- মৌলভীবাজার, স্লাইডার

জুড়ী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি অভিযোগের তদন্ত অনুষ্টিত

এইবেলা, বড়লেখা, ১৭ সেপ্টেম্বর:: মৌলভীবাজারের জুড়ী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দাখিলের প্রায় ১ বছর পর মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সিলেট অঞ্চলের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে তদন্ত অনুষ্টিত হয়।

উপ-পরিচালক অভিযোগকারী তিন শিক্ষক ও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের জবানবন্দি গ্রহন করেন। উলেখ্য অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েই তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ হতে পদত্যাগ করে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমানীত হলে উভয় পদ হারাতে পারেন অভিযুক্ত শিক্ষক সীতাংশু সেখর দাস।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, জুড়ী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী একটি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় ৩শ’ টাকার ব্যাংক ড্রাফটসহ প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আহবান করেন।

অভিযোগকারী প্রধান শিক্ষক পদপ্রার্থী মো. ফয়জুর রহমান, আবু হোসেন আজাদ, মো. আব্দুল জলিল, রশীদ আহমদ খানসহ দেড় ডজন প্রার্থী আবেদন করেন।

আবেদনগুলো বিধিমোতাবেক বহাল থাকা অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিতাংশু শেখর দাস নিজে প্রধান শিক্ষক হতে স্কুলের সভাপতি যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় (১৪ মে হতে ৩১ অক্টোবর) কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়া অতি গোপনে একই বছরের ২২ জুলাই ব্যাংক ড্রাফট ছাড়া একই পদে আবার দুইটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আহবান করেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিতাংশু শেখর দাস নিজে প্রধান শিক্ষক হতে পূর্বের আবেদনকারীদের ইন্টারভিউ কার্ড না দিয়ে মনোপুত ৪/৫ প্রার্থী নিয়ে নিজের কোচিং সেন্টারে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর গোপনে নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করে নির্বাচিত হন।

এ নিয়োগ নাটকের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন গত ৩১ অক্টোবর বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় চাপা হলে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া প্রধান শিক্ষকের এমপিও ভুক্তির ফাইল স্থগিত রাখে শিক্ষা বিভাগ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিতাংশু শেখর দাস প্রধান শিক্ষক হতে নানা কুটকৌশলের আশ্রয় নেন। বিধিবহির্ভুতভাবে স্কুলের দুইজন জ্যোষ্ঠতম শিক্ষককে বাদ দিয়ে কনিষ্টতম শিক্ষক ধনঞ্জয় কুমার দে’কে সাচিবিক দায়িত্ব পালনে নিযুক্ত করেন।

এসব অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এনে নিয়োগ পরীক্ষা হতে বঞ্চিত প্রধান শিক্ষক প্রার্থীরা গত বছরের ৩ নভেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগ দাখিলের প্রায় ১ বছর পর গত মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সিলেট আঞ্চলিক উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর কবির আহমদের কার্যালয়ে তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সিলেট এর আঞ্চলিক উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর কবির আহমদ জানান, অভিযোগকারী তিন প্রধান শিক্ষক পদপ্রার্থী তাদের অভিযোগের স্বপক্ষের লিখিত বক্তব্য ও কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। ৩/৪ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ডিজি মহোদয় বরাবরে প্রেরন করবেন।

রিপোর্ট-বিশেষ প্রতিনিধি

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *