জুলাই ১৩, ২০১৬
Home » জাতীয় » সিলেটে হত্যা মামলার আসামির ফাঁসি কার্যকর

সিলেটে হত্যা মামলার আসামির ফাঁসি কার্যকর

এইবেলা, সিলেট, ১৩ জুলাই:: দীর্ঘ ৫ বছর পর আবারো সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি কার্যকর হলো। মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিটে কাশিমপুর কারাগার থেকে আসা জল্লাদ রাজু হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দারাগাওয়ের সমাধনী রবিদাসের ছেলে মাকু রবি দাসের (৪৭) ফাঁসি কার্যকর করেন।
এ সময় ডিআইজি (প্রিজন) তৌহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ আমিনুর রহমান, পুলিশ কমিশনারের পক্ষে উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) বাসুদেব বনিক, সিলেটের পুলিশ সুপারের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা, সিনিয়র জেল সুপার সগির মিয়া, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটের সিনিয়র জেল সুপার সগির মিয়া জানান, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ায় কারাবিধি অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। গত ১২ মে কারা অধিদফতরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফাঁসি কার্যকরের আদেশ দিলেও পবিত্র রমজান মাস থাকায় তা কার্যকর করা যায়নি। ফাঁসি কার্যকরের জন্য কাশিমপুর কারাগার থেকে জল্লাদ রাজুকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের ৩১ অক্টোবর রাতে মাত্র ২ হাজার টাকা চুক্তিতে মাকু রবি দাস তার প্রতিবেশী নাইনকা রবিদাসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় (দায়রা ৫৭/২০০২) ২০০৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত মাকু রবিদাসকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। পরবর্তীতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মাকু রবিদাস আপিল (জেল পিটিশন নং-০৩/২০০৭) করলেও তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানালে তাও নামঞ্জুর হয়।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সগির মিয়া আরো জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাকু রবিদাসের ৫ স্বজন শেষবারের মতো তার সঙ্গে দেখা করেন। সর্বশেষ ২০১১ সালে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত রবি মুণ্ডার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে লাশ নিতে অ্যাম্বুলেন্স কারাগারে প্রবেশ করে। পৌনে ১টার দিকে লাশ নিয়ে চুনারুঘাটের উদ্দ্যেশে রওয়ানা হয় অ্যাম্বুলেন্সটি।