১৪ জুন কমলগঞ্জের মাগুরছড়া ট্রাজেডি দিবস – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বড়লেখায় ইলেক্ট্রিসিয়ানের আ*ত্ম*হত্যা : পলি ক্লিনিকের স্টাফ নার্স কারাগারে বড়লেখায় ১৬ ব্যাংকের প্রকাশ্যে কৃষিঋণ বিতরণ : ৪০ কৃষক পেলেন ৭৫ লাখ টাকার চেক শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখালেন এমপি মাহফুজা সিদ্দিকা অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন চিলমারীর পিআইও অফিসের কর্মচারী কুড়িগ্রামে এসএসবিসি প্রকল্পের আয়োজনে স্বাস্থ্য বিষয়ে কমিউনিটি অ্যাকশন প্ল্যানিং সভা মৎস্য সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার : এমপি লুনা ছাতক উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন বড়লেখায় জাতীয় মৎস্য পক্ষে র‌্যালি আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান কমলগঞ্জে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতে ‘গুড নেইবারস বাংলাদেশ’ সিডিপির নেটওয়ার্ক ক্যাম্পেইন কমলগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি সদস্যসহ আটক ২

১৪ জুন কমলগঞ্জের মাগুরছড়া ট্রাজেডি দিবস

  • রবিবার, ১৪ জুন, ২০২০

Manual6 Ad Code

২৩ বছরেও ক্ষতিপূরণ আদায় হয়নি

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, কমলগঞ্জ ::

আবার ফিরে এসেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জবাসীর ভয়াল স্মৃতির দিন ১৪ জুন রোববার মাগুরছড়া ট্রাজেডির ২৩তম বার্ষিকী। ১৪ জুন আসলেই মৌলভীবাজার জেলাবাসীকে মনে করিয়ে দেয় সেই ভয়াল স্মৃতির কথা। সেদিন মানুষের মন কত ভীত ছিল। কখন এসে আগুনের লেলিহান শিখায় গ্রাস করে ফেলবে।

১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মধ্যরাতে ১টা ৪৫ মিনিটে মাগুরছড়া গ্যাসকূপে বিস্ফোরণের প্রচন্ড শব্দে কেঁপে ওঠে ছিল গোটা কমলগঞ্জ। আগুনের লেলিহান শিখায় লাল হয়ে উঠেছিল মৌলভীবাজার জেলার সুনীল আকাশ। ভীত-শন্ত্রস্থ লোকজন ঘরের মালামাল রেখে প্রাণভয়ে ছুটে ছিল দিগ্বিদিক। প্রায় ৫০০ ফুট উচ্চতায় লাফিয়ে উঠা আগুনের লেলিহান শিখায় লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল বিস্তীর্ণ এলাকা।

আগুনের শিখায় গ্যাসফিল্ড সংলগ্ন লাউয়াছড়া রিজার্ভ ফরেষ্ট, মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জি, জীববৈচিত্র্য, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, ফুলবাড়ী চা বাগান, সিলেট-ঢাকা ও সিলেট- চট্টগ্রাম রেলপথ এবং কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। দেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ঘনগভীর বন ও এর সাহচর্যে থাকা বিপুল সংখ্যক প্রাণীবেচিত্র্য। ক্ষতির মুখোমুখি হয় রেল ও সড়কপথ, পানজুম, বিদ্যুৎ লাইনসহ এই অঞ্চলের অসংখ্য স্থাপনা। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মার্কিন গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান অক্সিডেন্টাল ক্ষয়ক্ষতির আংশিক পরিশোধ করলেও কোন ক্ষতিপূরণ পায়নি বন বিভাগ। ফিরে আসেনি প্রাকৃতিক বনের স্বাভাবিকতা। পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না দিয়েই ইউনিকলের কাছে হস্তান্তরের পর সর্বশেষ শেভরনের কাছে বিক্রি হয়েছে এই গ্যাসক্ষেত্র। শেভরন ২০০৮ সালে ওই বনে ত্রি-মাত্রিক ভ‚তাত্তি¡ক জরিপ কাজ সম্পন্ন করে। এতেও স্থানীয়ভাবে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।

Manual3 Ad Code

২০১২ সনে শেভরন মৌলভীবাজার ১৪নং ব্লকের অধীনে নূরজাহান, ফুলবাড়ি এবং জাগছড়া চা বাগানের সবুজ বেষ্টনি কেটে কূপ খননের পর এসব কূপ থেকে চা বাগানের ভেতর দিয়ে ড্রেন খনন করে পাইপ লাইনের মাধ্যমে উত্তোলিত গ্যাস কালাছড়ার মাধ্যমে রশীদপুর গ্রীডে স্থানান্তর চলছে। মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৩ বছরেও জনসম্মুখে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রকাশ হয়নি, আদায় হয়নি ক্ষতিপূরণ।

মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে ১৪ জুন রোববার সকাল ১১ টায় পাহাড় রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটি ও কমলগঞ্জ উন্নয়ন পরিষদ এর উদ্যোগে মাগুরছড়া গ্যাস বিষ্ফোরণে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও কমলগঞ্জের ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগের দাবীতে কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনা চত্বরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এছাড়া বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালন করবে।

পরিবেশ সংরক্ষণবাদীদের তথ্য মতে, ৬৩ প্রজাতির পশু-পাখির বিনাশ সাধন হয়। সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেলযোগাযোগ ১৬৩ দিন বন্ধ থাকে। মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ১৫ হাজার কোটি টাকা। মার্কিন অক্সিডেন্টাল ক্ষয়ক্ষতির আংশিক পরিশোধ করলেও বন বিভাগ কোন ক্ষতিপুরণ পায়নি। ফিরে আসেনি এখনো প্রাকৃতিক বনের স্বাভাবিক পরিবেশ। পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না দিয়েই ইউনিকলের কাছে হস্তান্তরের পর সর্বশেষ শেভরনের কাছে বিক্রি করেছে। শেভরন ২০০৮ সালে ওই বনে ত্রি-মাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ কাজ সম্পন্ন করে। এতেও স্থানীয়ভাবে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।

২০১২ সনে শেভরন মৌলভীবাজার ১৪ নং বøকের অধীনে নূরজাহান, ফুলবাড়ি এবং জাগছড়া চা বাগানের সবুজ বেষ্টনি কেটে কূপ খননের পর এসব কূপ থেকে চা বাগানের ভেতর দিয়ে ড্রেন খনন করে পাইপ লাইনের মাধ্যমে উত্তোলিত গ্যাস কালাছড়ার মাধ্যমে রশীদপুর গ্রীডে স্থানান্তর চলছে। বিভিন্ন সংগঠন মাগুরছড়া দুর্ঘটনার যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে আন্দোলন পরিচালনা করে এলেও দীর্ঘ ২২ বছরেও ক্ষতিগ্রস্থদের দাবিকৃত ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।

গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আজ পর্যন্ত জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। তৎকালীন সরকার ক্ষতিপূরণ আদায়ের জোরালো ভূমিকা পালন করেনি। ফলে মাগুরছড়া দুর্ঘটনার ২৩তম বার্ষিকী পূর্ণ হলেও ক্ষতিপূরণ আদায় নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে আজো ক্ষতিপূরণ না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থরা নিরবে চোখের জল ফেলছে। এ নিয়ে মৌলভীবাজার তথা সিলেটের জনমনে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।

গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের পরিত্যক্ত এলাকার উত্তর টিলায় সবুজায়ন করা হয়েছে। মূল কূপটি এখনো পুকুরের মতো ধারণ করে টিকে আছে। চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী করা হয়েছে। টিলার ওপর সবুজ বনায়নের উদ্যোগ নিলেও মাঝে মধ্যে আগুনের পোড়া ডালপালাবিহীন কালো রঙের গাছগুলো অগ্নিকান্ড দুর্ঘটনায় সাক্ষী এখনো দাঁড়িয়ে আছে।

দীর্ঘ ২৩ বছরেও বাংলাদেশ মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণের তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারেনি। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে মাগুরছড়া বিস্ফোরণে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। অক্সিডেন্টাল, শেভরন কি ইউনোকল কোনো বহুজাতিক কোম্পানির কাছ থেকেই এই ক্ষতিপুরণ আদায় করতে পারেনি রাষ্ট্র। মার্কিন নানা বহুজাতিক কোম্পানির মাধ্যমে এই সব নিপীড়ন সংঘটিত হলেও আবারও প্রশ্নহীন কায়দায় মার্কিন সরকারের সহায়তায় এই বনভূমিতেই চালু হয়েছে নিসর্গসহায়তা প্রকল্প এবং তার লেজ ধরে আইপ্যাক কর্মসূচি এবং তারও লেজ ধরে ক্রেল প্রকল্প। নিসর্গ, আইপ্যাক ও ক্রেল কী করেছে? পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষার নামে লাউয়াছড়া বনকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। নির্দয়ভাবে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে চালু করেছে বাণিজ্যিক পর্যটন।

Manual2 Ad Code

১৯৯৭ সাল থেকে ঘটে চলা লাউয়াছড়া বনের ওপর নানা বিচারহীন বহুজাতিক আঘাত সমূলে ঢেকে ফেলছে। বাণিজ্যিক পর্যটনের নামে জনগণের স্মৃতি থেকে লাউয়াছড়ার ওপর লাগাতার বহুজাতিক জখমের দাগ মুছে দিতে একের পর এক উন্নয়ন-উন্মাদনা তৈরি করছে। নতুনভাবে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ বাংলাদেশের এক ব্যস্ত পর্যটন অঞ্চল হয়ে উঠেছে। লাউয়াছড়া-মাগুরছড়া এই পর্যটনের এক অবশ্য গন্তব্য ও দর্শনীয় স্থান। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে মাগুরছড়া বিস্ফোরণের স্মৃতি জোর করে মুছে দেয়া হচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে লাউয়াছড়া ফরেষ্ট বিটের অভ্যন্তরে মাগুরছড়া এলাকায় ১৯৮৪-৮৬ ও ১৯৯৪ সালে সাইসলিক সার্ভেতে গ্যাস মজুদের সন্ধান পাওয়া যায়। এ প্রেক্ষিতে উৎপাদন ভাগাভাগির চুক্তিতে ১৯৯৫ সালের ১১ জানুয়ারী মার্কিন বহুজাতিক তেল ও গ্যাস উত্তোলণকারী কোম্পানী অক্সিডেন্টালের সাথে বাংলাদেশ সরকারের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং গ্যাস উত্তোলনের জন্য ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমতি প্রদান করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর অক্সিডেন্টাল কোম্পানী মাগুরছড়ায় গ্যাস ফিল্ডের ড্রিলিং কাজের জন্য সাবলিজ প্রদান করেছিল ডিউটেক নামের জার্মান কোম্পানীর কাছে। গ্যাস উত্তোলনে ১৪ নং ব্লকের মাগুরছড়াস্থ মৌলভীবাজার-১ গ্যাসকূপের খননকালে ৮৫০ মিটার গভীরে যেতেই ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মধ্য রাতে ঘটে ভয়াবহ বিষ্ফোরণ।

এ সময় শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ ১৫ কিলোমিটার  (৩৩ হাজার কেভি) উচ্চতাপ বৈদ্যুতিক লাইন পুড়ে নষ্ট হয়। কুলাউড়া, বড়লেখা ও কমলগঞ্জ উপজেলার ৫০ টি চাবাগানে দীর্ঘদিন স্থায়ীভাবে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয়। ৬৯৫ হেক্টর বনাঞ্চলের বৃক্ষ সম্পদ, পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়া ২৪৫ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে নষ্ট হয়, যার বাজার মূল্য দাঁড়ায় ৫০ কোটি ডলার। গ্যাস বিস্ফোরণের পর অক্সিডেন্টাল তাদের সহোদর ইউনোকলের কাছে দায়িত্ব দিয়ে এ দেশ ত্যাগ করলে দুই বছর পর ফুলবাড়ি চা বাগান, পার্শ্ববর্তী মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির বাড়ি-ঘর, পান জুম এলাকার ক্ষয়ক্ষতি বাবদ আংশিক টাকা প্রদান করে ইউনোকল।

অন্যদিকে দূর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি কমলগঞ্জ শ্রীমঙ্গল সড়ক ধারে সামাজিক বনায়নের রোপিত গাছের জন্য ৩ ব্যক্তিকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতি পূরণ প্রদান করা হয়। দীর্ঘ ৬ মাস কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকার কারণে ক্ষতিপূরণ বাবত বাস মালিক সমিতিকে ২৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়াও বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে কিছু ক্ষতিপুরন দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরিবেশ ও গ্যাস বাবত কোন ক্ষতিপূরণ করা হয়নি এবং কোন সরকারই ক্ষতিপূরণ আদায়ে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় জনমনে সন্দেহ বিরাজ করছে। দুর্ঘটনার পর তৎকালীন সরকারের খনিজ ও জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি ১৯৯৭ সালের ৩০ জুলাই মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট পেশ করে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী অক্সিডেন্টালের দায়ীত্বহীনতাকেই দায়ী করা হয়।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বামগণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, ন্যাপ, জাসদ, বাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন-এর উদ্যোগে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার সমগ্র সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, পদযাত্রা আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রের কারণে অক্সিডেন্টালের বিরুদ্ধে জনগণের ক্রোধ-আন্দোলনেও জনগণের সম্পদ ধ্বংসের ক্ষতিপ‚রণ আদায় করা সম্ভব হয়নি। শেভরনের জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সরবরাহ, বছরে ভর্তুকী ৫,১৫৬ কোটি টাকা মাগুরছড়া মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের একটি জায়গার নাম। ১৯৯৭ সালের জুন মাসে স্থানটি রাতারাতি সর্বাধিক গুরুত্বপ‚র্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ শিরোনামে পরিণত হয়। এখনো প্রতি বছর ‘মাগুরছড়া দিবস’- ছাড়াও মাঝে মাঝে সংবাদ শিরোনামে মাগুরছড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে জনগণের সামনে আবির্ভূত হয়।

মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মন্ত্রী জিডিসন প্রধান সুচিয়ান এর মতে, এ ঘটনার মধ্যদিয়ে প্রাকৃতিক বনের যে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা কেউ বুঝতে পারবে না। আমরা যারা এই বনে বসবাস করছি তা বুঝতে পারছি। বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, বনের ১৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি নিরূপন করে দেয়া হলে এ পর্যন্ত কিছুই পাওয়া যায়নি। প্রাকৃতিক বনের ক্ষতি কোন সময়ে পুষিয়ে উঠার নয়।

মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট কলামিষ্ট সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ২৩ বছর পূর্ণ হয়েছে। মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানী শেভরন বাংলাদেশ চলে গেলে ক্ষতিপূরণের কী হবে? তাই সরকারকেই এ ব্যাপারে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাগুরছড়া ব্লো আউটে গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য আমারা ১০ দফা দাবীতে দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি।

Manual5 Ad Code

বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বনের ক্ষতি নিরূপন করে দেয়া হলে এ পর্যন্ত কিছুই পাওয়া যায়নি। প্রাকৃতিক বনের ক্ষতি কোন সময়ে পুষিয়ে উঠার নয়। মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরনে ক্ষতিপূরন প্রদানে কোন অগ্রগতি নেই। পূর্বে যে অবস্থায় ছিল এখনও সে অবস্থা।

এ ব্যাপারে আলাপকালে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন শনিবার বিকেলে এ প্রতিনিধিকে জানান, আমার কাছে ক্ষতিপূরণের কোন আবেদন অপেক্ষমান নেই। পূর্বে যেগুলো এসেছিল তাদেরকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিপূরণের জন্য কেউ আমার কাছে আসেনি। আবেদন আসলে অবশ্যই বিবেচনা করা হবে।

এদিকে মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে ১৪ জুন রোববার সকাল ১০ টায় জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি ও পাহাড় রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটি ও কমলগঞ্জ উন্নয়ন পরিষদ এর উদ্যোগে মাগুরছড়া গ্যাস বিষ্ফোরণে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও কমলগঞ্জের ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগের দাবীতে কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের মাগুরছড়ায় পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসুচীর আয়োজন করেছে। এছাড়া বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালন করবে।

Manual7 Ad Code

মাগুরছড়া বিস্ফোরণের পরের ১০ বছর এ নিয়ে কিছু তৎপরতা ছিল, গণমাধ্যমেও ছিল সরব আওয়াজ। কিন্তু ১০ বছরে এ নিয়ে যেন কোনো রা নেই, কোনো প্রশ্ন নেই। ২০১০ সালের পর থেকে মাগুরছড়া বিস্ফোরণ নিয়ে গণমাধ্যমে কেবলমাত্র ১৪ জুন তারিখে একটি বক্স কলামে স্মরণজাতীয় খবর প্রকাশ ছাড়া আর কোনো লেখাই নজরে আসেনি। ঝলসানো জঙ্গল থেকে আবারও ঘাড় তুলে দাঁড়িয়েছে এক নতুন লাউয়াছড়া বন। কিন্তু নির্দয়ভাবে এ বনটি আবারও আরেক মার্কিন দাতা সংস্থা ইউএসএইডের খবরদারি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। অক্সিডেন্টাল, ইউনোকল ও শেভরনের পর ইউএসএইড। লাউয়াছড়ার বৃক্ষগুল্ম, তরুলতা, বননির্ভর আদিবাসী, চা-বাগান শ্রমিক, প্রাণিকুল সবাই বহন করে চলেছে একের পর এক অন্যায় বহুজাতিক আঘাত।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!