জুন ২৪, ২০১৫
Home » ব্রেকিং নিউজ » রাজনগরের আমিরপুরে দফায় দফায় সংঘর্ষ উত্তেজনা ভাংচুর লুটপাটের অভিযোগ

রাজনগরের আমিরপুরে দফায় দফায় সংঘর্ষ উত্তেজনা ভাংচুর লুটপাটের অভিযোগ

এইবেলা, রাজনগর ২৪ জুন :-
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার আমিরপুরে ৩ দিন দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় ঘটে। এনিয়ে গতকাল বুধবার সকাল থেকে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এব্যাপারে উভয় পক্ষ থানায় পৃথক মামলা করেছে। পুলিশ ৩জনকে আটকও করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামের এরাব মিয়া ও খালদার এলাকার গিয়াস মিয়ার মধ্যে মাছের ঘাটে বসা নিয়ে বাকতিন্ডার জেরে সংঘর্ষ হয় গত রোববার (২১ জুন)। উভয়ের আত্মীয়-স্বজন পক্ষ নিলে গত সোমবার বিকালে এরাব মিয়া ও গিয়ার মিয়ার লোকজনের মধ্যে আবারো সংঘর্ষ হয়। এসময় এরাব মিয়ার পক্ষের দুটি ঘর ভাংচুর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন উভয় পক্ষকে নিবৃত করেন। মঙ্গলবার সকাল ১১ এরাব মিয়ার পক্ষের লোকজন গিয়ার মিয়ার পক্ষের শামছুল হকের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় শামছুল হকের লোকজনের পাকা-কাচা ঘর ভাংচুর ও লুটতরাজ চালানো হয়। খবর পেয়ে রাজনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরাব মিয়ার লোকজনের ঘর-বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
Assolt-Amirpur1
এদিকে গতকাল বুধবার উভয় পক্ষ আবারো মুখোমুখি অবস্থান নেয়। যে কোন সময় উভয় পক্ষের মধ্যে আবারো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামী করে মামলা করেছে। পুলিশ এ পর্যন্ত ইসমত আলী (৫০), ইজাব মিয়া (৪০), ও লেফাছ মিয়া (৫৫) সহ ৩জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
দফায় দফায় সংঘর্ষে আহতরা হলেন আসিদ মিয়া (৩৫), আরজু মিয়া (২৮), রুহুল আমিন (১৫), মতিন মিয়া (৩০), কলমদর মিয়া (২০), এরাব মিয়া (৫০), হা মিম (১৮), নজরুল মিয়া (১৫), ইজাব মিয়া (৪৫), আলেক মিয়া (৩০), ফরজান মিয়া (৪২), বাচ্চু মিয়া (৩৮), নুয়েল মিয়া (২৫), শিপন মিয়া (২৮), নূরুল মিয়া (২৬), যুবায়ের মিয়া (২৪), তহুর উদ্দীন (২৫), বাবুল মিয়া (৪০), বেলু মিয়া (৩৫) মাখন মিয়া (৪০), বেগম (৫০), মিতা বেগম (৪০), সুভেল (৩৫), সেজি বেগম (২৫), সাজনা বেগম (৩০), সুলেমান (৩৫), ইসকন্দর (২০), সুনাম মিয়া (২৬), আমান (৩৫), আবুল কালাম (৪০), আলাল (৩৩)। আহতদের মৌলভীবাজার হাসপাতাল ও রাজনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এক পক্ষের শামছুল হক দাবি করে বলেন, তার পাকা ঘর ভাংচুর করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সংঘর্ষের সময় ৫টি গরু, স্বর্ণ, নগদ টাকা, ধান ও কাপড় আসবাবপত্র লুট করে নেয়া হয়েছে ।
এদিকে এরাব মিয়ার ভাই ইজাব মিয়া দাবি করেন, সোমবার সংঘর্ষের সময় তাদের দুটি ঘর ভাংচুর করা হয়েছে। এছাড়াও ৩টি গরু, ৩টি নৌকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে গেছেন শামছুল হকের লোকজন।
রাজনগর থানার ওসি মো. শামসুদ্দোহা পিপিএম জানান, আমিরপুর গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকটি ঘরবাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এব্যাপারে উভয় পক্ষ থানায় মামলা করেছে।#
রিপোর্ট- আব্দুর রহমান সোহেল