বড়লেখা প্রতিনিধি :
বড়লেখা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম অফিসের লাইনম্যান কামরুল ইসলাম কাগজে-কলমে লাইনম্যান হলেও সে যেন অলিখিত জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার! দুই জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার তাকে দিয়ে মাঠের তাবত কাজ করানোর কারণে সাধারণ গ্রাহকরা তাকে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেই চিনে। আর এর নেপথ্যে লাইনম্যান কামরুল ও দুই জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আলাউদ্দিন এবং অমল পালের ঘুষ বাণিজ্য। এছাড়া লাইনম্যান কামরুলের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, গ্রাহক হয়রানি, ভোগান্তি এবং অসদাচরণের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বড়লেখা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম অফিসের লাইনম্যানের দায়িত্বে রয়েছে কামরুল ইসলাম। জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আলাউদ্দিন ও অমল পাল বড়লেখায় যোগদানের পর লাইনম্যান কামরুল ইসলাম তাদের নিয়ে সে গড়ে তুলেছে ঘুষ বাণিজ্যের এক বিশাল সিন্ডিকেট। নতুন সংযোগ, কিলোওয়াট বৃদ্ধি, ট্রান্সফরমার পরিবর্তন ও লাইন নির্মাণের আবেদন তদন্তে মাঠে যান না এই দুই জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার। লাইনম্যান কামরুল ইসলামকেই তারা ভোক্তভোগি গ্রাহকের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সরেজমিনে দেখতে গিয়ে গ্রাহকের সাথে ঘুসের কন্টাক্ট চূড়ান্ত হলেই জুনিয়র ইঞ্জিনিয়াররা অফিসে পজিটিভ প্রতিবেদন জমা দেন। অন্যতায় নানা অজুহাত দেখিয়ে নথিভুক্ত অথবা বাতিল করে দেন গ্রাহকের আবেদন ফাইল। বিদ্যুতের কোনো অভিযোগ নিয়ে গেলে তারা গ্রাহকদের হয়রানি করেন। ঝড়বৃষ্টিসহ নানা দুর্যোগে বিদ্যুৎ লাইন ছিড়ে গেলে, লাইনে গাছ পড়লে ভুক্তভোগীরা দ্রুত সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য লাইনম্যান কামরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি লাইন মেরামতে থাকেন চরম উদাসীন। অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এজিএম রুহুল আমিনের নির্দেশও অমান্য করেন।
উপজেলার তারাদরম গ্রামের গ্রাহক সামছু মিয়া জানান, সোমবার রাতে ঝড়ে তাদের গ্রামের একটি বিদ্যুৎ লাইন ছিড়ে গ্রামের ৫০/৬০ পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকালে পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম অফিসে গ্রাহক সামছু মিয়াসহ কয়েকজন অভিযোগ নিয়ে গেলে এজিএম রুহুল আমিন লাইনম্যান কামরুলকে লাইন পুনঃস্থানের নির্দেশ দেন। বিকেল পর্যন্ত সে ঘটনাস্থলেই যায়নি। গ্রাহকরা ফোন দিলে তাদের সাথে অসদাচরণ করেন। পরে রাত এগারোটার দিকে লাইন মেরামত করে দেয় পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। উপজেলার মুছেগুলের গ্রাহক সাজু আহমদ, আতর আলি, গ্রামতলার মুছন মিয়া, মুর্শিদাবাদকুরার খলকু মিয়া, ডিমাইর সমজিদ আলী, জামকান্দি এলাকার গ্রাহক সালই মিয়া, আব্দুল আজিজ প্রমুখ জানান, লাইনের কোনো অভিযোগ নিয়ে গেলে লাইনম্যান কামরুল ইসলাম তাদের কাজ দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়াতো দূরের কথা, উল্টো নানাভাবে হয়রানি করেন। তার খুটির জোর অফিসের দুই জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ও আরেক কর্মকর্তা বলে তারা জেনেছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে লাইনম্যান কামরুল অভিযোগ সমাধানে নিজে না গিয়ে স্থানীয় ইলেক্ট্রিশিয়ান পাঠিয়ে ফেইজ লাগানো ও সংযোগ স্থাপনের কাজ করিয়ে থাকেন। এতে দুর্ঘটনার আশংকা থাকে। অভিযোগ রয়েছে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল লতিফ কর্মস্থল এলাকায় থাকেন না। তিনি পার্শবর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলা বসবাস করেন। বিদ্যুৎ লাইনের অভিযোগ পেলে স্থানীয় ইলেক্ট্রিশিয়ান পাঠিয়ে কাজ করিয়ে দেন। যা সম্পুর্ণ নিয়ম বর্হিভুত।
এব্যাপারে জানতে লাইনম্যান কামরুল ইসলাম, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আলাউদ্দিন ও অমল পালের সাথে যোগাযোগ করতে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম অফিসে গেলে তাদের না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. খায়রুল বাকী খান বলেন, তারাদরম গ্রামের গ্রাহকদের সমস্যা মঙ্গলবার রাতেই সমাধান করা হয়েছে। লাইনম্যান কামরুল ইসলাম ও জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারদের গ্রাহক হয়রানির বিষয়টি কেউ তাকে জানায়নি। সব বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।