নিহত তারা মিয়ার পরিবারের সদস্যদের দাবি, চোরাকারবারিরা নিজেরা ঝুঁকি না নিয়ে তরুণ ও কম বয়সী ছেলেদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্তের ওপারে পাঠায়। তাদের মতে, এই প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
নিহতের বড় ভাই রাজু জানান, আমার ভাই অভাবী ছিলো না। আমাদের ঘরবাড়ি আছে, গাড়িও আছে। যারা চোরাকারবারি আছে, তারা লোভ দেখিয়ে এবং জোর করে আমার ভাইকে নিয়ে যায়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, রাত ২টার দিকে আমি স্থানীয় রবিরবাজারে ছিলাম। তখন একজন আমাকে ফোন দিয়ে বলে, তারা মিয়াকে পাওয়া যাচ্ছে না, খুঁজতে হবে। পরে জানতে পারি সে সীমান্তের দিকে গেছে।
রাজু আরও বলেন, চোরাকারবারিরা নিজেরা মাল আনতে যায় না। ছোট ছোট ছেলেদের লোভ দেখিয়ে মাল আনতে পাঠায়। এক-দেড় বছর আগেও আমার পাশের ঘরের ১৩ বছরের একটি ছেলে বিএসএফের গুলিতে মারা গেছে। আমার ভাই তো মারা গেছে, তাকে আর পাবো না। আমি চাই আর কেউ যেনো এই কাজে না যায় এবং আর কোনো পরিবার যেনো এভাবে স্বজন না হারায়।
নিহতের আরেক ভাই রজাক আলী বলেন, যারা আমার ভাইকে নিয়ে গেছে এবং মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে, আমরা তাদের সঠিক বিচার চাই।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা মিয়ার মা বলেন, আমি সবসময় কইছি, আমার ফুয়ারে (ছেলেকে) ইতার মধ্যে না নেওয়ার লাগি। এর বাদেও তারা আমার ফুয়ারে নিয়ে গেছে। আমি আমার ফুয়ার উপযুক্ত বিচার চাই।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চোরাকারবার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং সীমান্তবর্তী এলাকার তরুণদের এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন তারা।
উল্লেখ্য, রোববার (৯ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে মাগুরুলি এলাকায় চোরাকারবারিদের একটি দল যাওয়ার সময় বিএসএফের গুলিতে তিনি নিহত হন বলে জানিয়েছে বিজিবি। নিহত তারা মিয়া উপজেলার মুড়ইছড়া বস্তি এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে। #