কুড়িগ্রাম সদর এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে  ‘গোপন’ নিলামের অভিযোগ – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুড়িগ্রাম সদর এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে  ‘গোপন’ নিলামের অভিযোগ আত্রাইয়ে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে প্রণোদনার সার ও বীজ বিতরণ কুলাউড়ায় আদিবাসীদের পানজুম ও জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা চেয়ে মানববন্ধন বড়লেখায় অসুস্থ পরিবহন শ্রমিককে নিসচা’র আর্থিক সহায়তা কমলগঞ্জে বিনা চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা নারী চা শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগ :: শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল প্রশাসনিক কাজ করেন ওয়ার্ডবয় ! কুড়িগ্রামে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের দাবি আন্তর্জাতিক রুট চালুর প্রস্তাব খাবারের সন্ধানে ৪০ কেজি ওজনের ১৪ ফুট লম্বা অজগর সাপ লোকালয়ে; লাউয়াছড়া বনে অবমুক্ত নবীগঞ্জে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু কুলাউড়ায় অভিন্ন কায়দায় ছিনতাই : টার্গেট স্কুল শিক্ষিকা ৮লক্ষাধিক টাকার স্বর্নালংকার লুট

কুড়িগ্রাম সদর এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে  ‘গোপন’ নিলামের অভিযোগ

  • বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

Manual5 Ad Code
মোঃ বুলবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :: 
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে সরকারি গাছ বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাইকিং ছাড়াই গোপনে নিলাম আয়োজন, নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি গাছ কাটা এবং পছন্দের ব্যক্তিকে গাছ বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের তীর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলামের দিকে।
স্থানীয়দের দাবি, নিলামের কোনো প্রচার না করে তড়িঘড়ি করে ঈদের ছুটির আগে গোপনে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। যদিও নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে স্থান উল্লেখ ছিল কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিস চত্বর, বাস্তবে নিলাম হয়েছে জেলা শহরের এসিল্যান্ড কার্যালয়ে।
নথিতে ২১, বাস্তবে ২৮ গাছ::
নথিপত্র অনুযায়ী, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি গাছ কাটার জন্য নিলাম সভার আহ্বান করা হয়। সেখানে উল্লেখ ছিল মোট ২১টি গাছ কাটার প্রয়োজন—এর মধ্যে ছিল আম, কাঁঠাল, চাগুয়া, শিশব ও ১৭টি মেহগনি গাছ। পরবর্তীতে ১৫ মার্চ, ঈদের ছুটির দুই দিন আগে, নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনজন দরদাতার অংশগ্রহণে মো. নুর আলম নামের এক ব্যক্তির কাছে ১ লাখ ১২ হাজার টাকায় গাছগুলো বিক্রি করা হয়।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত ২১টির পরিবর্তে কাটা হয়েছে প্রায় ২৮টি গাছ—যার মধ্যে বড় ও মাঝারি আকারের গাছও রয়েছে।
 ‘ত্রুটিপূর্ণ নিলাম’, বলছেন স্থানীয়রা:
কাঁঠালবাড়ি বাজার সমিতির এক নেতা বলেন, “নির্ধারিত স্থানে নিলাম হয়নি। আমরা কেউ জানিই না কখন নিলাম হলো। এটা স্পষ্টভাবে গোপন নিলাম।” স্থানীয় বাসিন্দা সাদেকুল ইসলাম মিলনের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি টাকা লেনদেন হয়েছে। তার দাবি, “সরকারি রেট ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৪১০ টাকা, কিন্তু গাছ বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার টাকায়। এর বাইরে আরও প্রায় আড়াই লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”
ঈদের ছুটিতে গাছ কাটা, উপস্থিত ছিলেন না কর্মকর্তা: সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের ছুটির সময় গাছগুলো কাটা হয়। এ সময় ভূমি অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম।
তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর:
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল হক বলেন, “নিলাম গোপনে হয়েছে, গাছ বেশি কাটা হয়েছে—আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই। এসব গাছের বাজারমূল্য আরও বেশি।”
কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা:
উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুল জালাল বলেন, “লে-আউটের প্রয়োজনে অনুমতি নিয়ে ১-২টি গাছ বেশি কাটা হয়েছে। ভবনের কাজ চলমান, প্রয়োজনে আরও কয়েকটি গাছ কাটতে হতে পারে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলাম বলেন, নিয়ম মাফিক টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। একটি মহল অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।
ঈদের ছুটিতে গাছ কাটার বিষয়ে তিনি বলেন,“বরাদ্দের টাকা ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই দ্রুত কাজ শুরু করা হয়েছে।”
অতিরিক্ত গাছ কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, “২১টি গাছেরই নিলাম হয়েছে। হয়তো ১-২টি ছোট গাছ বেশি কাটা হয়েছে।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। #

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!