বড়লেখা প্রতিনিধি :
ঈদের টানা ছুটিতে ঈদ আনন্দ উপভোগে প্রকৃতিকন্যা মৌলভীবাজারের বড়লেখার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে পর্যটকের ঢল নামে। ইকোপার্কের ইজারাদার, স্থানীয় ব্যবসায়ি, মাধবকুণ্ডে দায়িত্বরত বনবিভাগ ও পর্যটন পুলিশের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ি ঈদের দিন থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ২৫—৩০ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটেছে মাধবকুণ্ডে। সংশ্লিষ্টদের দাবি এবার কোনো ভোগান্তি ছাড়াই প্রকৃতি ও বিনোদন প্রেমীরা নির্বিঘ্নে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও ইকোপার্কে ঈদ আনন্দ উপভোগ করে বাড়ি ফিরেছেন। হুইহোল্লড় আর আনন্দ—উছ¦াসে ভরে ওঠে মাধবকুণ্ড এলাকা।
মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ইকোপার্কের প্রধান ফটক থেকে জলপ্রপাত পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রাস্তাটি পর্যটকে পরিপূর্ণ। কেউ মুল জলপ্রপাত স্থলে যাচ্ছেন, আবার কেউ জলপ্রপাতের ওপরের ঝর্না থেকে গড়িয়ে পানি পড়ার অপরূপ দৃশ্য ও বিশাল পাথর, পাহাড়ি সবুজ গাছপালা আর চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করে ফিরছেন। কথা বলে জানা যায়, পর্যটকদের বেশিরভাগই দূর—দূরান্তের। রোববার ও সোমবার চাকুরিজীবিদের সংখ্যা বেশি থাকলেও মঙ্গলবারের অধিকাংশ পর্যটকই শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ি ও প্রবাসী। নারী ও শিশু পর্যটকের উপস্থিতি লক্ষনীয়। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের দিনসহ গত তিন দিনে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে অন্তত ৩০ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটেছে মাধবকুণ্ডে।
মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের প্রধান ফটক ও অভ্যন্তরীণ রাস্তায় আগত পর্যটকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা সোহেল রানা ও পর্যটন পুলিশের এএসআই ওবায়দুর রহমান জানান, ঈদের আগেই মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এলাকার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এবং পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, পর্যটন পুলিশ ও বনবিভাগের যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে মাধবকুণ্ড এলাকায় সার্বক্ষণিক তৎপরতা ও নজরদারির কারণে কোনো ভোগান্তি, হয়রানি ও দুর্ভোগ ছাড়াই পর্যটকরা নির্বিঘ্নে আনন্দ উপভোগ করে যাচ্ছেন।
থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, বনবিভাগ ও পর্যটন পুলিশের সাথে সমন্বয় করে মাধবকুণ্ডে থানা পুলিশের নজরদারি থাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।