- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

কুলাউড়া পৌরসভায় একটুখানি বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় সবই …

এইবেলা, কুলাউড়া, ০৯ জুন :: কুলাউড়া পৌরসভায় একটুখানি বৃষ্টি হলেই যেন তলিয়ে যায় সবই। রাস্তাঘাট, দোকানপাট আর স্কুল, কলেজ। মহা দুর্ভোগ নিয়ে আসে বৃষ্টি। মুলত পুরো ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় কুলাউড়া শহরে বৃষ্টি নামে আতঙ্ক নিয়ে।

3

১৯৯৬ সালে এ পৌরসভা গঠিত হয়। বর্তমানে বি-গ্রেডে উন্নীত হওয়া এ পৌর শহরে রয়েছে নানা সমস্যা। ড্রেন দখল, ভরাট আর যেখানে-সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখার কারণে বৃষ্টির পানি নামতে অনেক দেরী হয়। আবার অনেক ব্যবসায়ীরা ড্রেনকে ড্রাষ্টবিন বানিয়ে ফেলার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয় বলে জানান পৌরবাসী।

4
অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় কুলাউড়া পৌরশহরের রাস্তাঘাট। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে পানি। এতে পৌরবাসীকে পোহাতে হয় চরম দূর্ভোগ। যানবাহন কিংবা পথচারি সবাইকেই নোংরা পানি মাড়িয়ে যেতে হয় গন্তব্যস্থলে। এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য চরম উদাসীন পৌরকর্তৃপক্ষ। সঠিক পরিকল্পনায় জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা নেয়া হলে এমন দুর্ভোগে পড়তে হত না পৌরবাসীকে।

5

অল্প সময়ের বৃষ্টির পর শহরের উপজেলা পরিষদের সামনে, রাবেয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে, ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ড মাগুরা এলাকা, দক্ষিণবাজার এলাকা, মহিলা কলেজ রোড, বন্যা শিবির রোড, জয়পাশা এলাকা, চাতলগাঁও রোড, স্টেশন রোডসহ প্রায় শহরের সবকটি রাস্তায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বৃষ্টি শুরুর সময় থেকে থামার প্রায় ঘন্টা-দু’য়েক পর পর্যন্ত ওইসব রাস্তায় জলাবদ্ধতা থাকে।
পৌরশহরের উত্তরবাজার এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি মজমিল আলী আক্ষেপ বলেন, বৃষ্টি দেয়ার পর এ রাস্তা দিয়ে হেটে মসজিদে যাওয়ার পর মনে সন্দেহ থাকে শরীর পবিত্র আছে তো? প্রতিনিয়ত ড্রেনের ময়লা বৃষ্টির পানির সাথে মিশে ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র।
রাবেয়া আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভের সাথে বলে, একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের বিদ্যালয়ের মাঠকে মনে হয় বড় কোন পুকুর। আমাদের স্কুলের সামনে অনেক পানি জমে যায়। তাই  আমরা স্কুলে একা আসতে ভয় হয়।
দক্ষিণ মাগুরা এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ, বিশ্বজিৎ দাস, অধ্যক্ষ ফজলুল হক, ব্যাংকার শ্যামল চক্রবর্তী, হাবিবুর রহমান, প্রদীপ দত্ত, ব্যবসায়ী অমল কুন্ডু, জিমি কু-ু, রহিম মিয়া, প্রফুল্ল চন্দ্র দেবনাথ অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ৪-৫ মাস আগে পৌরসভার একটি ড্রেন দক্ষিণ মাগুরা এলাকা হয়ে গুগালিছড়ার সাথে মিলিত হয়। কিন্তু প্রবাসী আব্দুল মুহিত তার জায়গার পাশ দিয়ে ড্রেনটি যাওয়ায় মাটি ভরাট করে হঠাৎ করে বন্ধ করে দেন। ফলে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে বাসা-বাড়ী তলিয়ে যায়। ড্রেন বন্ধ  করার পরপরই পৌর কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়। কিন্তু বিষয়টির আজও কোন সুরাহা হয়নি। সর্বশেষ গত কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টিতে বাসা-বাড়ী তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় ওই এলাকার অর্ধশতাধিক পরিবারকে।
কুলাউড়া পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছ জানান, নতুন পরিষদ নিয়ে পর্যায়ক্রমে পৌর শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সকল সমস্যার সমাধান করে একটি মডেল পৌরসভায় উন্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চলতি বর্ষা মৌসুমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি হবে কি-না? এর কোন সঠিক উত্তর দেননি।#

রিপোর্ট- আব্দুল আহাদ

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *