- জাতীয়, নির্বাচিত, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্লাইডার

মৌলভীবাজার চক্ষু হাসপাতালের ভূমি বেদখল

এইবেলা, মৌলভীবাজার, ২৬ মে:: মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের ছয় কোটি টাকা মূল্যের এক খণ্ড জমি একটি ভূমিখেকো মহল জোরপূর্বক দখল করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভূমি রক্ষার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ  বারবার প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও কোনো সাড়া পাচ্ছে না।

এদিকে ‘চক্ষু হাসপাতাল ভূমি রক্ষা কমিটি’ জমি উদ্ধারের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। ভূমিখেকোদের কবল থেকে হাসপাতালের ভূমি উদ্ধারের লক্ষ্যে ২৬ মে বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় চৌমোহনায় সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করবে চক্ষু হাসপাতাল ভূমি দখল প্রতিরোধ কমিটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মৌলভীবাজার শহরতলীর মাতারকাপন মৌজার এস এ ৮৪১ নম্বর দাগের জমিতে ১৯৮২ সালে মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল গড়ে উঠে। তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের কাছ থেকে ১৯৮২ সালের ১০ অক্টোবর রেজিস্টার দলিলে সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানের এক একর জমির বন্দোবস্ত নিয়ে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

হাসপাতালটি বৃহত্তর সিলেটের একমাত্র চক্ষু চিকিৎসার প্রতিষ্ঠান হওয়ায় দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। হাসপাতাল সম্প্রসারণের জন্য আরো জমির প্রয়োজন হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক একই দাগের পশ্চিম দিকের আরো দুই  একর ২৮ শতক জমি হাসপাতালের নামে বন্দোবস্ত দেন। এতে  হাসপাতালের মোট জমির পরিমাণ দাঁড়ায় তিন একর ২৮ শতক।

চক্ষু হাসপাতালের তিন একর ২৮ শতক জমি থেকে একটি ভূমিখেকো মহল জোরপূর্বক ৬০ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে নিচ্ছে।  দখলকারীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গত ২৪ মে সকাল থেকে পাকা দেয়াল নির্মাণ করে ৬০ শতক জমি চক্ষু হাসপাতালের জমি থেকে আলাদা করে নেয়। তারা রাতের বেলা লাইট জ্বালিয়ে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে তাদের দখল স্থায়ী করার চেষ্টা চালায়। বাজার মূল্য অনুযায়ী ভূমিখেকোদের দখলে নেওয়া জমির দাম ছয় কোটি টাকা।

মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের পক্ষ থেকে দখলবাজির বিষয়টি গতকাল ২৪ মে সকাল ১১টার মধ্যেই মৌলভীবাজার মডেল থানা কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়। কিন্তু কোনো ভূমিকা নেয়নি পুলিশ। মৌলভীবাজার মডেল থানা ওসি অকিল উদ্দিন আহমদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তাঁকে জানিয়েই দখলকারীরা দখলে গেছেন। এই জমি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। পুলিশ ওখানে গেলে আদালত অবমাননা হবে। তাই প্রতিষ্ঠানের জমি বেদখল হয়ে গেলেও পুলিশের কিছুই করার নাই।

মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক এ এম ইয়াহিয়া মুজাহিদ বলেন, “সরকার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের তিন একর ২৮ শতক জমি চক্ষু হাসপাতালকে দুইবারে বন্দোবস্ত দিয়েছে। প্রথমে প্রাপ্ত এক একর জমির নামজারি খতিয়ান ৭৮৮ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে বন্দোবস্ত পাওয়া দুই একর ২৮ শতক জমির নামজারি খতিয়ান ৯৫৬। দুটি খতিয়ানেরই হালসন পর্যন্ত  খাজনা আদায় করা হয়েছে। এই জমি ইতিপূর্বেও দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। তখন পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করেছে। কিন্তু এবার রহস্যজনক কারণে পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না।”

চক্ষু হাসপাতারের ব্যবস্থাপক এম এ মান্নান জানান, সিলেট বিভাগের মধ্যে চক্ষু চিকিৎসার সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল। এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৪০০ রোগী চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। গড়ে প্রতিদিন চক্ষু অপারেশন হয় ২০টি। হাসপাতালে যেসব চিকিৎসা হয় সেগুলো হলো ফ্যাকো সার্জারি, নালি  ও ছানি অপারেশন, গ্লোকমার চিকিৎসা, টেরিজিয়াম, লেজার। বাচ্চাদের চোখের অপারেশন। এই অপারেশন সিলেটের ওসমানী  মেডিক্যাল কলেজেও হয় না। সব চিকিৎসাই স্বল্প খরচে হয়। এই চক্ষু হাসপাতালে আসা কোনা রোগী টাকা দিতে না পারলেও তার চোখের অপারেশনসহ যাবতীয় চিকিৎসা করে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

ভূমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ মশাহিদ আহমদ বলেন, “আমরা আইন হাতে তুলে নেব না। তবে একের পর এক অন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে পুরো জেলাকে অচল করে দেব।” যুগ্ম আহ্বায়ক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জামাল উদ্দিন বলেন, ”সর্বস্তরের নাগরিক প্রতিনিধিদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হচ্ছে। আন্দোলনের তীব্রতায় চক্ষু হাসপাতালের জমি ভূমিখেকো মহলের কাছ থেকে উদ্ধার করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বাধ্য হবে।”

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *