ভূমিকম্পের আতঙ্কে দেশজুড়ে তৌহিদি অনুভূতির জাগরণ: নীরব ধাক্কায় মানুষ ফিরছে আত্মসমালোচনায় – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কমলগঞ্জে সাদার গুড়া না পাওয়ায় দোকানে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ হলোখানা ইউনিয়নের ষ্টেন্ডিং কমিটির সাথে ওয়ার্ল্ড ভিশনের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর মৌলভীবাজারে ছাত্রশিবিরের ২ দিনব্যাপী ‘সাথী শিক্ষাশিবির’ সম্পন্ন কমলগঞ্জের দেওড়াছড়া চা বাগানে ৩ সপ্তাহ ধরে মজুরী বন্ধ শ্রমিকদের আন্দোলন : অফিসে তালা আত্রাইয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ প্রাথমিক বৃত্তি-২০২৫ বড়লেখায় প্রথম দিনেই ৩১ পার্সেন্ট পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত লন্ডন ইম্পেরিয়াল গ্রুপের ঈদ পুনর্মিলনী ও সাধারণ সভা কমলগঞ্জে দুবৃর্ত্তের আগুনে পুড়ে ছাই কৃষকের স্বপ্ন ৫ লক্ষাধিক টাকার কৃষি উপকরণ নষ্ট কমলগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলা সমাপ্ত কমলগঞ্জে ১৭-১৮ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী মণিপুরি থিয়েটারের বিষু ও বর্ষবরণ উৎসব

ভূমিকম্পের আতঙ্কে দেশজুড়ে তৌহিদি অনুভূতির জাগরণ: নীরব ধাক্কায় মানুষ ফিরছে আত্মসমালোচনায়

  • শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫

Manual6 Ad Code

আনোয়ার হো‌সেন র‌নি

Manual2 Ad Code

আজ ২১ ন‌ভেম্বর ২৫ শুত্রুবার সকা‌লে দিকে দেশে সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্প যেন কয়েক সেকেন্ডের জন্য পুরো জাতিকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছিল।

স্বাভাবিক দিনের ব্যস্ততা, যানজট, বাজারের কোলাহল, দাপ্তরিক কাজ—সবকিছু হঠাৎ থমকে যায় প্রবল কম্পনের মুহূর্তে। মানুষ দৌড়াতে শুরু করে ঘর থেকে, কেউ শিশু কোলে, কেউ বৃদ্ধ মা–বাবাকে ধরে, আবার কেউ নিজের জীবন বাঁচাতে ছুটে পড়ে খোলা মাঠে কিংবা রাস্তায়।

কিন্তু আতঙ্কের এই দৃশ্যের মধ্যেই খুব দ্রুত ফুটে ওঠে আরেকটি চিত্র—মানুষের চোখে পানি, মুখে তওবা–ইস্তিগফার, হাতে তসবিহ, আর কণ্ঠে কাঁপা উচ্চারণ—“আল্লাহু আকবরৃ আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।”অনেকেই আল্লাহর কুদরত স্মরণ করে শুকরিয়া আদায় করেছেন আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাদের বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন।”

এই একটি বাক্যই যেন চলমান ভীতিকর বাস্তবতার মাঝে মানুষের হৃদয়ের অনুভূতি ছুঁয়ে যায়, মনে করিয়ে দেয়—মৃত্যু কত সহজেই কাছে চলে আসতে পারে, আর জীবন কতটা ভঙ্গুর, অনিশ্চিত এবং আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
ভয় নয়—জেগে উঠল গভীর এক আত্মজিজ্ঞাসা
আজকের ভূমিকম্প যেন নিছক একটি ভূতাত্ত্বিক ঘটনা নয়, বরং মানুষের ভেতরে জাগিয়ে তোলে গভীর এক আত্মসমালোচনা।

মানুষ যতই দৈনন্দিন ব্যস্ততায় নিমগ্ন হোক, পৃথিবীর এই মুহূর্তবদলানো কম্পন তাদের মনে প্রশ্ন তুলেছে—“আমরা কি সঠিক পথে আছি?”
“আমাদের জীবন কি আল্লাহর বিধানমতো চলছে?”বহু মানুষ বলেন—এ যেন নিঃশব্দে একটি সতর্কবার্তা।কেউ বলেন—“হয়তো আল্লাহ আমাদের ভুল সংশোধনের সময় দিচ্ছেন।”
আবার কেউ কেউ মনে করেন—“এটি এক ধরণের ইশারা—নিজেকে শোধরানোর আহ্বান।”
প্রকৃতির এই তীব্র আন্দোলন মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়, জীবনের নিরাপত্তা কোনো ইট-কাঠের ভবনে নয়, কোনো প্রযুক্তির শক্তিতে নয়, বরং একমাত্র আল্লাহর রহমত ও সংরক্ষণেই নিহিত।

শুক্রবারের দিন হওয়ায় মানুষের অনুভূতি আরও গভীর হলো আজকের ভূমিকম্পের বিশেষ দিক হচ্ছে—ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে পবিত্র শুক্রবারে।
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, বহু সহিহ হাদিসে বর্ণিত রয়েছে—কিয়ামত সংঘটিত হবে শুক্রবারের দিন।
হাদিসের (আবু দাউদ শরিফ—হাদিস ১০৪৬) বর্ণনায় স্পষ্টভাবে এসেছে—এই দিনেই মানবজাতির শেষ অধ্যায় শুরু হবে।

ফলে আজকের কম্পন শুধু শরীরকে নয়, মানুষের হৃদয়কেও কাঁপিয়ে দিয়েছে। অনেকেই তীব্র অনুভূতি নিয়ে বলেছেন—“যেদিন এমন একটি কম্পনে মানুষ ভয় পায়, সেই দিনই তো কিয়ামতের আগমনের দিন হবে। আজকের ঘটনার সাথে সেই স্মৃতি যেন নতুন করে জেগে উঠল।”এই উপলব্ধি মানুষের মনে গভীরভাবে জায়গা করে নিয়েছে। ভয় নয়, বরং আল্লাহর শক্তি, তাঁর ক্ষমতা, আর তাঁর সতর্কতার বার্তা যেন আজকের দিনে মানুষ আরও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছে। ভূবিজ্ঞান বলছে—এটি পৃথিবীর স্বাভাবিক গতিবিধি; কিন্তু মানুষের হৃদয় বলছে—এতে বার্তা আছে

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আজকের ভূমিকম্পটি পৃথিবীর টেকটোনিক প্লেটের স্বাভাবিক সঞ্চালনের ফলাফল। ভূমিকম্প বিজ্ঞান অনুযায়ী এমন কম্পন পৃথিবীর ভৌগোলিক কাঠামোর স্বাভাবিক আচরণের অংশ। কিন্তু ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে বিষয়টি শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। তারা এতে দেখছেন আল্লাহর কুদরত, সতর্কতা এবং মানবজাতির জন্য রহমতের বার্তা।
মানুষ বলছেন—“বিজ্ঞান তার ব্যাখ্যা দেবে, কিন্তু হৃদয়ের কথা বলে—এতে আল্লাহর নিদর্শন আছে।”
ভয়াবহ মুহূর্তের আরেক শিক্ষা—জীবন ক্ষণিক, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যায় আজকের ভূমিকম্প আমাদের আরেকটি বাস্তবতা খুব স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছে— জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী।
এক সেকেন্ডের কম্পনই মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছে—মৃত্যুর দরজা যে কোনো সময় খুলে যেতে পারে। বাড়তি ধন-সম্পদ, সামাজিক সম্মান, পদ-পদবি—একটিও সঙ্গে যাবে না।

Manual4 Ad Code

যা যাবে—আমাদের আমল, আমাদের ভালো কাজ, আর আল্লাহর ওপর নির্ভরতা।
এই ঘটনার পর বহু মানুষ প্রতিজ্ঞা করেছেন—
সৎপথে চলার, নিয়মিত নামাজ আদায় করার, গুনাহ থেকে ফিরে আসার, এবং জীবনের ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো বর্জন করার।

আজকের এই কম্পন যেন মানুষের মনে নতুন করে তাওবার দরজা খুলে দিয়েছে।তৌহিদি চেতনার আলোয় মানুষ ফিরে আসছে আত্মশুদ্ধির পথে। আজকের দিনটি শুধু ভূমিকম্পের স্মৃতি নয়, বরং হৃদয়ের জাগরণের দিন আজকের ভয়াবহ ভূমিকম্প মানুষকে যে শিক্ষা দিয়েছে, তা শুধুই আতঙ্ক বা ক্ষণিকের ভয় নয়—বরং জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্যের দিকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান।
এই দিনটি মনে করিয়ে দিয়েছে—আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া ছাড়া মানুষের প্রকৃত নিরাপত্তা নেই।
যত বড় ভবনই হোক, যত প্রযুক্তিই থাকুক, পৃথিবীর কোনো শক্তিই আল্লাহর শক্তির সামনে টিকতে পারে না। আজকের মুহূর্তভঙ্গুর অভিজ্ঞতা তাই মানুষের হৃদয়ে নতুন এক আলো জ্বালিয়েছে—তাওবা, তৌহিদি চেতনা, আত্মসমালোচনা এবং সৎপথে ফিরে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়।

Manual2 Ad Code

 

Manual5 Ad Code

সাংবা‌দিক ও ক‌বি

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!