​কুড়িগ্রামে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
​কুড়িগ্রামে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ কুলাউড়ায় মনু নদী থেকে অবৈধভাবে বালু বিক্রির দায়ে ইউপি সদস্যের জরিমানা  বড়লেখা প্রেসক্লাবে মতবিনিময় সভা- ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, মানুষের কল্যাণেই রাজনীতি করি : শরীফুল হক সাজু সংবেদনশীল মানুষ হতে হলে বই পড়তে হবে – যুগ্ম সচিব মোস্তফা মোরশেদ কুলাউড়া পৌরসভায় আইইউজিআইপি প্রকল্প বাস্তবায়নে কচ্ছপ গতি জনদূর্ভোগ চরমে বৃটেনের কার্ডিফ জালালিয়া মসজিদের নতুন কমিটি গঠন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজের হিসাব রক্ষকের অবসর গ্রহণে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে নীরবতা নয়, চাই সম্মিলিত উদ্যোগ গোলাপগঞ্জে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ভাঙচুর ছাতকে পার্কিং করা ট্রাকের পেছনে সিএনজির ধাক্কায় নিহত ২

​কুড়িগ্রামে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ

  • সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

Manual1 Ad Code
মোঃ বুলবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ::
​কুড়িগ্রামের উলিপুরের সাহেবের আলগা থেকে রাজিবপুরের মোহনগঞ্জ পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে কোদালকাটির পাইকান্টারী বল্লভ পাড়া এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ, রাজিবপুর উপজেলা শাখা।
সমাবেশে রাজিবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ কুড়িগ্রাম জেলার সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
​তিনি বলেন, “চরের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ছাড়া কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। চরে নাজুক শিক্ষাব্যবস্থার কারণে বাল্যবিবাহ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যার ফলে প্রতিবন্ধী শিশু জন্মের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে কুড়িগ্রামে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা প্রায় এক লাখ।”
​জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, ব্রহ্মপুত্রের বন্যা ও নদীভাঙনে প্রতিবছর পাঁচ হাজার পরিবার এক চর থেকে অন্য চরে স্থানান্তর হতে বাধ্য হয়। এছাড়া গত পাঁচ বছরে ভাঙনে সব হারিয়ে টিকতে না পেরে প্রায় ছয় হাজার পরিবার ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে।
মানববন্ধন ও সভাবেশের বক্তব্যে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, নদী বেষ্টিত জেলা কুড়িগ্রাম এ জেলায় রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৫ শতাধিক চর।
তারা নদী ভাঙন, বন্যা খরা,সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে একপ্রকার যুদ্ধ করে বেচে থাকে, তাদের একমাত্র দাবি নদী ভাঙনরোধে  কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, এই দাবীর সাথে একমত পোষণ করে তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর অনেক উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে নদী ভাঙনের ক্ষতিপূরণ দেয় সে দেশের সরকার, অথচ আমাদের দেশে নদী ভাঙনে বাড়ি – ভিটা ভেঙ্গে গলে তা সরকারি খাস হয়ে যায়। তিনি এদেশেও ভাঙনের ক্ষতিপূরণ সহ নদী ভাঙন রোধে বতর্মান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র কাছে জোর দাবি জানান।
​সমাবেশ থেকে সাহেবের আলগা থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত প্রস্তাবিত সাড়ে ৮০০ কোটি টাকার স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন দাবি করা হয়। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএর কার্যকর ভূমিকার অভাব তুলে ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আদলে পৃথক ‘চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবি জানান বক্তারা। দেশে ৩২টি জেলার ১০০টি উপজেলার প্রায় দেড় কোটি চর ও নদীপাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
​অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু দারদা হেলাল, ওয়াজেদ আলী ঝিনুক, চিলমারী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুল হক, রাজিবপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান মাস্টার এবং মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম আনু, সাংবাদিক হাবিবুর রহমান সহ ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা।
​নদীভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ বিভিন্ন নদীর ৪২টি ভাঙন পয়েন্টে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ লাখ ২২ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরোধমূলক কাজ করা হয়েছে। নতুন করে আরও ৬টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে, যা বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই কাজ শুরু করা হবে।
​একই বিষয়ে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, নদীভাঙনে মানুষ যেন দুর্ভোগে না পড়ে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক ভাঙন প্রতিরোধে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে ১ লাখ ৭৪ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!