মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু বলেছেন, এই নাসিরুউদ্দিন পাটোয়ারী। মানুষ বলে এজিদের কথা। এজিদ একটা ঘৃণিত নাম হয়ে গেছে, তার নাম শুনলে মানুষ গালি দেয়। আরেকটি নাম হলো মীর জাফর। মীর জাফর কিন্তু মানুষের নাম ছিল। সেটা গালিতে রুপান্তরিত হয়েছে। সবাই মীর জাফর বলে ডাক দিলে বলে বেঈমান। কিছুদিনের মধ্যে মানুষ নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে গালি দিয়ে বলবে দুর পাটোয়ারী, পাটোয়ারী যা এখান থেকে। এই পাটোয়ারী নাম মীরজাফর ও এজিদের মতো একটা গালিতে পরিণত হবে। এটা আমরা বিশ্বাস করি। তার একমাত্র কারণ সে যে অশ্রাব্য ভাষায় কথাবার্তা বলে সেটা সহনীয় নয়। কিন্তু আমরা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আমরা কোনো অন্যায়ে বিশ্বাস করি না। আমরা সুশৃঙ্খল রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। এদেশে যতবারই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এটা আমার নেতা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমুন্নত রাখবেন এটা আমি বিশ্বাস করি এবং সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র্যালী শেষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা তিনি বলেন।
তিনি বলেন, পৃথিবীর বহু দেশে বহু স্বৈরশাসকের পতন হয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে ২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে একটি স্বৈরশাসকের পতন হয়েছে। এটা শুধু একটি উদাহরণ নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে আরো বহু উদাহরণ রয়েছে। হিটলার, মুসোলিনি, ইরাকের সাদ্দাম, লিবিয়ার গাদ্দাফিসহ অনেক মতো স্বৈরশাসক বিভিন্নভাবে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে এবং বাংলাদেশেও একই ভাবে স্বৈরশাসকের সরকারের পতন হয়েছে। আমরা ২৪ কে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। তাই বলে এই নয়, আমরা ৫২, ৭১ ও ৯০ কে ভুলে যাবো। স্বাধীনতা আমাদের নয়নমনি, যে স্বাধীনতায় আমাদের বিশে^র দরবারে একটি মানচিত্র উপহার দিয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে, বাংলাদেশী হিসেবে সারা বিশে^ পরিচিতি লাভ করেছি, তার উপরে কোন কিছু যেতে পারেনা। কিন্তু আমার কিছু কিছু ভাইয়েরা আছেন যারা ২৪ এর কথা বলেন স্বাধীনতার কথা বলতে তাদের জন্য লজ্জা হয়। এখন পর্যন্ত মনেপ্রাণে তারা স্বাধীনতাকে স্বীকার করেনা। এখন তারা বিভিন্ন পায়তারা করে। তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।
এনসিপিকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, আপনারা ৫২ এর কথা শুনেন নাই, শুনলেও সেটা বলেন না, ৯০ এর কথাও বলেন না, ৭৪ এর দুর্ভিক্ষের কথা বলেন না, একদলীয় শাসন ব্যবস্থার কথা, বাকশাল প্রতিষ্ঠার কথা, আপনারা এগুলো বলেন না, এনসিপির ভাইয়েরা আপনাদের স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে যায় না। আপনারা স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে আছেন এটা দেখলেই আমাদের লজ্জা হয়, ঘৃণা হয় এবং আপনাদের দুই-একজন নেতা অশ্রাব্য ভাষায় বক্তব্য দেন।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল জলিল জামালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজলের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক আহবায়ক রেদওয়ান খান, সাবেক সহ-সভাপতি এস এম জামান মতিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরী, সাবেক সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান মনির, আলমগীর হোসেন ভুঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কমর উদ্দিন আহমদ কমরু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ময়নুল হক বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুক্তাদির মনু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুফিয়ান আহমদ, আব্দুল মুক্তাদির মুক্তার, দেলোয়োর হোসেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা নজরুল ইসলাম খান, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জুবের আহমদ খান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক কাওসার আহমদ নিপার, যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মুহিত বাবলু, পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মুসা আহমদ সুয়েট, যুগ্ম আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম রাজন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রেজাউল আলম ভুঁইয়া খোকন, সদস্য সচিব গিয়াস মোল্লাসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। #