহুলের মধ্যে কথোপকথন চলে। স্পিকার বারবার বলেন রাহুল কেবল রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপক বক্তৃতা দিতে পারবেন। এই সময় শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষের সাংসদদের মধ্যে তীব্র শোরগোল চলতে থাকে।

Manual6 Ad Code

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় স্পিকার পরবর্তী বক্তা হিসেবে অখিলেশ যাদবের নাম ঘোষণা করেন। তবে শোরগোল এতটাই তীব্র ছিল যে শেষ পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন দুপুর তিনটা পর্যন্ত মুলতুবি করে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার মাধ্যমে বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও প্রকাশ্যে এল। সাবেক সেনাপ্রধানের অপ্রকাশিত বই ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক সংসদের পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!