বড়লেখা প্রতিনিধি:
বড়লেখা উপজেলা ভূমি অফিসের খতিয়ান জালিয়াতি মামলার (জি.আর-৮২/২৫-বড়) তদন্ত কর্মকর্তা বড়লেখা থানার এসআই প্রণয় রায় এজাহার নামীয় (অভিযুক্ত) সব আসামিকে বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছেন। এতে উপজেলা জুড়ে রহস্য ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে ভূমি অফিসের ভেতরের ও বাহিরের জালিয়াত সিন্ডিকেটকে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসবেন, সেখানে মামলার অভিযোগ থেকে সব আসামিকে বাদ দিয়ে তাদের (আসামিদের) প্রশংসা ও সাফাই গেয়ে এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। রহস্যজনক এই চার্জশীটে বিভিন্ন মহলে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিরাট অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠেছে।
জানা গেছে, বড়লেখার গাজীটেকা-আইলাপুর এলাকার ভূমি মালিক আব্দুল জব্বার গংরা ২০১৯ সালে একটি খতিয়ানের দুইটি দাগের কিছু জমি নামজারি করেন। এসিল্যান্ড অফিসের অসাধু সিন্ডিকেট বিরাট অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে বিভিন্ন খাস খতিয়ানের ভূমি জাল কাগজের মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ডভুক্ত করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভূমি অফিসের অসাধু সিন্ডিকেট আব্দুল জব্বার গংদের ভূমির সাথে সরকারি ১/১ খতিয়ানের ‘খ’ তফশিলের আরেকটি দাগের ১২ শতাংশ ভূমি তৎকালিন এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর জাল করে ভলিয়মে রেকর্ড (নামজারি) করে রাখেন। শুধু তাই নয়, সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি ভূমি কর্মকর্তা মজিদ মিয়া ভুয়া কাগজে নামজারিকৃত উক্ত খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করেন।
গত বছরের ৭ মে রেকর্ড পর্যালোচনায় বিষয়টি এসিল্যান্ড আসলাম সারোয়ারের নজরে আসলে তাৎক্ষণিক তিনি অভিযুক্তদের অফিসে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জালিয়াতি স্বীকার করায় তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। খতিয়ান জালিয়াতির ঘটনায় সার্ভেয়ার শামছুল হুদা ও সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদার মজিদ মিয়ার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা থাকলেও রহস্যজনকভাবে সার্ভেয়ারকে বাদি ও তহশীলদারকে স্বাক্ষী করে ভূমি মালিক আব্দুছ ছাত্তার, আব্দুল জব্বার, আব্দুল কুদ্দুছ, ভুমি অফিসের কর্মচারি রাসেন্দ্র কুমার দাস ও কাব্য চন্দ্রকে আসামি করে থানায় জালিয়াতি মামলা করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরবর্তীতে আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। রেকর্ড জালিয়াতিতে ভূমি অফিসের আর কারা জড়িত তাদের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথাও তদন্ত কর্মকর্তা তখন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিন কারাবাস করে আসামিরা জামিনে মুক্তি পান। বদলিজনিত কারণে ইতিমধ্যে দুইজন তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন হয়। সর্বশেষ বড়লেখা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই প্রলয় রায় চাঞ্চল্যকর মামলাটির সকল আসামিকে বাদ দিয়ে ২৩ এপ্রিল চার্জশীট অগ্রবর্তী করেন। উক্ত চার্জশীটে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই প্রলয় রায় আসামিদের অপরাধ বিশ্লেষণ না করে বরং তাদের প্রশংসা আর সাফাই গাইতেই বেশি তৎপর ছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তার এমন চার্জশীটে সচেতন মহলে প্রশ্ন ওঠেছে, একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি) আসলাম সারোয়ার কী তাহলে তার অফিসের দুইজন কর্মচারি ও তিনজন ভূমি মালিকের বিরুদ্ধে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলা দেওয়ালেন। তাদের ৪ জনকে আটক করে পুলিশে দিলেন। তারা দীর্ঘদিন কারাবরণ করল কার দূষে।
এব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই প্রলয় রায় জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেওয়ার মতো তেমন কোনো এভিডেন্স তিনি পাননি। বাদি চাইলে আদালতে চার্জশীটের বিরুদ্ধে না-রাজি দিতে পারেন।
সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া জানান, তার অফিসের সার্ভেয়ারের দায়েরকৃত খতিয়ান জালিয়াতি মামলার চার্জশীট হয়েছে কি-না জানেন না, খোঁজ নিবেন। চার্জশীটে তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের বাদ দিয়ে থাকলে ইউএনও ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিদের্শনা অনুযায়ি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।