মে দিবসের চেতনায় মজুরি বৈষম্যের অবসান হয়নি নারী শ্রমিকদের – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কুলাউড়ায় এসপিকে ঘুষ দিতে গিয়ে আটক ২ জুড়ীতে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিজিবির খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান মে দিবসের চেতনায় মজুরি বৈষম্যের অবসান হয়নি নারী শ্রমিকদের ছাত‌কে প্রবাসীর পক্ষে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: আদালতের আদেশে দুই দোকানঘর জব্দ কানাডাস্থ জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর নির্বাচন : তুহিন-তানবীর-এজাজ পরিষদের পরিচিতি সভা কুলাউড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে স্কুলে পাঠদান হাকালুকিতে তলিয়ে গেছে ধান, ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে বিএনপি নেতা মাছুম রেজা টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল- বড়লেখায় বন্যার আশংকায় প্রস্তুত করা হয়েছে ২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র বড়লেখা এনসিসি ব্যাংকে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ কুলাউড়ায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ

মে দিবসের চেতনায় মজুরি বৈষম্যের অবসান হয়নি নারী শ্রমিকদের

  • বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

Manual7 Ad Code

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ::

Manual4 Ad Code

চা শিল্প ও বস্তি এলাকার বেকার নারী শ্রমিকরা বৈষম্যমূলক মজুরিতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। মে দিবসকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের ৮ ঘন্টা কাজ, ৮ ঘন্টা বিনোদন আর ৮ ঘন্টা বিশ্রামের অধিকার থাকলেও জীবন আর জীবিকার তাগিদে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নারী-পুরুষ ও বেকার শ্রমিকরা মে দিবসে অর্জিত অধিকার থেকে বঞ্চিত। মজুরিতে বৈষম্য রোধ করার দাবি জানিয়েছেন এসব নারী শ্রমিকরা। চা গাছ ছেঁটে ছেঁটে ২৬ ইঞ্চির বেশি বাড়তে দেয়া হয় না। চা শ্রমিকের জীবনটাও ছেঁটে দেয়া চা গাছের মতোই, লেবার লাইনের ২২২ বর্গফুটের একটা কুঁড়ে ঘরে বন্দি। মধ্যযুগের ভূমিদাসের মতোই চা মালিকের বাগানের সঙ্গে বাধা তার নিয়তি। চা শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম একটি বৃহৎ শিল্প। জাতীয় অর্থনীতিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। চা বাগানের শ্রমিকরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। প্রায় ২০০ বছর ধরে কমলগঞ্জ উপজেলার ২২টি চা বাগানে বংশ পরম্পরায় কাজ করছেন চা শ্রমিকরা। তাদের শ্রমে এই শিল্পের উন্নয়ন হলেও শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না।

Manual1 Ad Code

নারী শ্রমিকরা জানান, ঘুম থেকে উঠেই নাস্তা সেরে কাজে বের হন আর সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে রান্নাবান্না করেন। এটি চা বাগানের বেকার নারীদের প্রতিদিনের চিত্র। এভাবেই চলছে তাদের জীবন সংগ্রাম। বস্তির অতি দরিদ্র ও চা শিল্পে শ্রমজীবীদের একটি বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে বেকার। এদর মধ্যে যুবতী ও মধ্য বয়সী নারী শ্রমিকরা রয়েছেন। জীবিকার তাগিদে শিল্পের বাইরে কনস্ট্রাকশন, মাটি কাটা, মাথায় টুকরি নিয়ে ইট, বালু, পাথর বহন করার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। তবে কঠিন কাজে নিয়োজিত থাকলেও মজুরি বৈষম্য দীর্ঘদিনের! পুরুষদের সমান কাজে নিয়োজিত থাকলেও সমান মজুরি পাচ্ছেন না। মে দিবসের চেতনায় মজুরি বৈষম্যের দাবি জানান এসব নারী শ্রমিকরা। ঝড়ে ঘরের ঢেউটিন উড়ে গেলে মালিকের অনুমতি ছাড়া মেরামত করা যাবে না। বয়সের ভারে ন্যুব্জ শ্রমিকরা অসহায়ত্ব আর উপোসে মৃত্যুর প্রহর গুণে। প্রসূতি মায়েরা চিকিৎসার অভাবে, অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত অবস্থায় সন্তান জন্ম দেন। ওই কুঁড়ে ঘরটিই তাদের সন্তান প্রসবের উত্তম স্থান, হাসপাতালের বেড তাদের জন্য সোনার হরিণ।

মৌলিক চাহিদা পূরণে দীর্ঘদিন ধরে মজুরি বৃদ্ধি, ভূমি অধিকার, বাসস্থান ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি তাদের। কিন্তু বাস্তবায়ন না হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন চা শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা। চা বাগানের শ্রমিকরা তাদের শ্রম দিয়ে চা বাগান আগলে রাখলেও তাদের শিক্ষা ও চিকিৎসা এখন সেই অবহেলিত রয়ে গেছে। সরকার তাদের আবাস্থল নিজ নিজ মালিকানায় করে দিবে বলেও এখনো এর কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। আর এ জন্য দীর্ঘদিন ধরে ভূমি নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছেন চা শ্রমিকরা। চা শ্রমিকরা জানান, বাগানের হাসপাতালে ভালো চিকিৎসার যথেষ্ঠ অভাব রয়েছে। বাগানে যে কয়েকটা ছোট হাসপাতাল রয়েছে তাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ ও ডাক্তার না থাকায় রোগমুক্তি হচ্ছে না। অকালে ঝরে যাচ্ছে অনেক প্রাণ। তাছাড়া বাগানের কিছু কিছু ছেলে-মেয়েরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও চাকরির ক্ষেত্রে বড় কোনো পদ পাচ্ছেনা।

চা বাগানে কর্মরত নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা বর্তমানে দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। এর বাইরে বিপুল সংখ্যক বেকার নারী শ্রমিকরা বস্তি কিংবা শহরের বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনে, মাটি কাটা, নার্সারী, কৃষি সহ সকল ক্ষেত্রে কাজ করে সংসারের চাহিদা পূরণ করছেন। স্বল্প মজুরি আর বেকারত্বের কঠিন জীবন সংগ্রাম থেকে স্বস্তি পেতে তারা এসব পথ বেঁচে নিয়েছেন। পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে চেহারায় হাড্ডিসার দশা। জীবিকার তাগিদে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠিন কাজ করেন। রোদ, বৃষ্টিতে ভিজে, পোকা-মাকড়ের আক্রমনের মধ্যেই চলে তাদের কাজ। এরপর মজুরি! সেটিও পাঁচ সাত সদস্যের পরিবারে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

বস্তির নারী শ্রমিক পারভীন বেগম, শেফালি কর বলেন, পেটের দায়ে যখন যে কাজ পাই সেটা করতে আমরা বাধ্য হই। তারপরও দেড়শ কিংবা দুইশ টাকা রোজ দেয়া হয়। এটি দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। আর পুরুষরা কাজ করলেই তিন থেকে চারশ টাকা পান। আমরাও পুরুষদের চেয়ে কাজ কম করি না। তবে পারিশ্রমিক কম পাই। তারা জানান, প্রতি বছর চা বাগানের অনেক মানুষ নিয়ে আমরা মে দিবস পালন করি। আমাদের দুঃখ-দুর্দশা সবার কাছে তুলে ধরি। কিন্তু আমাদের এই আন্দোলন কে শুনবে, কি হবে আর মে দিবস পালন করে।

কমলগঞ্জ উপজেলার দেওছড়া বাগানের মনি রবিদাস, লক্ষী রবিদাস, শমশেরনগর চা বাগানের লছমী রাজভর, আলীনগর চা বাগানের রেবতি রিকিয়াশন সহ নারী শ্রমিকরাও জানান, চা বাগানের নারীদের কাছ থেকে সস্তায় শ্রম পাওয়া যায়ে। বাগানে সারাদিন পরিশ্রম করে মজুরি ১৮৭ টাকা, আর শহর-বস্তিতে কাজ করলে সর্ব্বোচ্চ আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ টাকা দেয়া হয়। অথচ পুরুষ শ্রমিকদের বেলায় তিন থেকে পাঁচশ’ টাকা মজুরি। এই বৈষম্য কোন মতেই কাম্য নয়।

কানিহাটি চা বাগানের শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, চা বাগানে কর্মরত আর বেকার শ্রমিকরা বাগানের বাইরে কর্মরত। তারা কঠিন কাজ ও পরিশ্রম করলেও ন্যায্য মজুরি বঞ্চিত। তার উপরে রয়েছে মজুরি বৈষম্য। তাই মে দিবসের চেতনা বাস্তবায়নের মধ্যদিয়েই নারী পুরুষ শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও মজুরি বৈষম্য রোধ হওয়া উচিত বলে তিনি দাবি করেন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা ও কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রাম ভজন কৈরী জানান, চা শ্রমিকরা সেই ব্রিটিশ আমল থেকে এ দেশে বাস করছে। তারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযোদ্ধে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল। সেই চা শ্রমিকরা আজও অবহেলিত। বর্তমান শ্রমিক বান্ধব সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি জানাচ্ছি- এই অবহেলিত চা শ্রমিকদের বাসস্থানের জায়গাটুকু যাতে তাদের নিজের নামে করে দেয়া হয়। যাতে বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের যখন তখন ভূমি থেকে উচ্ছেদ করতে না পারে। তিনি আরো বলেন, মজুরীবোর্ড চা বাগানের প্রতি শ্রমিকদের প্রতি অবিচার করছে। নারী শ্রমিকরা কর্মস্থলে উপযুক্ত পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা চা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী-দাওয়া নিয়ে বিগত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও সচিবদের সাথে বারবার ধর্ণা দিয়েছিলাম। বর্তমান সরকারের আমলে আমরা বৈষম্যের অবসান চাই। আমরা চা শ্রমিকদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ আইনের সংশোধন চাই।

Manual6 Ad Code

চা শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম একটি বৃহৎ শিল্প। জাতীয় অর্থনীতিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এদেশের চা পৃথিবীর ২৫টি দেশে রফতানি করা হয়। আর এই চা উৎপাদনের সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত চা-শ্রমিকরা। কিন্তু চা-শ্রমিকরা সকল নাগরিক সুবিধা ভোগের অধিকার সমভাবে প্রাপ্য হলেও তারা পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বৈষম্যের শিকার বলে প্রতিয়মান।

Manual6 Ad Code

যাদের শ্রমে অর্জিত হচ্ছে হাজার কোটি বৈদেশিক মুদ্রা, তাদের অবহেলিত না রেখে অধিকার বাস্তবায়ন করা হোক এমনটাই প্রত্যাশা চা শ্রমিক নেতাদের। চা শ্রমিকদের প্রতি সদয় আচরণ ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হওয়া পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, সকলের দায়িত্ব।##

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!