কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ::
বৃহত্তর সিলেটের শস্যভান্ডার খ্যাত মৌলভীবাজারের অন্যতম কৃষিনর্ভির উপজেলা হচ্ছে কমলগঞ্জ। কৃষি ভান্ডার খ্যাত এই উপজেলায় প্রতি বছর রেকর্ড পরিমাণ আলু, টমেটো ও বিভিন্ন মৌসুমি সবজি উৎপাদিত হয়ে আসছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের কৃষকদের প্রাণের দাবী নিজের কষ্টার্জিত ফসল গুলি সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগার স্থাপন খুবই জরুরী ছিল। কিন্তু বারবার আশ্বাস আর ফাইলবন্দী প্রস্তাবনার বেড়াজালে আটকে আছে কৃষকদের এই প্রাণের দাবিটি। হিমাগার স্থাপনের প্রস্তাবনায় সীমাবদ্ধের অজুহাতের কারণে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল চোখের সামনেই পচে গলে নষ্ট হয় প্রতি বছর। এ কারণে চরম হতাশায় ভুগছেন এ অঞ্চলের স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, মাধবপুর, আলীনগর, ইসলামপুর, মুন্সীবাজার, পতনঊষার, কমলগঞ্জ সদর, রহিমপুর ইউনিয়নসহ পৌর এলাকায় সারা বছর বিপুল পরিমাণ সবজি চাষ হয়ে থাকে। তবে হিমাগারের অভাবে ফসল তোলার মৌসুমে এসে কৃষকরা তার ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়ে কম দামে তাদের কষ্টার্জিত ফসল বিক্রি করতে হয়। নতুবা সংরক্ষণের অভাবে মাঠেই পচে গলে নষ্ট হয়ে যায় টন টন ফসল। কৃষকদের অভিযোগ, সংরক্ষণের সুবিধা থাকলে কৃষকরা আন সিজনেও ভালো দামে তাদের ফসল বিক্রি করতে পারতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত বিভিন্ন সময়ে সরকারি পর্যায়ে হিমাগার নির্মাণের জন্য জায়গা নির্বাচন ও প্রাথমিক প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু অদৃশ্য কারণে সেই ফাইল আর আলোর মুখ দেখেনি। এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধ্রুমজালের। কৃষক ও সচেতন মহলসহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জোরালো দাবির মুখে মাঝে মধ্যে আশার বাণী শোনানো হলেও বাস্তবে এর কোনো অগ্রগতি বা কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এদিকে কমলগঞ্জের সাধারণ কৃষকসহ সচেতন মহলের এখন একটাই চাওয়া আর আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে কৃষকদের দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনার অবসান ঘটানো হোক।
আদমপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগ এলাকার টমোটো চাষী আব্দুল মতিন, শফিক মিয়া, মাধবপুর ইউনিয়নের শুকুরউল্লাহ গাঁও এলাকার আব্দুল মন্নান, নোয়াগাঁও গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম ও জামাল মিয়া জানান, “আমরা বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি দিয়ে ফসল ফলাই, কিন্তু ফসল সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় আমাদের কষ্টার্জিত ফসল পানির দরে বিক্রি করতে হয়। একটা ঠান্ডামিল (হিমাগার) হলে আমাদের আর ঋণের জালে জড়াতে হতো না।” ফসল মৌসুমে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমে যায়। হিমাগারে রাখতে পারলে পরে হয়তো একটু লাভজনক দামে বিক্রি করা সম্ভব হতো।
স্থানীয় আলু চাষিরা বীজ সংগ্রহের জন্য পাশের উপজেলার ওপর নির্ভর করতে হয়। নিজের উপজেলায় একটি হিমাগার থাকলে তারা নিজেদের বীজ নিজেই সংরক্ষণ করতে পারতেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবী এ অঞ্চলে হিমাগার স্থাপন হলে কৃষকরা বড় পরিসরে চাষাবাদে আগ্রহী হবেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।
এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, কমলগঞ্জ উপজেলায় টমেটোসহ বিভিন্ন শাক-সবজি, ফসল উৎপাদন হয়। টমেটোসহ শাক সবজি পচনশীল হওয়ার হিমাগার অতীব জরুরি। এ ব্যাপারে সরকারিভাবে প্রস্তাাবনা দেয়া আছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কমলগঞ্জ উপজেলায় হিমাগার স্থাপনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করা হয়েছে। তিনি জাতীয় নির্বাচনের পরপরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নিবেন বলে জানিয়েছেন।#
caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/eibela12/public_html/wp-includes/functions.php on line 6121caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/eibela12/public_html/wp-includes/functions.php on line 6121
Leave a Reply