কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ::
কুলাউড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার -২ আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমানের জন্মমাটি। কুলাউড়ার ভাটেরা ইউনিয়নের বাসিন্দা ডাঃ শফিকুর রহমানকে ঘিরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর ব্যাপক গুঞ্জন ছিল এই আসনে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন। বেশ কয়েকবার দলীয় কর্মসূচিতে ডাঃ শফিকুর রহমানের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সাথে মতবিনিময়ে জনমনে তাঁকে নিয়ে বেশ আগ্রহ জন্মে। কিন্তুু শেষমেশ তিনি এই আসনে প্রার্থী হননি।
দল ও জোটের প্রার্থী হিসেবে চুড়ান্ত মনোনীত হন মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ইঞ্জিনিয়ার এম সায়েদ আলী। আমীরে জামায়াত এর জন্মমাটিতে ১০ দলীয় জোটের চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে তিনি দিন-রাত নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা রয়েছেন তাঁর পাশে। লক্ষ্য একটাই বিজয়ী হয়ে আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমানকে এই আসনটি উপহার দেওয়া। যাতে করে ২০০১ সালে ডাঃ শফিকুর রহমান এই আসনে চারদলীয়জোটের প্রার্থী হয়ে ভালো ফল বয়ে আনতে না পারার ক্ষতটাও ঘুচিয়ে নেওয়া। এবারের নির্বাচন একটি চ্যালেন্জ হিসেবে নিচ্ছেন দলের নেতাকর্মীরা। জামায়াতের পাশাপাশি ইসলামী শিবির ও ছাত্রী সংস্থার নেতাকর্মীরাও মূল সংগঠনের সাথে কঠোর শ্রম দিচ্ছেন।
উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল মুনতাজিম, নায়েবে আমীর জাকির হোসেন, সেক্রেটারি জেনারেল প্রভাষক বেলাল আহমদ চৌধুরী, সহ সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম খান, জামায়াত নেতা যুক্তরাজ্য প্রবাসী আশরাফুল আলম রাজা, ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল, যুব বিভাগের পৌর সভাপতি সাইফুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে কুলাউড়ার ১৩ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় মানুষের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। ৫৪ বছরে মানুষের প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তির ফারাক অনেক। দলমত নির্বিশেষে কুলাউড়াবাসী আজ ঐক্যবদ্ধ। তারা দাঁড়িপাল্লাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ । এই বিজয় আমীরে জামায়াত কুলাউড়ার কৃতী সন্তান ডাঃ শফিকুর রহমানকে উপহার দিতে চাই।
১০ দলীয় জোটের প্রার্থী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ইঞ্জিনিয়ার এম সায়েদ আলী বলেন, আমার ইউনিয়ন টিলাগাঁওসহ পুরো কুলাউড়াবাসী পরিবর্তন চায়। অতীতে একাধিকবার অন্য দলগুলোকে ভোট দিয়ে প্রত্যাশিত কোন উন্নয়নই হয়নি। মানুষের ধারণা জন্মেছে এবার রাষ্ট্রক্ষমতায় জামায়াতে ইসলামী যাবে এবং কুলাউড়ার সন্তান ডাঃ শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি আরও বলেন কুলাউড়ার চা-শ্রমিকদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ জীবনমান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবো। হিন্দু কমিউনিটি ও চা- বাগানবাসী এবার বিবেক দিয়ে রায় দেবেন। ইনশাআল্লাহ এদের বৃহৎ অংশের সমর্থন আমি পাবো।
তিনি এমপি নির্বাচিত হলে হাকালুকি হাওড়ের উন্নয়ন, পৌর এলাকাসহ অন্যান্য এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, শহরের নিকটবর্তী উত্তর কুলাউড়া এলাকার ময়লার ভাগাড় দূরে স্থানান্তর, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, কুলাউড়া শহরের প্রধান সমস্যা যানজটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষে ৪ লেনে সড়ক উন্নীতকরণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য ইঞ্জিনিয়ার এম সায়েদ আলী ১৯৯০ সালে ছাত্র শিবিরে যোগদানের মধ্যে দিয়ে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ৯৩ সালে সিলেট পলিটেকনিকের ভিপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ছাত্র শিবিরের সিলেট মহানগর সভাপতি, মৌলভীবাজার জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ দেড়দশক মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সর্বশেষ ৩ বছর থেকে জেলা জামায়াতের আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ ২৪ বছর পর মৌলভীবাজার -২ আসনে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আর তাঁকে ঘিরে উজ্জীবিত ও ভোটের মাঠে সরব নেতাকর্মী এবং সমর্থকেরা ##