কুলাউড়ায় বাল্যবিয়ের কারিগর কাজী মঈনের লাইসেন্স বাতিল – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুলাউড়ার ভাটেরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ওলামা লীগ নেতা সাইফুল সিদ্দেকী সেফুলের অপতৎপরতা  রাজনগরে শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতি : ডাকাতের হামলায় গৃহকর্তা আহত কমলগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত বড়লেখায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির কমিটির সদস্য শ্যামলী সূত্রধরকে দল থেকে অব্যাহতি থানা পুলিশের অভিযান- বড়লেখায় চুরির মামলায় গ্রেফতার ৬, স্বর্ণালংকারসহ মালামাল উদ্ধার কমলগঞ্জের পালিতকোনা পূজামন্ডপে গুণীজন সংবর্ধনা ছাতকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শণ করলেন সুনামগঞ্জ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ জুড়ী উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ কমলগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

কুলাউড়ায় বাল্যবিয়ের কারিগর কাজী মঈনের লাইসেন্স বাতিল

  • বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

Manual8 Ad Code
এইবেলা, কুলাউড়া  ::
 মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ৫ নম্বর ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মোঃ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মসহ বিধি বহির্ভূতভাবে নিকাহ রেজিস্ট্রার কার্যক্রম পরিচালনা করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার নিকাহ্ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ আবদুল ওয়াহাব স্বাক্ষরিত পত্রে এই তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন (পরবর্তীতে সংশোধিত নাম মোঃ মঈন উদ্দিন চৌধুরী) এর বিরুদ্ধে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর ১৩ (ঙ) বিধি লঙ্ঘন করে নিজ অধিক্ষেত্রের বাহিরে পাশ্ববর্তী কাদিপুর ইউনিয়নে বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ও তা একই বিধিমালার বিধি ১১ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ হওয়ায় গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ আবদুল ওয়াহাব স্বাক্ষরিত এক পত্রে কাজী মঈন উদ্দিনকে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু কাজী মঈন কোন জবাব দাখিল না করায় তাঁর নামে উক্ত বিভাগ থেকে গত ০৩/০৮/২০০২ . তারিখের বিচার ৭/২ এন ৩৯/৮৩-৮০৫ নং স্মারকে ইস্যুকৃত নিকাহ্ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নে নিকাহ রেজিস্ট্রার পদ শূন্য ঘোষণাপূর্বক শূন্য অধিক্ষেত্রে অনধিক ১২০ (একশত বিশ) দিনের জন্য পাশ^বর্তী কোন ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রারকে বিধি মোতাবেক নিকাহ রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানের জন্য এবং সাবেক নিকাহ রেজিস্ট্রার মোঃ মঈন উদ্দিন এর নিকট থেকে বালাম বহিসহ নিকাহ রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজাদি সংগ্রহ করার জন্য জেলা রেজিস্ট্রার মৌলভীবাজার কে নির্দেশ প্রদান করা হয়।
স্বাক্ষরিত ওই চিঠি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোঃ মঈন উদ্দিন নিজ এলাকার বাইরে গিয়ে কাদিপুর ইউনিয়নের কাকিচার এলাকায় অবস্থিত এম এন এইচ কমিউনিটি সেন্টারে বিধি বহির্ভূতভাবে প্রতিনিয়ত নিকাহ রেজিস্ট্রি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এরপর জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে ওই অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হয় জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে। এদিকে গত বছরের ১১ নভেম্বর জেলা রেজিস্ট্রার মফিজুল ইসলাম নিকাহ রেজিস্ট্রার মঈন উদ্দিনের  অফিস পরিদর্শণ করে বেশ কয়েকটি বাল্যবিয়ের সত্যতা পান। বালাম নং ৪২ পর্যালোচনা করে ৫৩ নং পৃষ্টায় কনের বয়স ১৫ বছর ৬ মাস ১৯ দিন, ৯১ নং পৃষ্টায় কনের বয়স ১৬ বছর ১০ মাস ২৩ দিন, ৯৬ নং পৃষ্টায় কনের বয়স ১৬ বছর ৩ মাস ২ দিন উল্লেখ করা হয়। বালাম নং ১৫ এর ২৭ নং পৃষ্টায় বর এবং কনের বয়স লেখা নেই। এভাবে বিভিন্ন বালাম নম্বরে বাল্যবিয়ের অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। নানা অনিয়ম ও অভিযোগের পর জেলা রেজিস্ট্রার মফিজুল ইসলাম সরেজমিনে পরিদর্শনে দৈবচয়ন প্রক্রিয়ায় বালাম যাচাই কালে কাজী মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম বের হয়ে আসে। এতে প্রমাণিত হয় যে, নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী মঈন উদ্দিন অবাধে বাল্যবিয়ে রেজিস্ট্রি করে থাকেন। যার কারণে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এবং মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা ২০০৯ এর লঙ্ঘন হওয়ায় নিকাহ রেজিস্ট্রার মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে তাঁর লাইসেন্স বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত বছরের ১৭ নভেম্বর কারণ দর্শানো নোটিশ প্রেরণ করেন জেলা রেজিস্ট্রার মফিজুল ইসলাম।
এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার মফিজুল ইসলাম বলেন, নিকাহ রেজিস্ট্রার মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তাকে শোকজ করেন। কিন্তু তিনি শোকজের জবাব না দেয়ার কারণে তাঁর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।##

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews