যান্ত্রিকতার আগ্রাসনে ‘ঢেঁকি’ এখন শুধুই স্মৃতি – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মনু নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ : দুই ঘণ্টা পর কমলগঞ্জের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার দেশ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট দিন – কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন আত্রাইয়ে চাঞ্চল্যকর সুমন হত্যার রহস্য উদঘাটন দীর্ঘ ১৯ মাস পর দেহাবশেষ উদ্ধার  ধর্মের নাম ব্যবহার করে মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে বেহেশতের টিকিটের লোভ দেখানো হচ্ছে”- এম নাসের রহমান  মৌলভীবাজার -২ (কুলাউড়া) কেন্দ্রিয় আমীরে জামায়াত শফিকুর রহমানকে উপহার দিতে চায় কমলগঞ্জে পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে শ্রীমদ্ভাগবত গীতা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত কমলগঞ্জে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত গ্রেনেড উদ্ধার : বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে বিজিবির বিশেষ অভিযান : বড়লেখা সীমান্তে ভারতীয় অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার মৌলভীবাজার-১ আসন- গণফ্রন্ট প্রার্থী শরিফুল ইসলামের মতবিনিময় সুনামগঞ্জ–৫ আসন : ১০ দলীয় প্রার্থী হাফিজ মাওলানা আব্দুল কাদিরের সংবাদ সম্মেলন

যান্ত্রিকতার আগ্রাসনে ‘ঢেঁকি’ এখন শুধুই স্মৃতি

  • শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২২

Manual3 Ad Code

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: : ‘ও বউ ধান ভানে রে, ঢেঁকিতে পার দিয়া…।’ ঢেঁকির পাড়ে পল্লিবধূদের এমন গান এক সময় গ্রাম-বাংলার গ্রামীণ জনপদে সবার মুখে মুখে থাকত। ধান থেকে চাল, তা থেকে আটা। একসময়ে উত্তর জনপদের শষ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর আত্রাইয়ে চাল আর আটা প্রস্তুতের একমাত্র মাধ্যম ছিল ঢেঁকি। নবান্ন এলেই ঢেঁকির পাড়ে ধুম পড়ত নতুন ধানের চাল ও আটা তৈরির। আর শীতের পিঠা তৈরি আয়োজন চলত উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে।

Manual1 Ad Code

তবে কালের বিবর্তনে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে ঢেঁকি। আর বর্তমানে নতুন প্রজন্মের কাছে ‘ঢেঁকি’ শব্দটি শুধু অতীতের গল্প মাত্র। বাস্তবে এর দেখা মেলা ভার। উপজেলার দুএক জায়গায় থাকলেও ব্যবহার তেমন একটা নেই। আশির দশক থেকে ক্রমে বিলুপ্তির পথে ঢেঁকি।

Manual4 Ad Code

উপজেলার প্রবীণ লোকজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এক সময় ঢেঁকিতে তৈরি করা আটা দিয়ে গ্রামের ঘরে ঘরে প্রস্তুত করা হতো পুলি, ভাপা, পাটিসাপটা, তেলে ভাজা, চিতইসহ নানা ধরনের বাহারি পিঠা-পুলি। পিঠার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ত এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায়। উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপন করা হতো নবান্ন উৎসব। গ্রামীণ জনপদগুলোতে এখন বিরাজ করছে শহুরে আবেশ। তাই গ্রামে গ্রামে আর ঢেঁকি নেই, নেই পল্লিবধূদের মনমাতানো গান। কিছু জায়গায় নবান্ন উৎসব হলেও পিঠা-পুলির সমাহার আর চোখে পড়ে না। গ্রামবাংলার এমন চিরায়ত সব ঐতিহ্য এখন শুধুই স্মৃতি।

ঢেঁকিছাঁটা চাল শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী হওয়ায় তা দিয়ে গ্রামের শিশুদের জাউ তৈরি করে খায়ানো হতো। কিন্তু কাল চক্রের বিবর্তন ও যান্ত্রিক সভ্যতার আগ্রাসনে হারিয়ে যাচ্ছে ধান থেকে চাল-আটা তৈরির একমাত্র মাধ্যম গ্রামীণ ঢেঁকি।

সভ্যতার প্রয়োজনে ঢেঁকির আবির্ভাব ঘটেছিল। আবার গতিময় সভ্যতার যাত্রায় প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে ঢেঁকি বিলুপ্তি হচ্ছে। একে না মেনে নিয়ে উপায় নেই। আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরেও তেমন একটি ঢেঁকিরও দেখা মেলে না। আধুনিক যুগে সেই ঢেঁকির জায়গা দখল করে নিয়েছে বিদ্যুৎ–চালিত মেশিন। গ্রামগঞ্জে গড়ে উঠেছে মিনি রাইস মিল। ফলে ঢেঁকির অস্তিত্ব আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। ঢেঁকিছাঁটা চাল আজ আর নেই। এখন আর আগের মতো ঢেঁকিতে ধান ভানার দৃশ্যও চোখে পড়ে না। ভোরের স্তব্ধতা ভেঙে শোনা যায় না ঢেঁকির ‘ঢেঁকুর’ ‘ঢেঁকুর’ শব্দ। চোখে পড়ে না বিয়েশাদির উৎসবে ঢেঁকিছাঁটা চালের ক্ষীর–পায়েস রান্না। অথচ একদিন ঢেঁকি ছাড়া গ্রাম কল্পনা করা কঠিন ছিল।

একসময় গ্রামের প্রায় সব সম্ভ্রান্ত পরিবারেই ঢেঁকি ছিল। ধান ভাঙা কল আমদানির পর গ্রমাঞ্চল থেকে ঢেঁকি বিলীন হওয়া শুরু হয়। ফলে গ্রামের মানুষ ভুলে গেছেন ঢেঁকিছাঁটা চালের স্বাদ। যান্ত্রিক সভ্যতা গ্রাস করেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঢেঁকিশিল্পকে। বর্তমান যুগের অনেকেই ঢেঁকি চেনে না। কালের পাতায় স্মৃতি হয়ে যাচ্ছে ঢেঁকি। যেখানে বসতি সেখানেই ঢেঁকি, কিন্তু আজ তা আমাদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য থেকে মুছে যাচ্ছে। হাতের কাছে বিভিন্ন যন্ত্র আর প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় ঢেঁকির মতো ঐতিহ্যবাহী অনেক কিছুই এখন হারিয়ে যাচ্ছে।

ঢেঁকি বড় কাঠের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি। লম্বায় অন্তত ছয় ফুটের মতো। এর অগ্রভাগের মাথার কাছাকাছি দেড় ফুট লম্বা মনাই। মনাইয়ের মাথায় পরানো লোহার রিং (আঞ্চলিক ভাষায় চুরনও বলা হয়)। চুরন বারবার যেখানে আঘাত করে নিচের সেই অংশটুকুর নাম গর। সেটিও কাঠের তৈরি। ঢেঁকিতে ধান বা চাল মাড়াই করতে কমপক্ষে তিনজন মানুষের প্রয়োজন হয়। পেছনের লেজবিশিষ্ট চেপ্টা অংশে এক বা দুজন পা দিয়ে তালে তালে চাপ দিলে মনাই সজোরে গরের ভেতর ধান বা চালের ওপর আঘাত করে। তবে মনাই ওঠানামার ছান্দিক তালে তালে আরও একজন নারী ধান–চাল মাড়াই করতে সাহায্য করে। তবে ঢেঁকিতে পাড় দেওয়া আর আলি দেওয়ার মধ্যে সঠিক সমন্বয় না থাকলে ঘটতে পারে ছন্দপতন।

Manual5 Ad Code

বর্তমান সময়ে কিছু কিছু বাড়িতে ঢেঁকি থাকলেও তা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ব্যবহার করা হয়। আগের তা হতো না। এখন প্রতি কেজি চাল থেকে আটা প্রস্তুত করতে নেওয়া হয় ১০ থেকে–১২ টাকা। ঢেঁকির মালিক নিজের লোকবল দিয়েই ওই আটা প্রস্তুত করেন। আধুনিক মেশিনে প্রস্তুত করা আটার তৈরি পিঠায় স্বাদ না থাকায় কিছু মানুষ টাকা দিয়েই ঢেঁকিতে আটা তৈরি করতে আসে। #

Manual8 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন


Deprecated: File Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/eibela12/public_html/wp-includes/functions.php on line 6121

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!