মে ৮, ২০১৫
Home » নির্বাচিত » ৯ মে বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস- হাকালুকি হাওর দেশের অন্যতম পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল

৯ মে বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস- হাকালুকি হাওর দেশের অন্যতম পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল

এইবেলা বিশেষ প্রতিবেদন, ০৮ মে:
এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি দেশের অন্যতম পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল। প্রতিবছর এখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরিযায়ী পাখির সমাবেশ ঘটে। তাছাড়া এখানে দেখা মেলে বিরল ও বিলুপ্ত প্রজাতির পাখির।
baers_pochard-_3
হাওর তীরের জেলাশহর মৌলভীবাজারে পালিত হচ্ছে “বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস”। উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় দিবসটি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে মৌলভীবাজারের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে দিবসটি পালনে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
দেশে যেসব স্থানে অতিথি পাখি বা পরিযায়ী পাখির সমাগম ঘটে তার মধ্যে হাকালুকি হাওর অন্যতম। পরিবেশ অধিদফতর অধীনে এই হাওরে ২০০৪ সাল থেকে পাখি শুমারি শুরু হয়। শুধুমাত্র ২০১২ সাল ব্যতীত প্রতি বছরই পাখি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। দেশের খ্যাতিমান পাখি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশের বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সদস্য ও দেশী বিদেশী পাখি বিশেষজ্ঞরা মুলত এই পাখি শুমারিতে অংশ নিয়ে থাকেন। যদিও হাওর এলাকায় ১১২ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি এবং ৩০৫ প্রজাতির পাখি বিচরণ করে। কিন্তু প্রতিবছর শুমারি শেষে পাখি বিশেষজ্ঞদের দেয়া তথ্যমতে প্রায় প্রতিবছরই হাকালুকি হাওরে ৬০ থেকে ৬৫ প্রজাতির পাখির সন্ধান পেয়ে থাকেন। সংখ্যায়ও সেগুলো ২০ থেকে ৩০ সহ¯্রাধিক। তাছাড়া বিলুপ্ত ও বিরল প্রজাতির পাখির দেখা মেলে এই হাওরে।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের তথ্যমতে, ২০০৯ সালের মার্চ মাসে প্রথম দফায় ১৬টি পাখির গায়ে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার এবং ৩৪ টি পাখির পায়ে রিং লাগানো হয়। চলতি বছর দ্বিতীয় দফায় গত ১৮ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি হাকালুকি হাওরে অতিথি পাখির পায়ে রিং লাগানো হয়। এই রিং লাগানো কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সদস্যরা অতিবিরল প্রজাতির কিছু পাখির সন্ধান পেয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছে পাতারি ফুটকি, তিলা ঝাড়ফুটকি, পালাসি ফড়িংফুটকি, বৈকাল ঝাড়ফুটকি এবং লালাচাঁদি ফুটকি।
তাছাড়া পাখি শুমারিতে যেসব বিলুপ্ত প্রায় পাখির সন্ধান মিলেছে সেগুলো হলো বেয়ারর্স পোচার্ড (বেয়ারের ভূতিহাঁস), ব্ল্যাক হেডেড আইবিশ (কালো মাথা কাস্তেচড়া) গ্লোসি আইবিশ (খয়ারে মাথা কাস্তেচড়া), লেজার হোয়াইট ফ্রন্টেড গুজ (ধলাকপাল রাজহাঁস) উল্লেখযোগ্য।
সরকার ২০১০ সালে প্রথম দফায় ৫টি এবং ২০১১ সালে দ্বিতীয় দফায় ১২টি বিলকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে। এরফলে হাকালুকি হাওরে আগামীতে আরও বেশি পরিযায়ী পাখির সমাগম ঘটবে বলে হাওরে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাগুলো দাবি করে। আগে অবাধে হাকালুকি হাওরে বিষটোপে পাখি শিকার করলেও এখন আর আগের মতো শিকার হয় না। মানুষের মধ্যে একটা গণসচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবেশ অধিদফতরের সিবিএ ইসিএ প্রকল্পের ন্যাচারেল রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট অফিসার বশির আহমদ জানান, হাওরে ১৫টি অভয়াশ্রম ঘোষণা করায় পরিযায়ী পাখিদের অবাদ বিচরণের ক্ষেত্র তৈরি হলো। এতে আগামীতে হাওরে আসা পরিযায়ী পাখির সংখ্যা বাড়বে। হাওরে আসা এসব পাখির বিষ্টায় মাছের খাবার হবে। ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে হাওর তীরের মানুষের জীবিকায়নের পাশাপাশি আমিষেরও চাহিদা পূরণ হবে।#
সম্পাদনা-আজিজুল ইসলাম