জীন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীর আবিষ্কার : এক ধানে ৫ বার ফলন – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সিলেট থে‌কে ছাত‌কের সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার কমলগঞ্জে সুজন’র ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠান স্থগিত পাহাড়ে গাছ কাটতে গিয়ে দুর্ঘটনায় কুলাউড়ার বরমচালে যুবকের মৃত্যু সততা, সাহস ও নিষ্ঠাই নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারিদের বড় শক্তি -মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজার-১ আসন- বড়লেখা বিএনপিতে ঐক্য, দলের প্রার্থীর পক্ষে অভিমানী নেতারাও নামছেন প্রচারণায় কুড়িগ্রামে সড়কে অসংখ্য বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছ রেখেই চলছে নির্মাণ কাজ সুনামগঞ্জ–৫ আসনে ধানের শীষের গণজোয়ার–কলিম উদ্দিন মিলন কুলাউড়ায় এক পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ৪৯ দুর্নীতিমুক্ত ইনসাফ ন্যায় ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চাই–মাওলানা মামুনুল হক জয় দিয়ে সুপার সিক্স শুরু বাংলাদেশের

জীন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীর আবিষ্কার : এক ধানে ৫ বার ফলন

  • বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১

Manual6 Ad Code

এইবেলা, কুলাউড়া ::

Manual2 Ad Code

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত কুলাউড়া উপজেলার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীর আবিষ্কৃত ধান একবার রোপন করলে সেই ধান গাছ ৫ বার ফলন ধরে। নতুন জাতের এই ধানের নাম রাখা হয়েছে ‘পঞ্চব্রীহি’।আবিষ্কৃত এই জাতের ধান তিনি তাঁর গ্রামের বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের কানিহাটি গ্রামে চাষ করেছেন।

এ ধান চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই জাতের ধানে কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়। ফলে এই ধান নিয়ে দেশজুড়ে হৈচৈ শুরু হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে জনসংখ্যার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের চাহিদা বাড়লেও কমছে কৃষিজমি। এ অবস্থায় আবেদ চৌধুরীর উদ্ভাবিত এই নতুন জাতের ধানে খাদ্যসঙ্কট দূর হবে।

জিন গবেষক আবেদ চৌধুরীর বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউয়িনের কানিহাটি গ্রামে। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় জাতীয় গবেষণা সংস্থার প্রধান ধানবিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত আছেন।
প্রবাসে থাকলেও দেশের ধানের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করছেন। নিজের উদ্ভাবিত জাতের ধান চাষে কানিহাটি গ্রামের পারিবারিক জমিতে গড়ে তুলেছেন খামার। এই খামারেই নতুন উদ্ভাবিত ধান চাষ করা হয়। এতে প্রথমবারের মতো একই গাছে পাঁচবার ফলন এসেছে।
উদ্ভাবনী নতুন এধানের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বরত কানিহাটি গ্রামের কৃষক রাসেল মিয়া জানান, পরীক্ষমূলকভাবে দুই বিঘা জমিতে এধান রোপন করা হলে সফলভাবে পাঁচবার গাছ থেকে ধান কাটা হয়েছে। গাছ থেকে একবার ধান কাটা হলে ধান গাছের গুড়ি (নেরা) যতœ করে রেখে দিলে সেই গাছে আবার ফলন চলে আসে। তাই আগামী বোরো মৌসুমে এ অঞ্চলে প্রায় ২০ কিয়ার জমিতে উদ্ভাবিত নতুন ধান রোপন করা হবে। এই ধান গাছে ৪৫ দিন পরপর ধান আসে।

Manual4 Ad Code

‘পঞ্চব্রীহি’ ধান প্রসঙ্গে আবেদ চৌধুরী জানান, ‘ধানকে ব্রীহি বলা হয়। এটা যেহেতু পাঁচবার ফলন দিয়েছে, তাই এর নাম পঞ্চব্রীহি রেখেছি।’

Manual2 Ad Code

ছয় বার ফলন হবে এমন একটি জাতের ধান নিয়েও গবেষণা চলেছ জানিয়ে আবেদ চৌধুরী আরও জানান, ‘ষষ্ঠবার ফলনে সফল হলে এই জাতের নামকরণ ষষ্ঠব্রীহি করা যেতে পারে। তবে এর নাম এখনও চূড়ান্ত করিনি।
আবেদ চৌধুরীর গবেষণা সহকারী সৈয়দ নুর আহমদ জানান, পঞ্চব্রীহিতে অন্য ধানগাছের চাইতে উৎপাদন প্রায় পাঁচ গুণ বেশি হবে। কম সময়ে পাকা এই ধানের উৎপাদন খরচও কম।

তিনি আরও জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই জাতের ধান দুই বিঘা জমিতে রোপণ করা হয়। পরিমাণমতো ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা হয়। সঠিকভাবে সেচ ও পরিচর্যা করার পর ১১০ দিনের মধ্যে ৮৫ সেন্টিমিটার থেকে এক মিটার উচ্চতার গাছে ফসল আসে। পরে মাটি থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায় ওই ধান কেটে ফেলা হয়।

মে মাসের প্রথম দিকে প্রথমবার কাটা ধানে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয়েছে চার টন। তারপর থেকে ৪৫ দিন অন্তর প্রতিটি মৌসুমে হেক্টরপ্রতি কখনও দুই টন, কখনও তিন টন ফলন এসেছে। সবগুলো জাত মিলে হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৬ টন ফলন হয়েছে।

Manual7 Ad Code

খামার সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে কানিহাটি গ্রামে ২৫ বর্গমিটার জমিতে ২০টি ধানের জাত নিয়ে গবেষণা শুরু করেন আবেদ চৌধুরী। এর মধ্যে চীন, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের ও স্থানীয় ধানের জাত ছিল।

যে জাতগুলোর ধান পাকার পর কেটে নিয়ে গেলে আবার শীষ বের হয়, সেগুলো তিনি আলাদা করেন। এভাবে ১২টি জাত বের করেন। তিন বছর ধরে জাতগুলো চাষ করে দেখেন, নিয়মিতভাবে এগুলো দ্বিতীয় বার ফলন দিচ্ছে। এরপর তিনি একই গাছে তৃতীয়বার ফলনের গবেষণা শুরু করেন। তাতেও সফল হন। তবে এর মধ্যে চারটি জাত ছাড়া বাকিগুলো চতুর্থবার ফলন দিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

আবেদ চৌধুরী জানান, আম-কাঁঠালের মতো বছরের পর বছর টিকে থাকার সৌভাগ্য ধানগাছের হয় না- এটা কোনোভাবেই মানতে পারছিলাম না। তাই নেমে পড়ি গবেষণায়। ‘দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে জাতগুলো করা হয়েছে। স্থানীয় জাতের সঙ্গে বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাত এবং স্থানীয় জাতের সঙ্গে স্থানীয় হাইব্রিড জাতের সংকরায়ন ঘটানো হয়েছে। ১০-১২ বছর আগে এগুলো থেকে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়বার ফলন দেয়ার জন্য উপযোগী করে চিহ্নিত করা হয়। সারা বছর যেহেতু ধান দিচ্ছে, সেহেতু এই জাতকে বর্ষজীবী বলা যেতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমেন জানান, এক গাছে পাঁচবার ধান উৎপাদন নতুন দেখেছি। এটি দেশের জন্য সুখবর। এর অধিক ফলন সম্ভব হলে দেশের খাদ্যসংকট দূর করা সম্ভব হবে। এই উদ্ভাবনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।#

সংবাদটি শেয়ার করুন


Deprecated: File Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/eibela12/public_html/wp-includes/functions.php on line 6121

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!