বড়লেখা প্রতিনিধি:
বড়লেখা উপজেলার দাসেরবাজারে ডাকাতি করতে গিয়ে গৃহকর্তা গিয়াস উদ্দিনকে লক্ষ্য করে ছুঁড়া গুলিতে নিজ দলের ডাকাত সদস্য হত্যা ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামি অপর ডাকাত সদস্য আব্দুল করিম ওরফে রেজাউল করিমকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে বড়লেখা পুলিশ ।
শনিবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দেবল চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে একদল চৌকস পুলিশ সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে। রোববার বিকেলে গ্রেফতার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। আব্দুল করিম ওরফে রেজাউল করিম (৩৬) সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সেনাপতির চক গ্রামের মো. আব্দুল খালিকের ছেলে।
জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার দক্ষিন লঘাটি গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছের বাড়ীতে ২৮ এপ্রিল রাত প্রায় তিনটার দিকে অজ্ঞাতনামা ডাকাতরা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তখন ওই বাড়িতে স্ত্রী, সন্তান ও ভাগ্না নিয়ে বসবাস করছিলেন আব্দুল কুদ্দুছের নিকট আত্মীয় কাঞ্চনপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন (৬০)। বসতঘরের পশ্চিম কর্ণারে রান্না ঘরের কাঠের দরজা ভাঙ্গার শব্দে গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রীর ঘুম ভাঙ্গে। রান্না ঘরের কাছে গিয়ে দেখতে পান ৬/৭ জন অজ্ঞাতনামা ডাকাত দল দরজা ভেঙ্গে কেছীগেইট ভাঙ্গার চেষ্টা করছে। তখন গিয়াস উদ্দিনসহ সবাই বিপরীতদিক থেকে কেছীগেইটে চাপ দিয়ে রাখেন যাতে ডাকাতরা তালা ভাঙ্গতে না পারে। গেইট আটকে রাখার চেষ্টাকালে অজ্ঞাতনামা এক ডাকাত আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গৃহকর্তা গিয়াস উদ্দিনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। ভাগ্যক্রমে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে তিনি বেঁচে যান। ওই গুলিতে ডাকাতদলের অপর সদস্য সাইফুল ইসলামের মাথায় বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। পরে অন্যান্য ডাকাতরা তার মৃতদেহ রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গৃহকর্তা গিয়াস উদ্দিন ২৮ এপ্রিল থানায় মামলা করেন।
বড়লেখা থানার ওসি মো. মানিরুজ্জামান খান জানান, পুলিশ মামলার ঘটনাটি বিশেষ ভাবে তদন্ত করতে থাকে। তদন্তে ধৃত আসামি ডাকাতির চেষ্টা ও হত্যা ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে শনিবার বিকেলে সিলেটের কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার আদালতে সোপর্দ করলে সে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে সিলেটের বিয়ানীবাজার, কোতয়ালী, দক্ষিন সুরমা, জকিগঞ্জ, হবিগঞ্জ সদর থানায় ৪টি ডাকাতি মামলাসহ মোট ৭টি মামলা রয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।