- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

কুলাউড়ায় মুন নদীর উপর রেলওয়ে ও সড়ক জনপথের দুটি সেতু মারাত্মক ঝুঁকিতে

এইবেলা, কুলাউড়া, ১৫ সেপ্টেম্বর ::

কুলাউড়া উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহমান মনু নদীর উপর স্থাপিত রেলওয়ে ও সড়ক জনপথ বিভাগের দুটি সেতু মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব সেতুর কাছাকাছি এলাকা থেকে ইজারাদার বালু উত্তোলন করায় সেতুগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এছাড়াও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় শরীফপুর ইউনিয়নের চতলাপুর চেকপোষ্ট এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের মনু নদীর উপর সেতুটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজীপুরে মনু রেলস্টেশনের কাছে মনু নদীর উপর একটি রেল সেতু এবং কটারকোনা বাজারের কাছে একই নদীর উপর একটি সড়ক জনপথ বিভাগের সেতু রয়েছে। মনু রেল সেতুটি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যে পড়েছে। মনু নদীর বালুমহাল প্রতি বছর মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা দেয়া হয়। স্থানীয় ইজারাদাররা ৮০ লাখ টাকায় মহালটি ইজারা নিয়েছেন। দীর্ঘ দিন ধরে ইজারাদাররা দুটি সেতুর ৩০০-৪০০ মিটার দূরত্ব থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। এর ফলে নদীর গভীরতা বেড়ে দুটি সেতুর দুই পাড়ের মাটি ধসে পড়ছে।

এই দুটি সেতু ছাড়াও মনু নদীর শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর চেকপোষ্ট এলাকায় মুন সেতুটির উপর ও নীচ অংশ থেকে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করার ফলে সেতুটি হুমকির মুখে পড়ে। ইতোমধ্যে সেতুটি রক্ষায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ বালুর বস্তা ফেলে সেতুটি রক্ষার চেষ্টা চালায়। এই সেতু দিয়ে ভারতের সাথে আমদানি রফতানীকারি যানবাহন চলাচল করে।

এরই প্রেক্ষিতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ইউএনও চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বী ও কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শামীম মুসা সরেজমিনে দুটি সেতু এলাকা পরিদর্শণ করেন।

ঝুঁকিপুর্ণ সেতু প্রসঙ্গে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বী জানান, মনু রেল ও কটারকোনা সড়ক সেতুর খুব কাছ থেকে বালু তোলায় এসব স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দুটি সেতুর মধ্যবর্তী স্থান ও দুই পাশের এক কিলোমিটার এলাকা থেকে বালু তুলতে ইজারাদারকে নিষেধ করা হয়েছে। এ ছাড়া সেতু দুটি রক্ষায় মনু নদীর সেতু এলাকা বালুমহাল থেকে বাদ দিয়ে ইজারা দেয়ার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানানো হবে।

মনু নদীর বালুমহালটির ইজারাদারদের অংশীদার খালেদ আহমদ জানান, মনু রেল ও কটারকোনা সড়ক সেতুর মধ্যবর্তী স্থানটি ইজারায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জেনেছেন। প্রশাসনের সাথে বিষয়টি নিষ্পত্তির পর বালু উত্তোলন করা হবে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *