ছাতক-সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন মেগা প্রকল্পে লুটপাট : দুদকের তদন্ত শুরু – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফেসবুক পোস্টের জেরে হামলা- বড়লেখায় বিএনপি যুবদল ও ছাত্রদলের ৫ নেতাকর্মী আহত, ১৩ জনের নামে মামলা সৌদি আরবে আগুনে নিহত আত্রাইয়ের বাকি ৫ জনের মরদেহ দেশে আসছে শনিবার  সিলেটে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ওসমানীনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের নিন্দা কুলাউড়ায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃত্যু মানবকল্যাণে অসামান্য অবদান- ‘প্রাইড অব বৃটেন’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন সিলেটী কন্যা রেহানা আহমেদ ওসমানীনগরে যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পথসভা মৌলভীবাজারে যুব ব্লাড ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্নয় ক্যাম্পেইন ৮৬ কোটি টাকার সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ : এমপির বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদা দাবির পাল্টা অভিযোগ! কমলগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত পল্টন ট্র্যাজেডির সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিতে ওসমানীনগরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

ছাতক-সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন মেগা প্রকল্পে লুটপাট : দুদকের তদন্ত শুরু

  • বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

Manual4 Ad Code

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি::

ছাতক-সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ উন্নয়নের নামে নেওয়া ২ হাজার ৫৩ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প দুর্নীতির অন্ধকারে ঢাকা পড়েছে। একই কাজের জন্য দ্বৈত বিল উত্তোলন, তামার ক্যাবল ও লোহার সামগ্রীসহ সরকারি কোটি কোটি টাকার মালামাল গায়েব, নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার এবং ঠিকাদার-প্রকৌশলী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই হরিলুট হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে অনিয়ম, ভুয়া বিল উত্তোলনসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদিকে, দুর্নীতির ঘটনা ধামাচাপা দিতে সিলেটের বিউবো প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর পক্ষে একটি প্রভাবশালী চক্র কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে।

সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার-এই চার জেলার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষ্যে হাতে নেওয়া ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, সিলেট বিভাগ’ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ-প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে বিপুল অর্থ, কিন্তু মাঠে তেমন কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যায়নি।

Manual8 Ad Code

সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২ হাজার ৫৩ কোটি টাকার এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১৬ সালের ১১ মার্চ পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্প প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। কিন্তু প্রকল্পের শুরু থেকেই এর ব্যয় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।

Manual7 Ad Code

পরিকল্পনা কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, প্রকল্পে বিভিন্ন উপকরণের মূল্য বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি ধরা হয়েছে। উদাহরণ হিসাবে বলা হয়, ৩৩ কেভি ওভারহেড লাইনের প্রতি কিলোমিটার নির্মাণ ব্যয় যেখানে সর্বোচ্চ ৩৪ লাখ টাকা হওয়ার কথা, সেখানে প্রকল্পে তা ধরা হয়েছে প্রায় ৪২ লাখ টাকা। একইভাবে সাবস্টেশন নির্মাণ, ট্রান্সফরমার স্থাপনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যয়ও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার পুরোনো লাইন সংস্কার, ২২টি জিআইএস সাবস্টেশন স্থাপন ও সংস্কার, ১৭টি গ্রিড সাবস্টেশনের সম্প্রসারণ এবং প্রায় ৩ হাজার ৪৮৫টি বিতরণ স্টেশন স্থাপন ও সংস্কারের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বিউবো গ্রিড থেকে গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট হয়ে রাউলী সাবস্টেশন পর্যন্ত ৩৩ কেভি লাইনের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। প্রকল্প অনুযায়ী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সাত বছরেও কাজ শেষ হয়নি। প্রকল্পে ৩ হাজার ৬০০টি খুঁটি বসানোর কথা থাকলেও বাস্তবে বসানো হয়েছে মাত্র ৯০০টি। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে পৃথক পৃথক স্থানে শত শত খুঁটি পড়ে আছে। প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ মূল্যবান ক্যাবল, ট্রান্সফরমার ও লোহার সামগ্রী গায়েব হয়ে গেছে। একই কাজের জন্য একাধিকবার বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। একই কাজের জন্য একদিকে প্রকল্প থেকে বিল তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে ডিভিশন থেকেও আলাদা করে বিল উত্তোলন করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ হয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে রাউলী পর্যন্ত ৩৩ কেভি লাইনের কাজ প্রথমে দুলাল পাল নামে এক ঠিকাদার শুরু করেন। তিনি আংশিকভাবে লাইনের তার টানানোর কাজ করলেও কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই নতুন করে ইস্টিমেট তৈরি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ছাতক বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ ও সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসানের স্বাক্ষরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উন্নয়নের স্বার্থ দেখিয়ে প্রায় ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার নতুন ইস্টিমেট অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে টিআর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের দায়িত্ব পেলেও প্রতিষ্ঠানটির মালিক আজিজুর রহমান ২৪ লাখ টাকার বিনিময়ে কাজটি সানরাইজ ইন্টারন্যাশনাল নামের আরেক প্রতিষ্ঠানের মালিক খোকার কাছে বিক্রি করে দেন। ফলে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় নতুন লাইন ও ট্রান্সফরমার বসানোর নামে গ্রাহকদের কাছ থেকেও টাকা আদায় করা হয়েছে। ছাতক, দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুর, দিরাই ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন লাইন বসাতে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ট্রান্সফরমার বসাতে ৬ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এভাবে প্রায় ৪০ কোটি টাকার বেশি ঘুস আদায় করা হয়েছে গ্রাহকদের কাছ থেকে।

Manual4 Ad Code

এদিকে এই প্রকল্পে অনিয়ম, ভুয়া বিল উত্তোলন ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সচেতন নাগরিকদের মতে, প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব আর্থিক লেনদেন, মালামালের হিসাব ও কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

অভিযোগের বিষয়ে বিউবো সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে ব্যস্ততার কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হক জিয়া অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) চন্দন কুমার সূত্রধর বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তবে প্রকল্পে কোনো অনিয়ম থাকলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।#

Manual2 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews