বড়লেখা প্রতিনিধি::
বড়লেখা উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের ফকিরবাজারে বরুদল নদীর ওপর ৬৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গাডার ব্রিজ ও দুই পাশে ২২০ মিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ এক বছরে সম্পন্ন করার চুক্তি করেও চার বছরেও সম্পন্ন করেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। নির্মাণ কাজের অনিয়ম-দুর্নীতি ও নিম্নমানের সামগ্রি ব্যবহারে ভেঙ্গে পড়ছে রাস্তা, ব্লক ও দেবে গেছে গাইড ওয়াল।ঠিকাদার ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারির অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও ডিজাইন পরিবর্তনে এই ব্রিজটি এলাকাবাসির গলার কাটায় পরিণত হওয়ার আশংকা রয়েছে। ব্রিজটি দ্রুত ঝুঁকিঁমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্ঠি আকর্ষণ করছেন।
এলাকাবাসির অভিযোগ ব্রিজ ও রাস্তার ডিজাইনে মারাত্মক অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। ব্রিজের সংযোগ রাস্তার ঠিক সামনের রাস্তাটির প্রশস্থ কমিয়ে (মাত্র সাড়ে ১২ ফুট) অত্যন্ত সরু করায় ব্রিজটি চালু হলে বড়ধরণের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। কারণ ব্রিজ থেকে নেমেই সরু রাস্তায় খাড়া টার্নিং নিতে গিয়ে প্রায়ই ঘটবে দুর্ঘটনা।
জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার বর্নি, সুজানগর, তালিমপুর ও দাসেরবাজার ইউনিয়নের জনসাধারণের কম দুরত্বে ও কম সময়ে সিলেট বিভাগীয় শহরে যাতায়াতের সুবিধার্থে বর্নি ইউনিয়নের ফকিরবাজারে বরুদল নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগি এলাকাবাসি দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ওই ব্রিজটি হলে সিলেট ও মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরপাড়ের কয়েক লাখ মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনেক দূর অগ্রসর হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০২১ সালে বরুদল নদীর ওপর ৬৬ মিটার লম্বা আরসিসি গাডার ব্রিজ, উভয় পাশে ব্রিজের সংযোগ রাস্তা ছাড়াও আরো ১২০ মিটার রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে। ৬ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার ৪৭০ টাকার প্রকল্পটির নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় ঢাকার রমনা থানার সিদ্দেশরী এলাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিলানি ট্রেডার্স।
কার্যাদেশ অনুযায়ি ২০২১ সালের ২৭ নভেম্বর কাজ শুরু করে ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর সম্পন্নের চুক্তি থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজের নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারি। আংশিক কাজ করে ফেলে রাখে বছরের পর বছর। দুইবার বর্ধিত করে কাজ সম্পন্নের মেয়াদ। শেষ মেয়াদ অনুযায়ি আগামি ৩০ জুনের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্নের নির্দেশনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছয় বিলে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত বরাদ্দের ৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা তুলে নিয়ে গেছে।

সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগি এলাকাবাসি বর্নি ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক লুলাই মিয়া, যুবদল নেতা টুনু মিয়া, হেনু মিয়া, রুহেল আহমদ, ফয়ছল আহমদ, ব্যবসায়ি কাশেম আহমদ, রোখন মিয়া, ছাত্রদল সভাপতি রেদওয়ান হোসেন প্রমুখ অভিযোগ করেন, এই ব্রিজটি নির্মাণের দাবী বিগত কয়েক বছরের। ব্রিজের মাপ-মেজার্মেন্টের সময় যে ডিজাইন দেখানো হয় কাজের সময় তা সংকোচিত করায় এই ব্রিজটি একসময় এলাকাবাসির মরণ ফাঁদে পরিণত হবে। সংযোগ সড়ক ও এর সামনের রাস্তাটি অত্যন্ত সরু করা হয়েছে। সরাসরি ব্রিজ থেকে মাত্র কয়েক ফুটের মধ্যে খাড়া টার্নিং নিতে গিয়ে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটবে। এছাড়া প্রথম দিকে ঠিকাদার কাজ ফেলে রাখে। এখন দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করছে। কাজের অনিয়মের বাধা-নিষেধ করলে ঠিকাদারের লোকজন সন্ত্রাসীপনা করে, কারো কোনো কথাই শুনে না। একেতো রাস্তা ছোট করেছে, তার উপর টিকমতো মাটি ড্রেসিং না করায় ও নিম্নমানের সামগ্রি ব্যবহারের কারণে কাজ চলমান অবস্থায় রাস্তা ভেঙ্গে যাচ্ছে ও দেবে যাচ্ছে। উভয় পাশে যতেষ্ট জায়গা থাকা সত্ত্বেও সংযোগ সড়ক ও সামনের রাস্তা অত্যন্ত ছোট করায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে ব্রিজ, সংযোগ রাস্তা ও সামনের রাস্তা। ঠিকাদার ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারির অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও ডিজাইন পরিবর্তনে এই ব্রিজটি এলাকাবাসির গলার কাটায় পরিণত হওয়ার আশংকা রয়েছে। ব্রিজটি দ্রুত ঝুঁকিঁমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্ঠি আকর্ষণ করছেন।

ঠিকাদারে সাইট ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন কারণে চুক্তি অনুযায়ি ব্রিজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। দুইবার মেয়াদ বাড়িয়েছেন। তবে, ইতিমধ্যে ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তার দাবী কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. তারেক বিন ইসলাম যুগান্তরকে জানান, এলজিইডি জমি অধিগ্রহণ করে রাস্তা প্রশস্থ করতে পারে না। রাস্তা বড় করতে অনেকে নিজেদের ভূমি ছেড়েছেন আবার অনেকে ছাড়েননি। জায়গা অনুযাযি ব্রিজের ও রাস্তার ডিজাইন করা হয়। সে অনুযায়ি কাজ চলছে এবং বর্তামানে সম্পন্নের দিকে রয়েছে। তবে নির্মাণাধীন রাস্তা ভেঙ্গে পড়া ও দেবে যাওয়ার অভিযোগটি তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।