রাজনগর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ::
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় রাতের আঁধারে ঘরে ঢুকে লিলি বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূর গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। ১১ মে সোমবার রাত আনুমানিক দুইটায় উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের সুরিখাল গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী লিলি বেগম পার্শ্ববর্তী সুনামপুর গ্রামের আশাব আলীর স্ত্রী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে পরিবারের অন্য সদস্যরা বেড়াতে যাওয়ায় লিলি বেগম ঘরে একাই ছিলেন। রাত প্রায় দুইটার দিকে তাকে একা পেয়ে ২-৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি বসতঘরের টিনের দরজা ও জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা বিদ্যুত সংযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপর তারা লিলি বেগমের হাত ও পা চেপে ধরে আটকে রাখে।
এ সময় লিলি বেগম চিৎকার শুরু করলে, ধারালো দা দিয়ে তার গলায় কোপ দেয়। একপর্যায়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে, মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে ভেবে ঘাতকরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে তার আর্তনাদ শুনে পাশের বাড়ির লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
লিলি বেগমের পুত্র আইনুদ্দিন জানান, হাসপাতালে অজ্ঞান হওয়ার আগে তার মা তাকে বলেছেন, “গলা কাটতে যারা এসেছিল তাদের কণ্ঠ আমি শুনেছি। তাদের আমি চিনে ফেলেছি। মায়ের এই বক্তব্যের পর থেকে তারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
হামলার কারণ সম্পর্কে আইনুদ্দিন জানান, সুনামপুর গ্রামের দু’ব্যক্তির ছেলেকে তার ভাই খলিল কাতারে পাঠিয়েছিলেন। কাতার পাঠানোর সেই পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় ওই ব্যক্তিরা তাদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এর আগে তারা আইনুদ্দিনের পরিবারকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে বলে তার দাবি। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৪ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুক মিয়া জানান, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে ভুক্তভোগীকে দেখতে গিয়েছিলেন। লিলি বেগম বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় আইসিইউতে থাকায় বিস্তারিত কিছু বলতে পারছেন না। তবে তিনি সুস্থ হলে জড়িতদের নাম প্রকাশ করবেন।
রাজনগর থানার অফিমার ইনচার্জ মো. ফরিদ উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, “মহিলার গলা কাটার ঘটনায় ৪-৫ জনের নামোল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ আসামিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে, তবে তারা পলাতক রয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।##