কমলগঞ্জে ৫২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক : ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খাদ্যে ভেজাল রোধে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে —-এমপি লুনা কমলগঞ্জে যুবকের বিরুদ্ধে চুরির অপবাদে অমানষিক নির্যাতন; ভিডিও ভাইরাল কুড়িগ্রামে ওয়াল্ড ভিশনের আয়োজনে ৫৪টি পরিবার পেল স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন সিলেট–সুনামগঞ্জ মহাসড়কে বাস–সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন- বড়লেখায় ১১৬৮ মেট্রিক টন ধান ও চাল কিনবে সরকার পুলিশের বিশেষ অভিযান- বড়লেখায় মাদক ব্যবসায়িসহ ৬ পলাতক আসামি গ্রেফতার কাতারস্থ কুলাউড়া ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নতুন সভাপতি বাবুল আহমেদ দুর্নীতি বিরোধী বিতর্কে কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন ক্যামেলিয়া হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা না হলে আন্দোলনে যাবে মৌলভীবাজার চা-শ্রমিক সংঘ বড়লেখায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইলেক্ট্রিশিয়ানের মৃত্যু

কমলগঞ্জে ৫২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক : ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

  • শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৩

Manual6 Ad Code

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ::: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫২টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ ও ৩৬জন সহকারী শিক্ষকের শূণ্য। ভারপ্রাপ্ত প্রধান (সহকারী শিক্ষক) শিক্ষক দিয়ে চলছে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক শূণ্যতায় বিদ্যালয়গুলো অনেকটাই অবিভাবকশূণ্য হয়ে আছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদগুলো অতি দ্রুত পূরণ করা দরকার বলে মনে করছেন শিক্ষক, অভিভাবক এবং সচেতন মহল।

Manual1 Ad Code

এছাড়া নানা সংকটের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে দৈন্যদশা চলছে। একারণে অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংকটে পড়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকার কারণে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব শূণ্য পদ পূরণ করা হবে বলে জানান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, কমলগঞ্জ উপজেলায় নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলিয়ে ১৫২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ১৫২জন প্রধান শিক্ষক এবং ৭৭৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৫২ টি বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (সহকারী শিক্ষক) দিয়ে। এছাড়া উপজেলার মোট ১৫২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদও শূণ্য রয়েছে।

১৫২টি বিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীর রয়েছে ২২হাজার ৩শত ৩৬জন। তার মধ্যে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) রয়েছে ৫১জন।

Manual7 Ad Code

এছাড়া এ উপজেলায় বেসরকারি ভাবে ৭৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। সেগুলোতে রয়েছে ৯হাজার ৬শত ৮৭জন ছাত্র ছাত্রী। এর মধ্যে বিশেষ চাহিদা সম্পূর্ণ (প্রতিবন্ধী) রয়েছে ১১জন। এসব বিদ্যালয় আবার চলছে কেজি, এনজিও ও চা বাগান পরিচালিত। কেছুলুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক পপি আক্তার ডলি জানান, উপজেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষাদান ও সুষ্ঠু পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে প্রধান শিক্ষকবিহীন এসব বিদ্যালয়ে দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। আর তা না হলে দিন দিন উপজেলার প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হবে। প্রধান শিক্ষক শূণ্যতার কারণে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান ধরে রাখা সম্ভব হয় না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের পাঠদানের পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ, শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণ, সভা-সেমিনারে অংশ নেয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয়।

Manual3 Ad Code

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, যখন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন শিক্ষক সংকট রেখেই কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রদান করেন। আবার দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদের কাঁধেই ভারপ্রাপ্তের ভার পড়ছে। কিন্তু দায়িত্ব পালনকালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা সরকারি তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না। অন্যদিকে অফিসের বিভিন্ন নিদের্শনা অনুযায়ী ভারপ্রাপ্তদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয়। এতে বিদ্যালয়ে পাঠদানের

ব্যাপক ক্ষতি হয়। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। শ্রীসূর্য্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পারভীন জাহান জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিদ্যালয় ও অফিসের কাজের পাশাপাশি স্কুলে ক্লাসও নিতে হচ্ছে। শিক্ষার গুণগত মান অক্ষুন্ন রাখতে আপ্রাণ
চেষ্টা করে যাচ্ছি।

Manual6 Ad Code

কেছুলুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমেনা বেগম বলেন, আমার স্কুলে ২শত ৬৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ৬জন শিক্ষক দ্ধারা হয় না। তাছাড়া সবাই মহিলা শিক্ষক। মহিলা শিক্ষকের অনেক সময় নানান সমস্যা থাকতে পারে, সে ক্ষেত্রে যদি আরও ২জন পুরুষ শিক্ষক দেওয়া হয় তাহলে আমাদের জন্য ভালো হয় এবং পাঠদানে আরও গতিশীল হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূণ্য রয়েছে তার তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রদানের জন্য সহকারী শিক্ষকের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকের শূণ্য পদ পূরণের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে কার্যক্রম চলমান আছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব শূণ্য পদগুলো পূরণ করা হবে। এছঅড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ৬জন থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন ৩জন, কর্মচারী ৫জনের মাঝে কর্মরত আছেন মাত্র ১জন। এসব পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, আশা করছি দ্রুত সময়ে পদগুলো পূরণ করা হবে।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!