বড়লেখায় জালিয়াতি করে দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রি : ৫ সেবাইতকে দুদকে তলব – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুলাউড়ায় বেগমানপুর বিদ্যালয়ের ভূমি দাতা সদস্য নিয়ে ধূম্রজাল: দুই পক্ষের উত্তেজনা ছাতকে সুরমা নদীভাঙনে বিলীন স্কুল-মসজিদ নদী : আতঙ্কে বাউসা-কেশবপুরের মানুষ ভূরুঙ্গামারীতে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত  ওসমানীনগরে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে ধারালো অস্ত্রসহ আটক ৩ ছাতকে উপজেলা প্রশাসন ও গ্রামবাসীর অভিযানে ২২ অবৈধ ড্রেজার জব্দ কুলাউড়ায় একশ পিছ ইয়াবাসহ পুলিশী অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার ​কুড়িগ্রামে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ কুলাউড়ায় মনু নদী থেকে অবৈধভাবে বালু বিক্রির দায়ে ইউপি সদস্যের জরিমানা  বড়লেখা প্রেসক্লাবে মতবিনিময় সভা- ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, মানুষের কল্যাণেই রাজনীতি করি : শরীফুল হক সাজু সংবেদনশীল মানুষ হতে হলে বই পড়তে হবে – যুগ্ম সচিব মোস্তফা মোরশেদ

বড়লেখায় জালিয়াতি করে দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রি : ৫ সেবাইতকে দুদকে তলব

  • বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

Manual8 Ad Code

আব্দুর রব, বড়লেখা ::

বড়লেখায় জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রির ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন ৫ সেবাইতকে তলব করেছে। গত ১২ আগস্ট দুদকের হবিগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে হাজিরের নোটিশ দেয়া হলেও তারা কেউ সেখানে উপস্থিত হননি।

Manual6 Ad Code

নোটিশপ্রাপ্ত সেবাইতরা হলেন- রাধাকান্ত পুরকায়স্থ, শ্যামাকান্ত পুরকায়স্থ, অরবিন্দু রায় পুরকায়স্থ, রনেন্দ্র কুমার রায় পুরকায়স্থ (মৃত) ও রুদ্রেন্দ্র কুমার রায় পুরকায়স্থ (ভোলা)। সোমবার দুদকের (হবিগঞ্জ) একটি অনুসন্ধান টিম বড়লেখায় গিয়ে কয়েকজন দেবোত্তর রেকর্ডভুক্ত ভুমি ক্রেতার জবানবন্দী গ্রহণ করেছে।

Manual5 Ad Code

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুত্রের অভিযোগ উক্ত দেবোত্তর সম্পত্তির অন্যতম সেবায়েত রনজিৎ কুমার রায় পুরকায়স্থও জাল কাগজে লাখ লাখ টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রি করেছেন। কিন্ত তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক হওয়ায় দুদক এখনও তাকে তলব করেনি।

Manual5 Ad Code

উলেখ্য ২০১৮ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর সিলেটের একটি দৈনিকে ‘বড়লেখায় সেবাইতরা বিক্রি করছে কোটি কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হলে প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। অনুসন্ধানে মাঠে নামে দুদক।

জানা গেছে, উপজেলার পানিধার গ্রামের দেবভক্ত প্রয়াত জমিদার রামকুমার রায় পুরকায়স্থ প্রায় ৭৫ বছর পূর্বে উইলের মাধ্যমে কাঠালতলী মৌজাসহ কয়েকটি মৌজায় ১৩০৩ একর ভুমি শ্রী শ্রী লক্ষী নারায়ন জিউ নামে দেব্ত্তোর করেন। দলিলের মোট ১৪টি শর্তের ৬ নম্বরে তিনি ঘোষণা করেন সেবাইতগন কিংবা তম্মধ্যে কেহ উক্ত দেবোত্তর সম্পত্তি কোন প্রকার দান, বিক্রী, হস্তান্তর, কোথাও দায়বদ্ধ কিংবা ভাগবাটোয়ারা করতে পারবেন না। বংশানুক্রমিক উত্তরাধীকারীগন দেবোত্তর সম্পত্তির সেবাইত থাকবেন। দেবোত্তর সম্পত্তি নীতিমালা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক উক্ত সম্পত্তির তত্তাবধায়ক। ক্রয়-বিক্রয়ের সুযোগ নেই এমন দেবোত্তর সম্পত্তির সেবাইতরা জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ইচ্ছেমতো কোটি কোটি টাকার ভু-সম্পত্তি বিক্রি করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাঠালতলী মৌজায় এসএ ৬৪৮ দাগের ৩০ শতাংশ দেবোত্তর সম্পত্তি সেবাইত রনেন্দ্র কুমার পুরকায়স্থ, রমা কান্ত পুরকায়স্থ, রাধাকান্ত পুরকায়স্থ ও শ্যামাকান্ত পুরকায়স্থ ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর ৪৭১৫নং দলিলে ছিদ্দিকুর রহমান, ফয়জুর রহমান ও সুয়েদুর রহমানের নিকট বিক্রি করেন। সেবাইত রনেন্দ্র কুমার রায় পুরকায়স্থ, রুদ্রেন্দ্র কুমার রায় পুরকায়স্থ, রমাকান্ত রায় পুরকায়স্থ, রাধাকান্ত রায় পুরকায়স্থ, শ্যামাকান্ত রায় পুরকায়স্থ এসএ ৮৩২ নং দাগের ৬১ শতাংশ দেবোত্তর জমি ভুয়া কাগজে নিজেদের নামে রেকর্ডভুক্ত করে ২০০৫ সালের ২৯ জুন ৩০৬৬ নং দলিলে আজমল আলীর নিকট হস্তান্তর করেন। সেবাইত রনজিৎ কুমার রায়সহ অন্যান্য সেবাইতরা ২০১৫ সালের ১৪ মে ১৫৪৩ নং দলিলে ৭ শতাংশ ভুমি একেএম হেলাল উদ্দিন ও জাকিয়া সুলতানার নিকট বিক্রি করেন। সেবাইত রাধাকান্ত রায়, শ্যামাকান্ত রায় ও রনজিৎ কুমার রায় (বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক) ২০১৪ সালের ৪ মে ১৪ শতাংশ দেবোত্তর সম্পত্তি আব্দুর রাজ্জাকের নিকট হস্তান্তর করেন। রনজিৎ কুমার রায়সহ সেবাইতরা ৬৩৯/২০১৭ নং দলিলে নিজেদের সৃজিত জাল কাগজে ২০ শতক দেবোত্তর ভুমি ৬৫ লাখ টাকায়, সেবাইত রুদ্রেন্দ্র কুমার পুরকায়স্থ ভোলা কাঠালতলী মৌজার পানিধারে ১৭ শতাংশ দেবোত্তর ভুমি ১০ লাখ টাকায় হস্তান্তর করেছেন।

দুদকের হবিগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. এরশাদ মিয়া জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয় থেকে দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রি/হস্তান্তরের এ অভিযোগটি তদন্তের অনুমোদন পাওয়া যায়। প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে অভিযোগ সংশিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণের জন্য ৫ সেবাইতকে ১২ আগস্ট দুদক হবিগঞ্জ, সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তলব করেন। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে কেউ উপস্থিত হননি। তবে ১/২ জন যোগাযোগ করে সময় চেয়েছেন। দুদক ধাপে ধাপে অভিযোগের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সোমবার দুদকের অনুসন্ধান টিম সরেজমিনে কয়েকজন দেবোত্তর রেকর্ডীয় ভুমি ক্রেতার জবানবন্দী গ্রহণ করেছে।#

Manual6 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!