শিক্ষক দিবসের বিশেষ প্রতিবেদন : ৪ বছর ধরে ফ্রি পড়ান বড়লেখার শিক্ষক মীরা বালা দত্ত – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধ দেখুন রাষ্ট্রের ভিত শক্তিশালী করতে আইনের শাসন ফেরাতে হবে হাকালুকির ‘হাওরখাল’ বিলের উন্মুক্ত পুনঃনিলাম কাল কুলাউড়ায় ‘সীমান্তের ডাক’র গুণীজন সংবর্ধনা- ড. আবেদ চৌধুরী ও মাহিদুর রহমানকে সম্মাননা দর ওঠেছে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা- হাকালুকির ‘হাওরখাল’ বিলের কাঙ্খিত সরকারি দর না ওঠায় নিলাম কার্যক্রম স্থগিত কমলগঞ্জে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ৩ কমলগঞ্জের কালী প্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থী ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত ছাতকে গোবিন্দগঞ্জ পশুর হাট নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি ছাতক থানার মিজানুর রহমান বড়লেখায় সাংবাদিক খলিলুর রহমানের পিতার মৃত্যুবার্ষিকী পালন কুলাউড়ায় পৌরসভা সেলুন সমিতির আয়োজনে বিশ্বকর্মা পূজা অনুষ্ঠিত

শিক্ষক দিবসের বিশেষ প্রতিবেদন : ৪ বছর ধরে ফ্রি পড়ান বড়লেখার শিক্ষক মীরা বালা দত্ত

  • মঙ্গলবার, ৫ অক্টোবর, ২০২১

Manual2 Ad Code

আব্দুর রব, বড়লেখা ::

Manual6 Ad Code

বড়লেখা উপজেলার ছোটলেখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারি শিক্ষক মীরা বালা দত্ত। ৪ বছর আগে অবসরগ্রহণ করলেও নিঃস্বার্থভাবে এখনও নিয়মিত স্কুলে যান, অত্যন্ত যতেœর সাথে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন। তবে তিনি পাঠদানের জন্য স্কুল থেকে নেন না কোনো পারিশ্রমিক। তিনি শুধু একজন সফল শিক্ষকই নন, পারিবারিকভাবে একজন সফল মাও। দুই ছেলের একজন বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার, অপরজন সরকারি কর্মকর্তা। দুই পুত্রবধুর একজন বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার ও অন্যজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। সফল এই শিক্ষক শারীরিক সক্ষমতা সাপেক্ষে আজীবন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো বিলিয়ে দিতে চান।

জানা গেছে, উপজেলার বারইগ্রামের ফার্মেসী ব্যবসায়ী রনজিৎ কুমার দত্তের স্ত্রী মীরা বালা দত্ত ১৯৮৩ সালের ১ জানুয়ারী উপজেলা সদরের ষাটমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০০২ সালে ছোটলেখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হন। সেখান থেকেই ২০১৭ সালের ৬ আগষ্ট অবসরগ্রহণ করেন। কিন্তু তার কোমলমতি ছাত্রছাত্রী ও সহকর্মীদের সাথে এমনভাবে মিশেছিলেন, একদিনের জন্যও তাদের ছাড়া নিজেকে ভাবতে পারেননি। বিশেষ করে বছরের এক তৃতীয়াংশ সময় অবশিষ্ট থাকতে তার অবসরগ্রহণ শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে ভেবেই তিনি পরের দিন থেকেই নিয়মিত স্কুলে পাঠদান করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এসএমসি, প্রধানশিক্ষক ও অন্যান্য সহকর্মীরাও তাকে ছাড়া একধরণের শূন্যতা অনুভব করেন। তার এ প্রস্তাবে সবাই খুশি হন। তবে তিনি শর্ত দেন তার পাঠদানের জন্য স্কুল থেকে তাকে কোনো পারিশ্রমিক দিতে পারবেন না। এভাবেই বিনা বেতনে অবসরপ্রাপ্ত সহকারি শিক্ষক মীরা বালা দত্ত বিগত ৪ বছর ধরে অদ্যাবধি নিয়মিত পাঠদান করে যাচ্ছেন।

এব্যাপারে মীরা বালা দত্ত জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি বিনাবেতনে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। স্বামী ও সন্তানরা তাকে সাপোর্ট দিয়েছেন। মনেই হয় না চাকরি থেকে তিনি অবসরে গেছেন। এই স্কুল ও ছাত্রছাত্রীদের নিজের সন্তানের মতোই দেখেন। আজীবন তিনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে যেতে চান।

Manual6 Ad Code

প্রধান শিক্ষক প্রতাপ কুমার দত্ত জানান, সহকারি শিক্ষক মীরা বালা দত্ত স্কুল ও শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ। তিনি শুধু শিক্ষক হিসেবেই সফল নন, মা হিসেবেও অত্যন্ত সফল। তার দুই ছেলে ও পুত্রবধুরাও পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। প্রায় ৪ বছর হলো অবসরে গেছেন। কিন্তু অদ্যাবধি আগের মতোই যথাসময়ে স্কুলে আসেন, ছাত্রছাত্রীদের পড়ান। তিনিসহ স্কুলে ৯ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। অন্য কারোই মনে হয় না তিনি অবসরে গেছেন। নিঃস্বার্থ পাঠদানের এমন ঘটনা দেশে খুবই বিরল।#

Manual1 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!