ছাতকে ইউটিউব দেখে আঙুর চাষে বাজিমাত – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুলাউড়ায় বাল্যবিয়ের কারিগর কাজী মঈনের লাইসেন্স বাতিল কমলগঞ্জে ধলাই নদী ভাঙন; ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি ছাতকে ইউটিউব দেখে আঙুর চাষে বাজিমাত বড়লেখা ফ্যামিলি প্ল্যানিং অফিসের বারান্দায় বস্তাভর্তি স্বাস্থ্য কার্ড! দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি কমলগঞ্জের আম্বিয়া কেজি স্কুলে দিনব্যাপী ফল উৎসব কমলগঞ্জে উদ্ধারকৃত বিপন্ন লজ্জাবতী বানর চা বাগানে অবমুক্ত জুড়ীতে মাসুমা টিম্বাস এন্ড ফার্নিচারের ৪০ বছর পূর্তি উদযাপন বড়লেখায় চা বাগানে অনুমোদন ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ বড়লেখায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসে র‌্যালি আলোচনা ও চারা বিতরণ কুলাউড়ায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে রালী ও আলোচনা সভা

ছাতকে ইউটিউব দেখে আঙুর চাষে বাজিমাত

  • বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

Manual8 Ad Code

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি::

বিদেশ নয়, নিজের মাটিতেই রয়েছে সম্ভাবনা’—এই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের প্রবাসফেরত তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ ফারুক আহমদ। দীর্ঘ ১০ বছরের প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে ইউটিউব থেকে অর্জিত জ্ঞান ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমধর্মী একটি বাণিজ্যিক আঙুর বাগান। ইতোমধ্যে তার এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎসে পরিণত হয়েছে।

কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত মখলিছুর রহমানের ছেলে ফারুক আহমদ নিজ বাড়ির পাশের মাঠে কয়েক একর জায়গাজুড়ে গড়ে তুলেছেন একটি আধুনিক ফলের বাগান ও নার্সারি। সেখানে আঙুরের পাশাপাশি লেবু, মাল্টা, পেয়ারা, হলুদ, আদা, বাংলা লাউসহ বিভিন্ন জাতের ফল ও কৃষিপণ্য চাষ করা হচ্ছে। পরিকল্পিত পরিচর্যা, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে বাগানটি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে।

প্রতিদিনই ছাতক উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের উপজেলা থেকে কৃষক, শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষ বাগানটি দেখতে আসছেন। অনেকেই বাগান ঘুরে দেখে আঙুর চাষ সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন এবং নিজেরাও এ ধরনের বাণিজ্যিক চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

ফারুক আহমদ জানান, প্রবাসে থাকাকালীন অবসর সময়ে ইউটিউবে বিভিন্ন দেশের আধুনিক কৃষি ও আঙুর চাষের ভিডিও দেখতেন। সেখান থেকেই তার মনে কৃষিকাজের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। দেশে ফিরে তিনি প্রথমে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেন। এরপর উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করে প্রায় দুই বছর আগে পরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিক আঙুর চাষ শুরু করেন।

Manual1 Ad Code

তিনি বলেন, “অনেকে মনে করেন বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আঙুর চাষ সম্ভব নয়। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা, উন্নত জাতের চারা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। আমি সেই বিশ্বাস থেকেই কাজ শুরু করেছি এবং এখন তার সুফল পাচ্ছি।”

Manual5 Ad Code

তিনি আরও জানান, প্রতিটি গাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত আঙুর উৎপাদনের আশা করছেন। ইতোমধ্যে প্রতি গাছের ফল ২২০ টাকা দরে বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে পরিপক্ব আঙুর বাজারজাত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাগানের মাঠপর্যায়ের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সাবেক যুবদল নেতার ভাতিজা। তিনি জানান, শুরুতে আঙুর চাষ সম্পর্কে তার কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে নিয়মিত কাজ করতে করতে তিনি গাছের পরিচর্যা, ছাঁটাই, সার প্রয়োগ, রোগবালাই দমনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেছেন।

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, “প্রথমে বিষয়টি কঠিন মনে হলেও এখন অনেক কিছু শিখেছি। গাছে ভালো ফলন দেখে আমরা খুবই আশাবাদী। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুরসহ বিভিন্ন ফলের চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

তরুণদের উদ্দেশে ফারুক আহমদ বলেন, “শুধু চাকরি বা বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন না দেখে কৃষিকে লাভজনক পেশা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। অল্প জমি লিজ নিয়েও আধুনিক কৃষিকাজ শুরু করা যায়। পরিশ্রম, ধৈর্য, সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে দেশেই সফল উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব।”

বাগান পরিদর্শনে এসে ছাতক উপজেলা কৃষক দলের নেতা এমাদ উদ্দিন বলেন, “ফারুক আহমদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি শুধু আঙুর নয়, একসঙ্গে বিভিন্ন জাতের ফলের চাষ করে আধুনিক কৃষির একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এমন উদ্যোগ তরুণদের কৃষির প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।”

তবে ফারুক আহমদ আক্ষেপ করে বলেন, স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগাযোগ খুবই সীমিত। এখনো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার বাগানটি পরিদর্শনে আসেননি। কৃষি বিভাগের আরও নিবিড় কারিগরি সহযোগিতা ও নিয়মিত পরামর্শ পেলে আঙুর চাষকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

Manual8 Ad Code

এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা বিদ্যুৎ তালুকদার বলেন, উপজেলায় ইতোমধ্যে অনেক কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ করছেন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। সম্ভাবনাময় এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের পাশে থাকবে।

স্থানীয়দের মতে, কৃষ্ণনগরে গড়ে ওঠা এই আঙুর বাগান শুধু একটি সফল কৃষি উদ্যোগ নয়, বরং এটি প্রমাণ করেছে যে আধুনিক প্রযুক্তি, পরিকল্পনা ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে বাংলাদেশের মাটিতেও বিদেশি ফলের সফল চাষ সম্ভব। প্রবাসফেরত তরুণ ফারুক আহমদের এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করবে বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।###

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!