মানসিক প্রতিবন্দি আফিয়া ও রোবেনার শেকলবন্দি জীবন – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মানসিক প্রতিবন্দি আফিয়া ও রোবেনার শেকলবন্দি জীবন দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার কমলগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি শাব্বির এলাহীর মাতৃবিয়োগ ছাতকে বনভূমি পরিদর্শণকালে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দিলেন কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন এমপি   ছাত‌কে  চাদার টাকা না দেয়ায় অপপ্রচারে শিকার ব‌্যবসা‌য়ি দুলু‌ মিয়া! ব্যারিস্টার জহরত চৌধুরীর সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ায় সার্ফ পার্লামেন্টারিয়ান্স স্টাডি ট্যুর কুলাউড়ায় বন্যার্তদের জন্য বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কমলগঞ্জে ১১ শ নারী চা শ্রমিককে রেইনকোট প্রদান করলেন এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর পারিবারিক কলহের জেরে কমলগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ছাতকে চোরাই মোটর নৌকাসহ ৪ জন আটক কমলগঞ্জ হামহামে আটকা পড়া ১০ পর্যটককে উদ্ধার

মানসিক প্রতিবন্দি আফিয়া ও রোবেনার শেকলবন্দি জীবন

  • বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

Manual8 Ad Code

 

জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ::

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় মানসিক রোগাক্রান্ত দু’মেয়েকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক অসহায় মা । না পারছেন চিকিৎসা করাতে, না পারছেন এদের দু’বেলা অন্নের সংস্থান  করতে।  ভিক্ষুক মায়ের যে সাধ্য নেই।

Manual3 Ad Code

উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর (চাক্কাটিলা) গ্রামের মৃত মরতুজ আলীর স্ত্রী জামিনা খাতুনের সাথে কথা বলে জানা যায়- তার স্বামী দিনমজুরের ছিলেন। তাদের সংসারে ৩ মেয়ে। প্রায় ২৫ বছর আগে স্বামী মারা যান। তিনি মানুষের বাড়ি কাজ করে ও ভিক্ষা করে সংসার চালান, মেয়েদের লালন-পালন করে বড় করেন। বড় মেয়ে আফিয়া খাতুনকে বিয়ে দিয়েছিলেন বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকায়। বিয়ের বছর যেতেই তার মৃত সন্তান জন্ম হয়। এনিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ভোগতে শুরু করেন। কিছু দিনের মধ্যে তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।

তখন স্বামী তার কোনো চিকিৎসা না করিয়ে তাকে মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেন এবং পরে তালাক দেন। এতে করে আফিয়ার মানসিক সমস্যা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তা বড় আকার ধারণ করে। তিনি বাধ্য হয়ে মেয়েকে শিকলবন্দী করেন।

দ্বিতীয় মেয়ে রোবেনা বেগম ছিল সহজ-সরল। তাকে একই ইউনিয়নের পশ্চিম হরিরামপুর (মইজন নগর) গ্রামে বিয়ে দেন। বছরান্তে তার সন্তান প্রসবের সময় হলে তাকে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে সিজারিয়ান অপারেশনে তার মৃত সন্তান হয়। একথা শুনে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে হাসপাতাল রেখে পালিয়ে যান। পরে মা ভিক্ষা করে ও জমি বিক্রি করে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যান। সেই থেকে রোবিনা মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। মা বাধ্য হন তাকেও শেকল বেঁধে রাখতে। কেননা, একটু সুযোগ পেলেই সে দৌঁড়ে তার স্বামীর বাড়িতে চলে যায়। যদিও এর মধ্যে স্বামী তাকে তালাক দেয়।

মেয়ে দু’টিকে অর্থাভাবে ও সঠিক জানার অভাবে উন্নত চিকিৎসা করানো হয়নি। সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিবন্দি পরিচয়পত্র মতে, আফিয়া খাতুন মাঝারি ধরণের বুদ্ধি প্রতিবন্দি এবং রোবেনা বেগম মাঝারি ধরণের দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্দি।

 

সরেজমিনে দেখা যায় জামিনা খাতুনের মুলঘরের সাথে একচালা একটি কক্ষে মাটির মধ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দু’বোন শিকলবন্দী অবস্থায় আছেন। মাঝে মধ্যে শিকল খুলে দিয়ে দরজা বাইরে থেকে বেঁধে রাখা হয়। যাতে তারা বের হয়ে যেতে না পারে। বৃদ্ধা মা যতটুকু সম্ভব মেয়েদের পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করেন। তবে ইচ্ছা থাকলেও সকল সময় সেটা সম্ভব হয় না। ভালো কোনো পোশাক তাদের পরানোর সামর্থ্য মায়ের নেই।

Manual2 Ad Code

বৃদ্ধা জামিনা খাতুন বলেন- ভিক্ষা করে পেটের ভাত যোগাইতে কষ্ট হয়। চিকিৎসা কী দিয়ে করব? তাছাড়া ভালো ডাক্তার কই আছে আমিতো জানিনা। আমি একা মানুষ এই পাগল মেয়েদের নিয়ে যাইতেও পারব না।  চিকিৎসা করালে হয়তো আমার মেয়েগুলো ভালো হইতো।

 

 

পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান- এই পরিবারটির অসহায়ত্বের শেষ নেই। জামিনা খাতুন বিধবা ভাতা পান। তার মেয়ে আফিয়া আগে থেকে প্রতিবন্দি ভাতা পায় এবং ছোট মেয়ে চলতি বছর থেকে প্রতিবন্দি ভাতা পাচ্ছে। এছাড়া ঘর মেরামতের জন্য টিন ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকেও যথাসাধ্য সহযোগিতা দেয়া হয়। মেয়েদের চিকিৎসার বিষয়ে কেহ উদ্যোগ নিলে আমরা পাশে থাকবো।

জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাঃ সমরজিৎ সিংহ জানান- মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করালে এরকম রোগী ভালো থাকে। চিকিৎসা খুব বেশী ব্যয়বহুল না হলেও দীর্ঘ মেয়াদে ওষুধ সেবন করতে হয়। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানসিক ইউনিট রয়েছে। সেখানে গেলে ওরা ভালো চিকিৎসা পেতে পারে।

Manual1 Ad Code

অসুস্থ আফিয়া ও রোবেনার চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলা ও আর্থিক সহযোগিতা করতে চাইলে পাঠাতে পারেন জামিনা খাতুনের এই বিকাশ ০১৭৮৫-৬৬৬০১০ নম্বরে। ##

Manual2 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!