- ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, শিক্ষাঙ্গন, স্লাইডার

কুলাউড়ার ইউছুফ-গণি আদর্শ কলেজের অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তরা বহাল তবিয়তে

এইবেলা, কুলাউড়া, ১৯ সেপ্টেম্বর:: কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের ইউছুফ-গণি আদর্শ কলেজের ৩ জন প্রভাষক ও ১ জন ৩য় শ্রেণির কর্মচারির নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট। তাছাড়া অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া এসব ব্যক্তির চাকুরির স্থায়ী নিষ্পত্তিকরণ ও বেতন ভাতা বাবদ উত্তোলিত ৫৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬শ টাকা ফেরত প্রদানের ব্যবস্থা নিতেএ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন।

এই রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল খারিজ করেছেন মাহামান্য সুপ্রীম কোর্ট। কিন্তু ৬ মাসেও দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর হয়নি।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কলেজ শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী ইউছুফ গণি আদর্শ কলেজের ভূগোল বিষয়ের প্রভাষক শাহ আলম সরকার, ইসলামের ইতিহাসের প্রভাষক মমদুদ হোসেন, অর্থনীতির প্রভাষক দিলিপ চন্দ্র দাস ও অফিস সহকারী আরজুমান্দ বানু লিপির পর্যাপ্ত যোগ্যতা না থাকা ও নিয়োগ অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনে গত বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালের ০৮ জুলাই কলেজের তৎকালীন গভর্ণিং বডির সদস্য জয়নাল আবেদীন খান মহামান্য হাইকোর্ট একটি রিট পিটিশন (নং ৭৯৪৬/২০১৪) দায়ের করেন।

মহামান্য হাইকোর্ট গত ১১ নভেম্বর শুনানী শেষে শাহ আলম সরকার, মমদুদ হোসেন ও  দিলিপ চন্দ্র দাস এর প্রভাষক পদে ও আরজুমান্দ বানু লিপি এর অফিস সহকারী পদে নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করেন এবং চাকুরিকালিন সময়ে বেতন ভাতা বাবৎ উত্তোলিত সমুদয় টাকা ফেরৎ প্রদানের রায় দেন ।

পরবর্তীতে বিবাদীগণের পক্ষে কলেজে পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোলাম সরওয়ার পাখি খান  উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি লিভ টু আপীল (নং ৩২৯০/২০১৪) দায়ের করেন।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস.কে সিনহা), বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সম্মিলিত বেঞ্চ গত ১০ ফেব্রুয়ারি উক্ত লিভ টু আপীল পিটিশন খারিজ করে দিয়ে মহামান্য হাইকোর্টের রায় পূণর্বহাল করেন। এরপর ৬মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও আদালতের সেই রায় কার্যকর হয়নি।

মামলার বাদী কলেজ গর্ভনিং কমিটির সাবেক সদস্য জয়নাল আবেদীন খান জানান, ইউছুফ গনি আদর্শ কলেজে উপযুক্ত যোগ্যতা না থাকার পরও সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নিয়োগ প্রাপ্তদের বিষয়ে আমি কলেজ গভর্নিং বডির সভায় একাধিকবার ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাই।

এরপর ২০০১ সালের তৎকালীন সভাপতি উক্ত ৪ জনের বেতন ভাতা বন্ধ করেন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে গোলাম সরওয়ার পাকি খান  সভাপতি হওয়ার পর অভিযুক্ত ৪ জনের বেতনভাতা পুনরায় চালু করেন। ফলে আমি বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হই। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় গত ৬ মাসেও কার্যকর হয়নি। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এখন বাধ্য হয়ে আদালত অবমাননার আরেকটি মামলা দায়ের করা ছাড়া কোন উপায় নেই।

এব্যাপারে ইউছুফ গনি আদর্শ কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোলাম সরওয়ার পাখি খান জানান, বিষয়টি নিয়ে যারা ঘাটাঘাটি করছে অর্থাৎ কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলতে পারবে।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ভূগোল বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শাহ আলম সরকার। এব্যাপারে সাথে সরাসরি যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমরা কখন কি হয়, সেই অপেক্ষায় আছি?  এব্যাপারে কেউ যেন অহেতুক হয়রানি না করে, সে ব্যাপারে তার প্রতি খেয়াল রাখার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

রিপোর্ট-নিজস্ব প্রতিবেদক

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *