- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

কুলাউড়ায় ৩ মাসেও ধরা পড়েনি পানচাষী রিমনের ঘাতকরা

এইবেলা, কুলাউড়া, ০৭ মে :: কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে পানচাষী রিমন মিয়া হত্যার সাথে জড়িত ঘাতকরা ৩ মাসেও ধরা পড়েনি। পুলিশ বলছে ঘটনার সাথে জড়িতরা খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোক হওয়ায় তাদের বসবাস দূর্ঘম পাহাড়ে। পুলিশ অভিযান চালালে আগেই তারা খবর পেয়ে যায়। তাই অভিযান চালিয়ে রিমন হত্যার আসামী ধরা দুষ্কর। তারপরও তারা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এদিকে রিমন হত্যায় পুলিশের হাতে আটক হওয়ার ভয়ে এবং বস্তিবাসীর হামলার আশঙ্কায় ৭ পুঞ্জির বাসিন্দার রয়েছে উদ্বেগ উৎকন্ঠায়। অনেকটা অবরুদ্ধ জীবন যাপন করছে পাহাড়েই।
মেঘাটিলা পানপুঞ্জির বাসিন্দা মনিকা খোংলা, সুইটি ও দেলিনা জানান, কুলাউড়া সদর ও কর্মধা ইউনিয়নের ৭টি পানপুঞ্জির দু’শতাধিক পরিবার অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে পাহাড়ী এলাকায়। শিশুরা স্কুলে ও অসুস্থ রোগি নিয়েও হাসপাতালে যেতে পারছে না। পানচাষী রিমন হত্যাকান্ড নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে খাসিয়া ও বস্তিবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তারা আরও জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি পানচাষী রিমন মিয়ার মৃত্যু হয়। এই হত্যার ঘটনা দায় বস্তিবাসী খাসিয়াদের উপর চাপিয়ে দিয়ে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। খাসিয়াদের আসামী করে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর থেকে বস্তিবাসী খাসিয়াদের উপর ক্ষিপ্ত হয়। খাসিয়াদের বস্তি এলাকায় নামতে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। ফলে মেঘাটিলা, লন্ডন, নতুন রাঙি, ভালাইরমা, আমুলী, পুরান চৈলতা ও নতুন চৈলতা এই ৭টি পানপুঞ্জির ২ শতাধিক পরিবার পুঞ্জিবাসী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। গত ২ মাস যাবত নারী পূরুষ নিজেদের বিশেষ প্রয়োজনে বস্তি এলাকায় তথা কুলাউড়া শহরে যেতে পারছেনা। শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। এমনকি রোগি নিয়ে হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে পারছে। এনিয়ে উভয়পক্ষে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত ৮ এপ্রিল প্রেসমিন ওয়ার (৫৪) নামক এক খাসিয়াকে আটক করে বস্তিবাসী পানচাষী রিমন হত্যাকান্ডে সাথে জড়িত বলে পুলিশে সোপর্দ করে। বর্তমানে প্রেসমিন জামিনে রয়েছেন।
রাঙ্গিছড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানচাষী রিমনকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খাসিয়ারা পিটিয়ে হত্যা করে। এঘটনায় ৩ মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ কোন আসামী গ্রেফতার করতে না পারায় বস্তিবাসীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিলো।
কুবরাজ আন্ত;পুঞ্জির সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং জানান, খাসিয়ারা বস্তি এলাকায় নামলে বস্তিবাসী তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। সেই সাথে মারপিটও করে। একটা আতঙ্কের মধ্যে খাসিয়ারা বসবাস করছে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কায় নিরীহ খাসিয়ারা বস্তি এলাকায় নামতে পারছে না।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সামসুদ্দোহা পিপিএম জানান, দুর্ঘম পাহাড়ী জনপদে গিয়ে মামলার আসামী ধরা খুবই দুরহ কাজ। পানপুঞ্জিতে যাওয়ার রাস্তা একটি। পানপুঞ্জিতে যাওয়ার আগে শুধু আসামী নয় পূরুষ শূণ্য হয়ে পড়ে। খবর আগেই চলে যায় তাদের কাছে। তারপরও আসামী ধরতে পুলিশী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউছুফ জানান, পুলিশের চেষ্টার কোন কমতি নেই। আসামী আটকে হাল ছাড়েনি পুলিশ। একটু সময় লাগছে হয়তো।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *