কমলগঞ্জে টড়ক পূজা সমাপ্ত – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বড়লেখায় ওসির প্রেসব্রিফিং- গৃহবধু মুন্নির মৃত্যু আত্মহত্যা জনিত, প্ররোচনার মামলা দিলে ব্যবস্থা নিবে পুলিশ বড়লেখায় মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা গ্রহণ ও অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন বড়লেখায় নিসচা’র কর্মপরিকল্পনা সভায় টিশার্ট প্রদান ও দোয়া মাহফিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হলেন এম‌পি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বিধি বর্হিভুতভাবে পরিচালনা- বড়লেখার এস.আর ব্রিকসের লাইসেন্স বাতিল জুড়ীতে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় অবৈধ মোটরসাইকেল উদ্ধার কুলাউড়ায়  চা শ্রমিকদের  প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ  হারিছ মোহাম্মদ : নিভে গিয়েও আলো ছড়ানো নির্ভীক এক সাংবাদিক সিলেট নগরীর গ্রীনহিল কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়াজ উদ্দীনের যোগদান হাকালূকির মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অভিযান, বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ

কমলগঞ্জে টড়ক পূজা সমাপ্ত

  • শনিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৩

Manual8 Ad Code

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি ::  মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ রহিমপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ছয়চিরী দিঘীর পারে দুইদিনব্যাপী চড়ক পূজা ও মেলা শনিবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে সমাপ্ত হয়েছে। বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুক্রবার ১৪ এপ্রিল শুরু হয় এ চড়ক পূজা ও মেলা।

দুইশত বছরের অধিক সময় ধরে চলে আসা প্রাচীন ঐতিহ্য লালিত চড়ক পূজা ও মেলাকে কেন্দ্র করে কমলগঞ্জের ছয়চিরিসহ আশেপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল। শনিবার ১৫ এপ্রিল বিকালে ফের চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

রহিমপুর ইউনিয়নের ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে বাংলা পুঞ্জিকা মতে প্রতিবছরের চৈত্র সংক্রান্তিতে ২দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে চড়ক পূজা উৎসব। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

Manual4 Ad Code

জানা যায়, চড়ক পূজা উৎসবের ১০/১২ দিন পূর্ব থেকে বিভিন্ন এলাকার পূজারীর মধ্যে ৪০/৫০ জন সন্ন্যাস ধর্মে দীক্ষিত হয়ে গ্রামের সনাতনী হিন্দু বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিব-গৌরীসহ নৃত্যগীত সহকারে ভিক্ষাবৃত্তিতে অংশ নেন। এ ক’দিন তারা পবিত্রতার সহিত সন্যাস ব্রত পালন করে নিরামিষ ভোজি এবং সারাদিন উপবাস পালন করেন।

Manual3 Ad Code

চড়ক পূজার ২ দিন পূর্বে পূজারীরা শ্মশানে গিয়ে পূজা অর্চনা করেন ও শেষে গৌরীর বিয়ে, গৌরী নাচ ও বিভিন্ন গান গেয়ে ঢাকের বাজনায় সরগরম করে গোটা এলাকা। ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে ভক্তরা নৃত্য করার জন্য কলাগাছ ও বাঁশের খুটি বেষ্টিত মন্ডলী তৈরী করে। পূজার প্রথম দিন নিশি রাতে তান্ত্রিক মন্ত্র ধারা কাচ পড়া দিয়ে জলন্ত (লাকড়ির কয়লা) ছাইয়ের উপর মানুষরুপি কালী সেজে নৃত্য করে।

অন্য ভক্তগণ নৃত্যের তালে তালে, ছন্দে ছন্দে ঢোলক, কাশি, করতাল বাজিয়ে থাকেন। এসময় দর্শনার্থীরা জয়ধ্বনি এবং নারীদের কন্ঠে হুলু ধ্বনি দিতে থাকেন।

জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে এই ‘কালীনাচ’ অত্যন্ত আকর্ষনীয় এবং তান্ত্রিক মন্ত্র দিয়ে ৭টি বলিছেদ (লম্বা দা) এর উপর শিব শয্যা করেন। শিবের উপর উঠে কালী ভয়ানক এক অদ্ভুত রুপ ধারন করেন। এসময় উপস্থিত দর্শনার্থী সবাই আতঙ্কিত হয়ে উঠেন। কালীনাচ শেষ হওয়ার পর শনিবার সকালে পূজারীরা পূজা করে পান বাটা দিয়ে চড়ক গাছকে নিমন্ত্রণ জানানো হলে পার্শ্ববর্তী ঐতিহাসিক ছয়চিরি দিঘী থেকে ভেসে উঠে ১০০ ফুট লম্বা চড়ক গাছ।

Manual3 Ad Code

এ গাছের চুড়া থেকে মাচা পর্যন্ত চারটি পাখার মতো করে বাধা হয় চারটি মোটা বাঁশ এবং তাতে যুক্ত করা হয় মোটা লম্বা রশি। আগের বছর উৎসব শেষে এই দিঘীতে ডুবিয়ে রাখা হয়ে ছিল চড়ক গাছ। দিঘীর পাড়ে গর্ত খুড়ে সোজা এবং খাড়া করে পোঁতা হয় এ গাছ।

দু’দিনব্যাপী চড়ক পূজা ও মেলায় বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষ দর্শনার্থীর বিশাল সমাগম ঘটে উৎসবস্থলে। বিকেল বেলা ভক্তদের মন্ডলীতে বিশাল দা (বলিছেদ) দিয়ে নৃত্য, শিবের নৃত্য ও কালীর নৃত্য দেখানো হয়। নৃত্য শেষে ছয়চিরি দিঘীতে স্নান করে ভক্তদেরকে লোহার শিকল শরীরের বিভিন্ন অংশে পিষ্ট (গাঁথা) করা হয়।

বিশেষ করে জিহ্নবা ও গলায় গেঁথে দেয়া হয়। নৃত্যের তালে তালে চড়ক গাছ ঘুরানো হয়। দেবতার পূজা-অর্চনা শেষে অপরাহ্নে মূল সন্ন্যাসী ৪ জন ভক্তের (জীবিত মানুষের) পিঠে লোহার দু’টি করে বিরাট আকৃতির বড়শি গেঁথে রশিতে বেঁধে ঝুলিয়ে চড়ক গাছ ঘুরানো হয়। এ সময়ে দর্শনার্থীদের অনেকে বাতাসা আর কলা উপরের দিকে উড়িয়ে দেন আর দর্শনার্থীরা তা কুড়িয়ে নেন।

শনিবার ১৫ এপ্রিল ফেরা চড়ক পূজায় দেবতার পূজা অর্চনা করা হয়। ছয়চিরি দিঘীর চার পাড়ের মধ্যে দিঘীর পূর্বপাড়ে ১টি, উত্তর পাড়ে ১টি এবং দক্ষিন পাড়ে ২টি চড়ক গাছ স্থাপন করে পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

Manual7 Ad Code

তান্ত্রিক মন্ত্রের ধারা বিভিন্ন অলৌকিক ধর্মীয় কর্মসূচী উপভোগ করার জন্য প্রতি বছরের মত এবারও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে দর্শনার্থীর উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। চড়ক পূজা উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী এক বিশাল মেলা বসেছিল।

চড়কপূজা উদযাপন কমিটির নেতা অনিরুদ্ধ প্রসাদ রায় চৌধুরী জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!