শ্রীমঙ্গলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়মের তদন্ত  করা হলো – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বড়লেখায় মশক নিধনে এমপির নেতৃত্বে সমন্বিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জুড়ীতে প্রবাসী সমাজসেবক মাহবুব হাসান সাচ্চুর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ওসমানীনগর আব্দুল আজিজ ফাউন্ডেশনের  খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ছাতকে ব্যবসার নামে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র প্রাণনাশের হুমকি : থানায় অভিযোগ কমলগঞ্জের খুচরা দোকানগুলোতে জ্বালানি তেল সংকটে দুর্ভোগ বড়লেখার সুজানগর ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার মাহফিল আত্রাইয়ে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা কমলগঞ্জে বছরের প্রথম কালবৈশাখি ঝড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড কমলগঞ্জে মণিপুরি ললিতকলা একাডেমীর পরিচালকের দায়িত্ব পেলেন ইউএনও নাগেশ্বরীতে ইউনিসেফের অর্থায়নে বাল্যবিবাহ বন্ধে সংলাপ ও ইন্টারেক্টিভ সভা

শ্রীমঙ্গলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়মের তদন্ত  করা হলো

  • রবিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২১

Manual2 Ad Code

সৈয়দ আরমান জামী, শ্রীমঙ্গল : শ্রীমঙ্গলের কাকিয়াছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জগাই রাজবংশীর বিরুদ্ধে স্কুলের পুরাতন বিল্ডিংয়ের মালামাল, কাঠ, টিন, দরজা জানালা, চেয়ার টেবিল, বেঞ্চ ও সিলিং ফ্যান আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক ২ সদস্যের কমিটি সরেজমিনে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেছে আজ।

অদ্য ১০ জানুয়ারি ২০২১ রোববার সকাল ১১টায় সরেজমিনে তদন্ত করা হয়। সাড়ে ১২টায় তদন্ত কাজ শেষ হয়। ২ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে ছিলেন সিনিয়র সহকারী শিক্ষা অফিসার মনোরমা দেবী ও সহকারী শিক্ষা অফিসার আবুল হাসনাত মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া। তদন্ত কাজে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বিটিআরআই উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক ও কাকিয়াছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহসভাপতি রিতা দত্ত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আমিরুজ্জামান; দৈনিক খোলাচিঠি পত্রিকার বার্তা সম্পাদক নান্টু রায় ও দৈনিক যায়যায়দিনের শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি মো: শফিকুল ইসলাম সহ অন্যান্য প্রতিনিধিরাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অভিযুক্ত অত্র স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জগাই রাজবংশী ও অভিযোগকারীগণ যথাক্রমে সর্বজনাব মুহম্মদ আলী, হরু আহমেদ, সালেহ আহমদ, ধিরেন বাকতি, বিমল দাস, দেবেন দাস ও নকুল দাস প্রমূখ।

Manual2 Ad Code

অভিযোগের পক্ষে সাক্ষ্য দেন এলাকার মুরব্বি রুহিনী পাল ও ইউপি মেম্বার সুবল নায়েক সহ অন্যান্যরা।

Manual2 Ad Code

অভিযোগকারীরা তাদের স্বপক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অভিযুক্ত স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জগাই রাজবংশী আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক বক্তব্য দেয়। জগাই রাজবংশী তার বক্তব্যে কিছু মালামাল বিশেষ করে টিন, কংক্রিট, রড, ৭টি জানালা বিক্রির কথা স্বীকারোক্তি দেন। বাকী মালামালগুলো স্কুলেই আছে বলে জানান।

Manual1 Ad Code

উল্লেখ্য যে, ১৯৮৪ সালে স্থানীয় জনসাধারণের উদ্যোগে ও সহায়তায় স্থাপিত এ বিদ্যালয়টি সরকারি হওয়ার পর ২০২০ সালে নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করা হয় বলে জানা যায়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হয়ে জগাই রাজবংশী ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুরাতন বিল্ডিংয়ের মালামাল, কাঠ, টিন, দরজা জানালা, চেয়ার টেবিল, বেঞ্চগুলোসহ ৪টি সিলিং ফ্যান আত্মসাতের উদ্দেশ্যে করে দিয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
স্কুলের এসব মালামাল বিক্রি করার পর কোনো হদিস পাওয়া না গেলেও রামনগর মনিপুরি পাড়ার শহীদ মিয়ার কাছে রড ও টিনগুলো বিক্রি করেছে বলে এলাকাবাসী জানায়। আর স্কুলের টিনের সাথে সংযুক্ত থাকা কাঠগুলো কাকিয়াছড়ার স্থানীয় বাসিন্দা জালাল মিয়ার কাছে বিক্রি করেছে বলে তারা জানায়। পুরাতন বিল্ডিংয়ের রাবিশ ইট/ কংক্রিটগুলোও বিক্রি করে দিয়েছে বলে জানা যায়।
একজন অক্ষরজ্ঞানহীন হয়েও কমিটির সভাপতি হয়ে জগাই রাজবংশী তার ইচ্ছামত স্থানীয় জনমতের বা কমিটির মতামতের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার বাহাদুরি দেখিয়ে বহু টাকার বিনিময়ে অস্থানীয় সনজু কাহার নামে এক ব্যক্তিকে বিদ্যালয়ে নিয়োগ দিয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।
স্কুলের পুরাতন বিল্ডিংয়ের মালামাল তছরূপসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মুঠোফোনে কাকিয়াছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জগাই রাজবংশী বলেন, “এই অভিযোগ ভাওতাবাজী। এই আমি ইয় করিনা। বুঝছেন, ইয় ভাই, আমি জগাই বলছি। বুঝছেন, আমি এমন কোনো কাজ করিনা যে, পিছনে আমাকে কেউ লাথি মারতে পারে। ইয় থাকবে।”
আরেক প্রশ্নের জবাবে জগাই রাজবংশী আরও বলেন, “পুরাতন কিছু জিনিস আমি মন্দিরে দিছি। যতগুলাই বিক্রি হইছে, উপর লেভেলে আলাপ করেই তা আমি করছি। জহর স্যার আছে, তার লগে আলাপ করেছি।”
জগাই রাজবংশী আরও বলেন, “জগাই ২৫ বছর যাবৎ কাজ করছে। কোনো বেটার কিছু করার সুযোগ নাই। এইটারও সুযোগ নাই। নিউজ করলে আমার কোনো কিছু আসে যায়না। আমাকে এখানে সরকারি অনুদান দেওয়া আছে। পুরাতন বিল্ডিংয়ের মালামাল নতুন ভবনে লাগানো হয়েছে।”
অভিযোগ সম্পর্কে আরও বলেন, “যে বেটায় কইছে সেই বেটা কোনো মানুষ না। যে অভিযোগ করছে, সে একটা অমানুষ। আমার এইরকম বেটা নাই যে, বুকে হাত দিয়ে ইয় করার মত। সুইপার থেকে শুরু করে টপ পর্যন্ত সবাই চিনে জগাই কি জিনিস।”
আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “ইউএনও আমাদের অর্ডার দিছে, তাই এইগুলা আমরা বিক্রি করে দিছি।”
বিক্রিলব্ধ টাকাগুলো সম্পর্কে বলেন, “টাকা স্কুলেই আছে। ফান্ডে জমা আছে।”
কোনো সরকারি স্কুলের পুরাতন ভবনের মালামাল, কাঠ, টিন, দরজা জানালা, চেয়ার টেবিল, বেঞ্চ ও সিলিং ফ্যান আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বিক্রি করে দেয়ার এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো প্রতিকার আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে মুঠোফোনে চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি জহর তরফদার বলেন, “অবশ্যই প্রতিকার আছে।”
কাকিয়াছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জগাই রাজবংশীর বিরুদ্ধে স্কুলের পুরাতন বিল্ডিংয়ের মালামাল তছরূপসহ নানা অনিয়মের এলাকাবাসীর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে আমাদের প্রতিনিধিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার এস এম জাকিরুল হাসান বলেন, “পুরাতন বিল্ডিংয়ের মালামাল, কাঠ, টিন, দরজা-জানালা, চেয়ার-টেবিল, বেঞ্চ ও সিলিং ফ্যান সহ কোনো কিছুই বিক্রি করতে পারে না। বরং এগুলো সংরক্ষণ করে রাখার কথা। এছাড়া নতুন স্কুল ভবনে এর অনেকগুলো ব্যবহারের জন্য কাজে লাগবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলাজনিত অবস্থা স্বাভাবিক হলে স্কুল খুলে দেয়া হলে নতুন স্কুল ভবনের জন্য ওইসব চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ ও সিলিং ফ্যান সমূহ দিয়েই কাজ সারতে হবে। কারণ নতুন পরিস্থিতিতে নতুন চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ ও সিলিং ফ্যান ক্রয়ের সরকারি বরাদ্দ হতে সময় লাগতে পারে। যে কারণে এগুলো সংরক্ষণ করে রাখার কথা। যেহেতু অভিযোগটি প্রথম জানলাম। বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
এসব মালামাল বিক্রির সরকারি বিধান সম্পর্কে তিনি বলেন, “প্রকাশ্য নিলামে এসব বিক্রি করতে পারে।”
কাকিয়াছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জগাই রাজবংশীর বিরুদ্ধে স্কুলের পুরাতন বিল্ডিংয়ের মালামাল তছরূপসহ নানা অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগপত্র প্রদান করেছে এলাকাবাসী। অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষর করেছেন এলাকাবাসীর পক্ষে সর্বজনাব মুহম্মদ আলী, হরু আহমেদ, সালেহ আহমদ, ধিরেন বাকতি, বিমল দাস, দেবেন দাস ও নকুল দাস প্রমূখ।
কাকিয়াছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জগাই রাজবংশীর বিরুদ্ধে স্কুলের পুরাতন বিল্ডিংয়ের মালামাল তছরূপসহ নানা অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার-৪) আসনের মাননীয় এমপি মহোদয় সহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি / সাধাররণ সম্পাদক, আরপি নিউজের সম্পাদক ও সাপ্তাহিক নতুনকথার বিশেষ প্রতিনিধি সহ জাতীয় পত্রিকার সকল স্থানীয় প্রতিনিধি বরাবরে ওই লিখিত অভিযোগপত্রের কপি প্রদান করা হয়।

Manual3 Ad Code

এলাকাবাসীর উপরোক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযোগ দায়েরের ২০ দিনের মাথায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক গঠিত ২ সদস্যের কমিটি সরেজমিনে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করালো আজ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!