বড়লেখায় জালিয়াতি করে দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রি : ৫ সেবাইতকে দুদকে তলব – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ওসমানীনগরে পোস্ট অফিসে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা পয়সা লুট ঢাকা-সিলেট ডাবল রেললাইন হবে: প্রধানমন্ত্রী কুলাউড়ায় এসপিকে ঘুষ দিতে গিয়ে আটক ২ জুড়ীতে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিজিবির খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান মে দিবসের চেতনায় মজুরি বৈষম্যের অবসান হয়নি নারী শ্রমিকদের ছাত‌কে প্রবাসীর পক্ষে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: আদালতের আদেশে দুই দোকানঘর জব্দ কানাডাস্থ জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর নির্বাচন : তুহিন-তানবীর-এজাজ পরিষদের পরিচিতি সভা কুলাউড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে স্কুলে পাঠদান হাকালুকিতে তলিয়ে গেছে ধান, ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে বিএনপি নেতা মাছুম রেজা টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল- বড়লেখায় বন্যার আশংকায় প্রস্তুত করা হয়েছে ২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র

বড়লেখায় জালিয়াতি করে দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রি : ৫ সেবাইতকে দুদকে তলব

  • বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

Manual7 Ad Code

আব্দুর রব, বড়লেখা ::

Manual7 Ad Code

বড়লেখায় জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রির ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন ৫ সেবাইতকে তলব করেছে। গত ১২ আগস্ট দুদকের হবিগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে হাজিরের নোটিশ দেয়া হলেও তারা কেউ সেখানে উপস্থিত হননি।

Manual5 Ad Code

নোটিশপ্রাপ্ত সেবাইতরা হলেন- রাধাকান্ত পুরকায়স্থ, শ্যামাকান্ত পুরকায়স্থ, অরবিন্দু রায় পুরকায়স্থ, রনেন্দ্র কুমার রায় পুরকায়স্থ (মৃত) ও রুদ্রেন্দ্র কুমার রায় পুরকায়স্থ (ভোলা)। সোমবার দুদকের (হবিগঞ্জ) একটি অনুসন্ধান টিম বড়লেখায় গিয়ে কয়েকজন দেবোত্তর রেকর্ডভুক্ত ভুমি ক্রেতার জবানবন্দী গ্রহণ করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুত্রের অভিযোগ উক্ত দেবোত্তর সম্পত্তির অন্যতম সেবায়েত রনজিৎ কুমার রায় পুরকায়স্থও জাল কাগজে লাখ লাখ টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রি করেছেন। কিন্ত তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক হওয়ায় দুদক এখনও তাকে তলব করেনি।

উলেখ্য ২০১৮ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর সিলেটের একটি দৈনিকে ‘বড়লেখায় সেবাইতরা বিক্রি করছে কোটি কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হলে প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। অনুসন্ধানে মাঠে নামে দুদক।

Manual2 Ad Code

জানা গেছে, উপজেলার পানিধার গ্রামের দেবভক্ত প্রয়াত জমিদার রামকুমার রায় পুরকায়স্থ প্রায় ৭৫ বছর পূর্বে উইলের মাধ্যমে কাঠালতলী মৌজাসহ কয়েকটি মৌজায় ১৩০৩ একর ভুমি শ্রী শ্রী লক্ষী নারায়ন জিউ নামে দেব্ত্তোর করেন। দলিলের মোট ১৪টি শর্তের ৬ নম্বরে তিনি ঘোষণা করেন সেবাইতগন কিংবা তম্মধ্যে কেহ উক্ত দেবোত্তর সম্পত্তি কোন প্রকার দান, বিক্রী, হস্তান্তর, কোথাও দায়বদ্ধ কিংবা ভাগবাটোয়ারা করতে পারবেন না। বংশানুক্রমিক উত্তরাধীকারীগন দেবোত্তর সম্পত্তির সেবাইত থাকবেন। দেবোত্তর সম্পত্তি নীতিমালা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক উক্ত সম্পত্তির তত্তাবধায়ক। ক্রয়-বিক্রয়ের সুযোগ নেই এমন দেবোত্তর সম্পত্তির সেবাইতরা জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ইচ্ছেমতো কোটি কোটি টাকার ভু-সম্পত্তি বিক্রি করেছেন।

Manual7 Ad Code

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাঠালতলী মৌজায় এসএ ৬৪৮ দাগের ৩০ শতাংশ দেবোত্তর সম্পত্তি সেবাইত রনেন্দ্র কুমার পুরকায়স্থ, রমা কান্ত পুরকায়স্থ, রাধাকান্ত পুরকায়স্থ ও শ্যামাকান্ত পুরকায়স্থ ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর ৪৭১৫নং দলিলে ছিদ্দিকুর রহমান, ফয়জুর রহমান ও সুয়েদুর রহমানের নিকট বিক্রি করেন। সেবাইত রনেন্দ্র কুমার রায় পুরকায়স্থ, রুদ্রেন্দ্র কুমার রায় পুরকায়স্থ, রমাকান্ত রায় পুরকায়স্থ, রাধাকান্ত রায় পুরকায়স্থ, শ্যামাকান্ত রায় পুরকায়স্থ এসএ ৮৩২ নং দাগের ৬১ শতাংশ দেবোত্তর জমি ভুয়া কাগজে নিজেদের নামে রেকর্ডভুক্ত করে ২০০৫ সালের ২৯ জুন ৩০৬৬ নং দলিলে আজমল আলীর নিকট হস্তান্তর করেন। সেবাইত রনজিৎ কুমার রায়সহ অন্যান্য সেবাইতরা ২০১৫ সালের ১৪ মে ১৫৪৩ নং দলিলে ৭ শতাংশ ভুমি একেএম হেলাল উদ্দিন ও জাকিয়া সুলতানার নিকট বিক্রি করেন। সেবাইত রাধাকান্ত রায়, শ্যামাকান্ত রায় ও রনজিৎ কুমার রায় (বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক) ২০১৪ সালের ৪ মে ১৪ শতাংশ দেবোত্তর সম্পত্তি আব্দুর রাজ্জাকের নিকট হস্তান্তর করেন। রনজিৎ কুমার রায়সহ সেবাইতরা ৬৩৯/২০১৭ নং দলিলে নিজেদের সৃজিত জাল কাগজে ২০ শতক দেবোত্তর ভুমি ৬৫ লাখ টাকায়, সেবাইত রুদ্রেন্দ্র কুমার পুরকায়স্থ ভোলা কাঠালতলী মৌজার পানিধারে ১৭ শতাংশ দেবোত্তর ভুমি ১০ লাখ টাকায় হস্তান্তর করেছেন।

দুদকের হবিগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. এরশাদ মিয়া জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয় থেকে দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রি/হস্তান্তরের এ অভিযোগটি তদন্তের অনুমোদন পাওয়া যায়। প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে অভিযোগ সংশিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণের জন্য ৫ সেবাইতকে ১২ আগস্ট দুদক হবিগঞ্জ, সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তলব করেন। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে কেউ উপস্থিত হননি। তবে ১/২ জন যোগাযোগ করে সময় চেয়েছেন। দুদক ধাপে ধাপে অভিযোগের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সোমবার দুদকের অনুসন্ধান টিম সরেজমিনে কয়েকজন দেবোত্তর রেকর্ডীয় ভুমি ক্রেতার জবানবন্দী গ্রহণ করেছে।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!