বড়লেখা প্রতিনিধি :
বড়লেখায় গতকাল শুক্রবার ও আজ শনিবারের ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। নিমজ্জিত হয়েছে অর্ধ-শতাধিক হেক্টর জমির চলতি মৌসুমের আউশের বীজতলা ও সদ্য রোপিত আউস ধানের ক্ষেত। কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের চারটি স্থান তলিয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করেছে।
পৌরশহরের ষাটমা ছড়ার বাধ ভাঙ্গনে শহরের উত্তর চৌমুহনী ও হাটবন্দ এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। বসতঘরে বানের পানি ঢুকায় কলোনির বেশ কয়েকটি পরিবারের লোকজন পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগ পোয়াচ্ছেন। শনিবার দুপুরে ভারিবৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুব ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত দুইদিনের ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের টিলাবাজার, রতুলিবাজার, কাঠালতলী বাজার ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনের সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মারাত্মক ঝুকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে ষাটমাছড়ার বাধ ভেঙ্গে পৌরশহরের উত্তর হাটবন্দ এলাকা প্লাবিত করেছে। বানের পানিতে তলিয়ে গেছে এলাকার রাস্তাঘাট। ঢলের পানি প্রবেশ করেছে কলোনির ১৫-১৬ পরিবারের বসতঘরে। পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। এদিকে উপজেলার গজভাগ, কলাজুরা, মুছেগুল, কুমারসাইল-সহ বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাকি হেক্টর আউশ ধানের বীজতলা ও সদ্য রোপিত আউশ ধানের জমি নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যা দেখা দিয়েছে উপজেলার তালিমপুর, বর্নি, সুজানগর ইউনিয়ন-সহ নিম্নাঞ্চল।
উপজেলা কৃষি অফিসার মনোয়ার হোসেন জানান, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পানি নেমে গেলে আউশের বীজতলা ও আউশ ধানের কোনো ক্ষতির আশংকা নেই।
ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুব জানান, দুইদিনের ভারি বৃষ্টিপাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধা দেখা দিয়েছে। তিনি ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) প্লাবিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশনের তাৎক্ষনিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।