মে ১৯, ২০১৭
Home » আন্তর্জাতিক » সাফ‌ল্যের সংজ্ঞা আর সততা-‌নৈ‌তিকতা

সাফ‌ল্যের সংজ্ঞা আর সততা-‌নৈ‌তিকতা

মুনজের আহমদ চৌধুরী. লন্ডন ১৯ মে :: অ‌ভিভাবকের কা‌ছে সাফ‌ল্যের সংজ্ঞা না পাল্টা‌লে,‌ প্রজ‌ন্মের কা‌ছে সততা-‌নৈ‌তিকতার আশা অবান্তর।

‌যেখা‌নে আমরা ফাসঁ হওয়া প্রশ্নপত্র কি‌নি বা কেনার অর্থ জোগাই- সন্তা‌নের সাফল্যের আশায় সে সমা‌জে সাফ‌ল্যের স্বার্থান্ধ সংজ্ঞায়‌ন থে‌কে কি ক‌রে মুক্ত হ‌বে সন্তান ? মান‌সিকতা না পাল্টা‌লে শিক্ষার ম‌তো পন্য হয়‌তো চাতুর্য বাড়া‌বে,কিন্তু অন্ধকার তাড়া‌তে পার‌বে না।

অভিভাবকরা শর্টকাটে সন্তানের প্রবঞ্চনার ভবিষ্যত গড়তে প্রশ্নপত্র কিনি বলেই প্রশ্নপত্র ফাসঁ হয়। চাহিদা থাকলে যোগান আসবেই,এ তত্ব মুক্তবাজার অর্থনীতির।

আমরা জিপিএ ফাইভ প্রজন্ম চাই বলে সরকার যোগান দেয় সব বিষয়ে এ প্লাস সান্তনা আর প্রতারনার শিক্ষাব্যাবস্থার। যে দেশে প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন বিকায় লাখ লাখ টাকায়,সে দেশে সমাজ পাল্টাবে;এমন আশা করাই তো বিবেকের সা‌থে প্রতারনা।

শিশুর শিক্ষাজীবনের শুরুর দিনগুলিতেই ভয়াল চৌর্যবৃত্তির সাথে তাদের সম্পৃক্ত করে দিই আমরা। অথচ সেই শিশুটির অভিভাবকরাই সমাজ আর সন্তানকেও তালিম দেন নৈতিকতার।এ প্লাস প্রজন্মের বাস্তবতা এখনকার তারুন্য  ও সময়ে।

আমার একমাত্র বোন এবার ঢাবি ও জাবি দুটিতেই ভর্তির সুযোগ পায়। কিন্তু,এবারের ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির খবর গনমাধ্যমে প্রকাশিত হবার পর সে খবরের লিঙ্কটি আমায় পাঠায়। আমি উত্তর দিতে পারিনি। এই উত্তর দিতে না পারবার অক্ষমতা তৈরী করে দেয় রাষ্ট্র। পরে সে জাহাঙ্গীরনগরেই ভর্তি হয়। সেখানেও ভর্তিতে বিলম্ব সংক্রান্ত জটিলতার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানতে পেরেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একসময়ের সাড়া জাগানো ছাত্রনেতা শ্রদ্ধাভাজন পারভেজ মল্লিক,যিনি আপন ভাগ্নের মতোনই স্নেহ করেন আমায়; তিনি জটিলতার সুরাহা করেন লন্ডন থেকে একটি ফোনকলেই। ব্যাক্তিগত স্মৃতিতর্পনের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী শ্রদ্বেয় পাঠক।

দেশে তিন রকমের শিক্ষাব্যবস্থা বিদ্যমান একই সমান্তরালে । বিশ্বজুড়ে খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্টিত হয়েছিল বিশ্ব পরিমন্ডলের উৎকর্ষ আর বিকাশের ধারা নিজ ভাষায় চর্চার প্রয়াসে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকে এ অবধি বাংলা ভাষায় প্রকাশনার সংস্থা মাত্র সত্তরটির মতো।

এরশাদের শাষন আমলেও দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু ছিল। কলেজগুলোতেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতো। অথচ আমাদের গনতন্ত্র- ছন্মাবরনের সরকারগুলোর আমলে দেশে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয় না। এভাবেই ন্যায্য দাবী বা অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেকে দূরে সরিয়ে রাজনীতি বিমুখ আত্বকেন্দ্রীক  আর বৈপরীত্যময়তার দ্বন্দের পথে আমাদের শাষকরা ঠেলে দিচ্ছে প্রজন্মকে। এসব কারনেই দেশে নাগরিক সংকটে আজ আর আন্দোলন গড়ে উঠে না। #

লেখকঃ- প্রবাসী সংবাদ বিশ্লেষক, বার্তা সম্পাদক চ্যানেল আই ইউরোপ