ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৬
Home » জাতীয় » নবীগঞ্জে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ

নবীগঞ্জে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ

এইবেলা, হবিগঞ্জ, ১৫ ফেব্রুয়ারি:: হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে এক স্বামী নিজের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। রোববার গভীর রাতে নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের গুমগুমিয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
সোমবার সকালে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করেছে। স্বামী শিপন মিয়া ও স্ত্রী শেলী বেগমের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়য়াধী নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের হৃদয় নামের ৩ বছর বয়সের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুমগুমিয়া গ্রামের মৃত ইসরাইল মিয়ার ছেলে শিপন মিয়ার সঙ্গে প্রায় ৪ বছর পূর্বে একই গ্রামের ছনর মিয়ার কন্যা শেলী বেগম (২৫)-এর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলে আসছিল। বিয়ের এক বছর পর তাদের একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। তাদের কলহ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সালিশ বসে। প্রায় ১ মাস পূর্বেও শেলী বেগম স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে বাবার বাড়ি চলে যায় পরে স্থানীয় মুরুব্বিয়ান বিষয়টি সমাধান করে শেলী বেগমকে স্বামীর বাড়ি ফিরিয়ে দেন।
রোববার রাতে খাওয়া ধাওয়া শেষে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন শিপন ও শেলী বেগম। রাতে ঘুমানোর সময় গৃহবধূ শেলী বেগমকে স্বামী শিপন ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে বলে দাবি করছেন শেলীর পরিবারের লোকজন। সকালে শিপন মিয়ার ঘরের কোন লোকজনের সারাশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা গিয়ে দেখেন বিছানার মধ্যে গৃহবধূর রক্তমাখা নিথড় দেহ পরে আছে। স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দিয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) গৌর চন্দ্র মজুমদারের নেতৃত্বে এসআই চান মিয়া, এসআই প্রদ্যুৎ ঘোষসহ এক দল পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে  হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরন করেন।
শেলী বেগমের পিতা ছনর মিয়া কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়ে শেলী বেগমকে তার স্বামী সব সময়ই মারধোর করতো। রাতে শিপন ও তার ভাইয়েরা মিলে আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। এই কথা বলে তিনি বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন।
শেলী বেগমের মা সামছুন্নেহার জানান ‘আমার মেয়েরে তার স্বামীর বাড়ির লোকজন হত্যা করেছে। আমরা তার সঠিক বিচার চাই।
থানার ওসি (তদন্ত) গৌর চন্দ্র মজুমদার জানান, ৪ বছর পূর্বে তাদের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে কলহ চলে আসছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।