ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জ–৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মাঝে অভূতপূর্ব উৎসাহ, উচ্ছ্বাস ও অংশগ্রহণের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে নানা অনিয়ম, বিঘ্ন ও হতাশার কারণে যে আক্ষেপ-ক্ষোভ জমে ছিল, এবার তার প্রেক্ষাপটে এক মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা ভোটারদের নতুন করে ভোটের মাঠে ফিরিয়ে এনেছে। ফলে পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে বাজার, চায়ের দোকান, আড্ডাস্থল—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু শুধু নির্বাচন, প্রার্থী ও আগামী দিনের সম্ভাবনা।
এ আসনের মোট ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা জুড়ে দিনদিন বাড়ছে প্রচার-প্রচারণা, উঠানবৈঠক, গ্রাম্য সভা, মতবিনিময় ও গণসংযোগ। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে সমান তৎপরতা, যেখানে অনেক তরুণ তাদের প্রার্থী-পছন্দ, উন্নয়ন ভাবনা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরছেন উচ্ছ্বাসের সঙ্গে। ভোটাধিকার প্রয়োগের আকাঙ্ক্ষা—বহু বছরের ক্ষোভ-হতাশার প্রতিফলন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েকটি নির্বাচনে এ অঞ্চলের হাজারো ভোটার নানা কারণবশত ভোট কেন্দ্রেই যেতে পারেননি। অনেকে চাননি যেতে, অনেকে পেরেও যাননি। এসব ক্ষোভ, ভোটাধিকার বঞ্চিত হওয়ার হতাশা এবং দীর্ঘদিন পর একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা এবার নতুন গণমনে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। ভোটাররা বলছেন—“এবার আমরা নিশ্চিন্তে, ভয়হীনভাবে ভোট দিতে চাই, নিজের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে চাই।”
ভোটারদের এমন উচ্ছ্বাসে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে বিএনপি—এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা। কারণ শুরু থেকেই ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোটারদের জাগরণ চোখে পড়ে মাঠে-ময়দানে। ধানের শীষে গণজাগরণ—তৃণমূলের ঘরে ঘরে বিএনপির পদচারণা।
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং অতীতে নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে তাঁর অবদান—এসব কারণেই প্রার্থীর প্রতি ভোটার ঝোঁক বাড়ছে বলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করেন।
তৃণমূল পর্যায়ে ঘরে ঘরে গিয়ে তারা ধারাবাহিক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। উঠান বৈঠক, পথসভা, গণমিছিল ও মতবিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে ভোটাধিকার প্রাপ্যতা ও পরিবর্তনের প্রত্যাশা। স্থানীয় নেতা নজরুল ইসলাম, শামছুর রহমান বাবুল, যুবদল নেতা জহির আহমদসহ অনেকেই বলছেন, “এবার ভোটাররা নিজেরাই ভোট দিতে চায়। ভয়হীন পরিবেশ পেলে ধানের শীষেই ভোটের স্রোত যাবে। এক শ্রমিক নেতা চেরাগ আলী বলেন, “চাঁদাবাজি–দখলবাজি ছাড়া উন্নয়ন ও নিরাপত্তার রাজনীতি চায় মানুষ। তাই এখন সৎ ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীর প্রতি জনমতের ঢেউ উঠছে।”
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ প্রার্থী—ভোটের সমীকরণ জটিল এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী ছাড়াও মাঠে রয়েছেন— জামায়াতের প্রার্থী: বিশিষ্ট আলেম, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহির মুহাম্মদ আবদুস সালাম আল মাদানী,খেলাফত মজলিসের প্রার্থী: মাওলানা আব্দুল কাদির,বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী: সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান আরও একজন প্রার্থী রয়েছে।
জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরাও নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে মাঠে সক্রিয়। তবে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যেসব আলোচনা চলছে, তাতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত ধানের শীষকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। বহুমাত্রিক জনসমাজ—বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষে পরিপূর্ণ এ আসন ছাতক ও দোয়ারাবাজার মিলিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ–৫ আসনটি ভূগোল, অর্থনীতি ও জনসংখ্যার দিক থেকে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। এখানে–শ্রমিক, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শিক্ষক, ছাত্র ও চাকরিজীবী উপজাতীয় জনগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়—সব শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস। সব শ্রেণির ভোটারই এবার আগের চেয়ে বেশি সক্রিয়। বিভিন্ন গ্রাম, হাটবাজারে চোখে পড়ে দলীয় শ্লোগান, পোস্টার-ব্যানার ও গণজমায়েত। বিশেষত তরুণদের ভোটের আগ্রহ এবার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাউয়াবাজার ইউনিয়নের ভোটার আলমগীর হোসেন বলেন, “আগের নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। এবার নিশ্চিন্তে ভোট দেওয়ার আশা করছি। যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেব। মোট ভোটার ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৪—নারী ভোটারের আধিক্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সুনামগঞ্জ–৫ আসনে মোট ভোটার ৫,২৭,৪৫৪ জন। এর মধ্যে—ছাতকে ৩,২৬,৭৬৭ জন দোয়ারাবাজারে ২,০০,৬৮৮ জন (২ লাখ ৬৮৮) দুই উপজেলাতেই নারী ভোটার পুরুষের চেয়ে বেশি, যা নির্বাচন–বিশ্লেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। কারণ নারীদের ভোটের প্রবণতা সাধারণত গ্রহণযোগ্যতা, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন–ধারণার ওপর নির্ভর করে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর নির্বাচনী উত্তাপ বেড়েছে—মিলনের প্রত্যাবর্তনে ভোটারদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই নির্বাচনের মাঠ উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন পর প্রার্থী হিসেবে প্রত্যাবর্তন করেছেন সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন—যাকে অনেকেই “সৎ, অভিজ্ঞ এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিবাহী” প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা বলছেন, তাঁর উপস্থিতি পুরো নির্বাচনী পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। রাস্তা-মাঠে, হাট-বাজারে, এমনকি তরুণদের আড্ডায়ও মিলনকে কেন্দ্র করে চলছে আলোচনার ঝড়। এক ব্যবসায়ী বলেন— “কথা দিয়ে কথা রাখেন এমন নেতাই আমাদের দরকার। এলাকার উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা—এই তিনটিই চাই। পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় উত্তাল জনমত—ভোটারের প্রত্যাশা শৃঙ্খল, উন্নয়ন ও শান্তি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের মূল প্রত্যাশা—একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন,ভয়হীনভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ, সৎ, যোগ্য ও উন্নয়নমুখী নেতৃত্ব, চাঁদাবাজি–দখলবাজি ও স্বার্থান্বেষী রাজনীতির অবসান, এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। এই প্রত্যাশায় সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে তরুণ ও নতুন ভোটারদের মধ্যে। তারা বলছে—এবার নির্বাচন যেন সত্যিকারের “মানুষের ভোটে মানুষের প্রতিনিধি” নির্বাচনের উৎসবে পরিণত হয়।
সুনামগঞ্জ–৫ আসনের রাজনৈতিক মাঠ এখন উত্তপ্ত, গণজাগরণের স্রোতে উজ্জীবিত। ধানের শীষে ভোটের গণমুগ্ধতা যেমন দৃশ্যমান, তেমনি বাকি প্রার্থীরাও তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে মাঠে লড়ছেন। তবে সর্বোপরি ভোটাররা চায়—একটি মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, যেখানে তারা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন ভয় ও বাধাহীনভাবে। পরিবর্তন, উন্নয়ন ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের প্রত্যাশায় এ আসনের মানুষ এখন তাকিয়ে নির্বাচনের দিনটির দিকে।####
caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/eibela12/public_html/wp-includes/functions.php on line 6121caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/eibela12/public_html/wp-includes/functions.php on line 6121
Leave a Reply