ছাতক কৃষকের কান্না : পাহাড়ি ঢল–টানা বৃষ্টিতে ফসল ডুবছে – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রকাশিত সংবাদের নিন্দা ও প্রতিবাদ আত্রাইয়ে রেললাইনের পাশে পড়েছিলো লাশ ওসমানীনগরে সংস্কৃতি কেন্দ্রের উদ্যোগে হিজরি নববর্ষ উদযাপন ও আলোচনা  সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ উন্নয়ন মেগা প্রকল্প: হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি : ধামাচাপা দিতে সক্রিয় সিন্ডিকেট ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধবপুরে পার্টনার কংগ্রেস : পুষ্টি  নিরাপত্তা ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে জোর প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল সফর : স্বাগত জানিয়ে বড়লেখা বিএনপির মিছিল বড়লেখায় মাদক কারবারিসহ গ্রেফতার ৮ ছাত‌কে কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালের ভূমি দখলচেষ্টার অভিযোগে উত্তেজনা তিন মাস পর পুনরায় চালু ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল

ছাতক কৃষকের কান্না : পাহাড়ি ঢল–টানা বৃষ্টিতে ফসল ডুবছে

  • রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

Manual5 Ad Code

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতি‌নি‌ধি ::

সুনামগঞ্জের ছাতক হাওরাঞ্চলে নেমে এসেছে অকাল বন্যার ছোবল। পাহাড়ি ঢল, টানা বর্ষণ আর পানি নিষ্কাশনে চরম অব্যবস্থাপনার কারণে মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে বছরের একমাত্র বোরো ফসল পানির নিচে ডুবে গেছে।শ‌নিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যে গতিতে পানি বেড়েছে, তাতে গোটা হাওরাঞ্চল এখন অসহায় কৃষকের করুণ আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে।

চরমহল্লা ইউনিয়নের বুরাইগিরি, বড়ঘাট্টি, বাগাছারা, গোজাহাটি, বাড়ুকা ও উড়া বিল—সব মিলিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা এখন এক বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বড়ঘাট্টি বিলের মধ্যে খানের বাঁধ ভেঙে পড়ার পর অতি অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় চার শতাধিক একর জমির পাকা ধান তলিয়ে যায়। কৃষকের চোখের সামনে সোনালি শস্যরাশি ডুবে যেতে থাকলো, কিন্তু কিছুই করার ছিল না তাদের। “চোখের সামনে ধান তলিয়ে গেল”র

বুরাইগিরির স্থানীয় কৃষক আব্দুস ছোবহান ভেজা ধানের শীষ হাতে দাঁড়িয়ে কাঁদো-কাঁদো কণ্ঠে বলেন, “সারা বছরের একমাত্র ছিল এই বোরো ধান। চোখের সামনে পানি উঠে সব শেষ হয়ে গেল। এখন ঘরে নেওয়ার মতো একমুঠো চালও থাকবে না।”একই দুর্ভাগ্যের গল্প শোনা যায় শ্রীনগর গ্রামের কৃষক আবুল কালামের কণ্ঠেও।

Manual3 Ad Code

তিনি জানান, “আমার ১৭ বিঘা আর আমাদের গ্রামের প্রায় ২০০ বিঘা ধান পুরোপুরি ডুবে গেছে। এই অবস্থায় কী হবে—বুক একটা ভেঙে যায়।”
কালারুকা ইউনিয়নের ঝাওয়া বিল, উত্তর খুরমা ইউনিয়নের বরবরা, পুরাইডুবি, বন্দেরলামা, পুবের বন, ভাতগাঁওসহ জাউয়াবাজার, ছৈলা-আফজলাবাদ, দক্ষিণ খুরমা, সিংচাপইড়—প্রায় সব হাওরেই একই চিত্র। হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারণে অনেকেই ধান কেটে নেয়ার সুযোগও পাননি।উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর ছাতকে মোট ১৪ হাজার ৯৯৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৮২ হেক্টর হাওর অঞ্চলে এবং ১১ হাজার ৬১৪ হেক্টর নন-হাওর এলাকায়।

কৃষি বিভাগের দাবি—১ মে পর্যন্ত হাওরের ২ হাজার ৫১৩ হেক্টর এবং নন-হাওরের ৩ হাজার ৮৩৩ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক ও সুনামগঞ্জ জজকোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ বলেন— “চরমহল্লাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে। হাজার হাজার হেক্টর পাকা ধান তলিয়ে গেছে। ক্ষতির হিসাব সরকারি কাগজে বাস্তবতার কাছাকাছি নয়। পানি নিষ্কাশনে অব্যবস্থা—বাঁধ দুর্বল, খাল ভরাট স্থানীয়দের অভিযোগ—হাওরে পানি নিষ্কাশনের কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই। কোথাও স্লুইসগেট নেই, কোথাও খাল ভরাট; আর যেসব বাঁধ আছে তাও দুর্বল। ফলে বৃষ্টি থেমে গেলেও পানি নামছে না।

Manual4 Ad Code

বড়ঘাট্টি বিলের খানের বাঁধ ভেঙে পড়া যেন পুরো হাওরাঞ্চলের দুর্ভাগ্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কৃষকদের ভাষায়—একদিকে পাহাড়ি ঢল, অন্যদিকে ভাঙা বাঁধ। দু’দিক দিয়েই ধান শেষ।”

এদিকে ধান কাটার উপযুক্ত সময় হলেও মাঠে দেখা গেছে ব্যাপক শ্রমিক সংকট। বাইরের শ্রমিক দল এ বছর কম আসায় স্থানীয় কৃষকরা নিজেরাই ধান তুলতে নেমেছেন। কিন্তু পানির তোড়ে ও গভীরতায় শস্য কাটতে না পেরে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে আসছেন। যে অল্পসংখ্যক শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে তাদের মজুরি দিনকে দিন আকাশছোঁয়া। ফলে কৃষকেরা ধান পাকার আগেই পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে—এ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকারও শক্তি পাচ্ছেন না।

স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি তুলেছেন। যুবদল নেতা মহিবুর রহমান মহিব বলেন—“যে কৃষক সারা বছর আমাদের খাবার যোগায়, আজ সে খাদ্যের চিন্তায় পড়ে গেছে। দ্রুত প্রণোদনা, খাদ্য সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ ছাড়া তাদের বাঁচানো যাবে না।”

এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান বলেন—এখন পর্যন্ত প্রায় হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে গেছে। পানি আরও বাড়তে পারে। কৃষকদের মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছি—ধান ৮০ শতাংশ পাকা হলেই দ্রুত কাটতে হবে। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের শঙ্কা—ঢল আরও বাড়তে পারে আবহাওয়া অফিস বলছে—আগামী কয়েকদিন পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকতে পারে। এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষক ও স্থানীয় প্রশাসন।

Manual8 Ad Code

“এই পানি কবে নামবে?”যতক্ষণ পানি নামছে না, ততক্ষণ তাদের বুকের ভেতর চিন্তা, ভয় আর অনিশ্চয়তা বাড়ছেই। সারা বছরের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম এক নিমিষে ভেসে যাওয়ার এই দৃশ্য কোনো কৃষকের পক্ষে সহ্য করা কঠিন।

কৃষকের চোখে নোনাজল—বাঁচার আশা শুধু প্রকৃতির ওপর দিন শেষে ছাতকের হাওরজুড়ে দেখা যায় নিস্তব্ধতা। ধানের শীষ ভেসে বেড়াচ্ছে, কৃষকেরা দাঁড়িয়ে আছেন বুক ভাঙা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে।

প্রকৃতির সামনে মানুষ যে কত অসহায়—তার এক নির্মম চিত্র যেন আজ ছাতকের হাওরে ভেসে উঠেছে।একজন কৃষক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন—“ঈদের পরে একটু স্বস্তি পাবো ভেবেছিলাম। ধান তুলে ঘরে তুলবো—এই স্বপ্নটাই আর রইল না। এখন শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা।#!#

Manual4 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!