কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:::
মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপনের দাবিতে জাতীয় সংসদে জরুরি নোটিশ উত্থাপন করেছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের বৈঠকের কার্যসূচিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইং-এর আইন শাখা থেকে প্রকাশিত কার্যসূচি অনুযায়ী, জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি-৭১)-এর আওতায় এই নোটিশটি প্রদান করা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, মৌলভীবাজার জেলার পর্যটকদের সুবিধার্থে শমশেরনগরে অবস্থিত বিমান বাহিনীর ঘাঁটির একটি অংশ ব্যবহার করে একটি ছোট বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপন করা যেতে পারে। এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
একই বৈঠকে বিধি-৭১-এর আওতায় প্রাপ্ত অন্যান্য নোটিশ নিষ্পত্তি এবং গৃহীত নোটিশসমূহের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে কাযসূচিতে জানানো হয়েছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো: গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত কার্যসূচিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, শমশেরনগরে বিমানবন্দর স্থাপন করা হলে কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গলসহ আশপাশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাতায়াত সহজ হবে এবং সামগ্রিকভাবে জেলার অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম, নাসির রহমান এমপি পর্যটন জেলা মৌলভীবাজার এবং কমলগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক শমশেরনগর বিমানবন্দর নিয়ে আঞ্চলিক ও জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখায় তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান-এর সুযোগ্য পুত্র এম, নাসির রহমান এমপি বিমানবন্দরের সঠিক তথ্য সংসদে তুলে ধরে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি নতুনভাবে সামনে এনেছেন।
অন্যদিকে কয়েকদিন আগে সংসদ অধিবেশনে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো: মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) শমশেরনগর বিমানবন্দর দ্রুত চালুর বিষয়ে জোরালো বক্তব্য রাখেন। এজন্য তাকেও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কমলগঞ্জবাসী।
স্থানীয়দের আশা, দুই সংসদ সদস্যের এই উদ্যোগের ফলে শমশেরনগর বিমানবন্দর পুনরায় চালু, বেদখল জমি উদ্ধার এবং এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারে বিমানবন্দর না থাকায় পর্যটক ও প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য এম রাসের রহমান কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে অবস্থিত বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন রানওয়েকে সীমিতভাবে বেসামরিক ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানান। তাঁর মতে, শ্রীমঙ্গল, লাউয়াছড়া, মাধবকুন্ড, হাকালুকি, মাধবপুর লেকসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকাগুলোতে যাতায়াত সহজ করতে বিমানবন্দর চালু জরুরি। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে ব্যবহৃত এই বিমানঘাঁটির অবকাঠামো থাকলেও স্বাধীনতার পর তা বেসামরিক ব্যবহারে আনা হয়নি। এতে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা সংসদকে জানান, শমশেরনগর বিমানঘাঁটি বর্তমানে বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে একাধিক সামরিক স্থাপনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান আছে।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরটির বাণিজ্যিক ব্যবহারযোগ্যতা যাচাইয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি চলছে। এই স্টাডি শেষ হলে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশের বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক দিকও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান এবং বর্তমান অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এখানে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল এখনই উপযোগী নয়। তবে পর্যটন উন্নয়নের বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।
এ সময় এম নাসের রহমান মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, পাকিস্তান আমলে একই স্থানে নিয়মিত ফ্লাইট চললেও তখন কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি ছিল না। তিনি দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী জবাবে বলেন, দ্রুততার পাশাপাশি পরিকল্পনা ও বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ হলে দেশের স্বার্থে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।#