সংরক্ষিত বন উজাড় করতে মরিয়া কুলাউড়ার খাসিয়ারা – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুলাউড়ায় বেগমানপুর বিদ্যালয়ের ভূমি দাতা সদস্য নিয়ে ধূম্রজাল: দুই পক্ষের উত্তেজনা ছাতকে সুরমা নদীভাঙনে বিলীন স্কুল-মসজিদ নদী : আতঙ্কে বাউসা-কেশবপুরের মানুষ ভূরুঙ্গামারীতে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত  ওসমানীনগরে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে ধারালো অস্ত্রসহ আটক ৩ ছাতকে উপজেলা প্রশাসন ও গ্রামবাসীর অভিযানে ২২ অবৈধ ড্রেজার জব্দ কুলাউড়ায় একশ পিছ ইয়াবাসহ পুলিশী অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার ​কুড়িগ্রামে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ কুলাউড়ায় মনু নদী থেকে অবৈধভাবে বালু বিক্রির দায়ে ইউপি সদস্যের জরিমানা  বড়লেখা প্রেসক্লাবে মতবিনিময় সভা- ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, মানুষের কল্যাণেই রাজনীতি করি : শরীফুল হক সাজু সংবেদনশীল মানুষ হতে হলে বই পড়তে হবে – যুগ্ম সচিব মোস্তফা মোরশেদ

সংরক্ষিত বন উজাড় করতে মরিয়া কুলাউড়ার খাসিয়ারা

  • বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

Manual6 Ad Code

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল করে খাসিয়ারা পান চাষের নামে নির্বিচারে উজাড় করছে বন। এতে একদিকে হুমকির মুখে পড়েছে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র অন্যদিকে বিপুল পরিমান রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সরক্ষিত এই বন রক্ষা করতে একাধিক বার হামলার শিকার হতে হয়েছে বন বিভাগের কর্মীদের। এ ব্যপারে চরম উদাসীন পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।

Manual4 Ad Code

কর্মধা ইউনিয়নের নলডরী বনবিট সূত্র জানায়, নলডরী বিটের অধীনে ৪টি মৌজায় প্রায় ২৪৬৮.৫৪ একর সংরক্ষিত বনভূমি ছিল। এরমধ্যে বিভিন্ন সময়ে খাসিয়ারা ১৯৩৭.১২ একর জায়গা জরব দখল করে নিয়েছে। এই জায়গা দখল করে পান চাষে নামে গাছের ডালপাল উড়ার করে বিরামভূমিতে পরিণত করেছে। বাকি বাঁশ মহাল থাকা ৫৩১.৪২ একর জায়গাটুকু দখল করতে এখন লেগেছে উঠেপড়ে।

Manual1 Ad Code

সরেজমিনে দেখা গেছে, বন বিভাগের জায়গা অবৈধভাবে জবরদখল করে খাসিয়ার স্থাপন করেছে কয়েকটি পান পুঞ্জি। একেক পান পুঞ্জিতে ৩০/৩৫ পরিবার আবার কোন কোন পুঞ্জিতে ৫০/৬০টি পরিবার গৃহ নির্মাণ করে আলিশান জীবনযাপন করছেন। তাদেরকে কোন সরকারী খাজনা, ট্যাক্স কিছুই দিতে হচ্ছেনা। যেনো তাদের নিয়মেই চলে পুঞ্জির সকলকিছু। একেক খাসিয়া শত শত একর জায়গায় পান চাষ করে পান বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা মাসিক উপার্জন করছে। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার দেশের কোন ব্যাংকে তারা টাকা সঞ্চয় করে না। পান বিক্রি বাবৎ উপার্জিত লক্ষ লক্ষ টাকা পাচার করে ভারতে। ভারতে একেক খাসিয়ার জমি, বাড়ী-ঘর, ব্যবসা বানিজ্য রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে।

পান চাষের খাসিয়ারা নষ্ট করছে বনের সৌন্দর্য্য। এক সময় পাহাড়ে বেশ কয়েকটি বাঁশ মহাল ছিল। বাঁশ মহাল ইজারা দিয়ে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেতে। কিন্তু বাঁশ মহালে পান না হওয়ায় সেই বাঁশ মহালগুলো কেটে তাদের দখলে নিয়ে গেছে পান গাছে যাতে ছায়া না ধরে সেজন্য শত বছরের পুরনো গাছে মাথাসহ ডালপাল কেটে ফেলে। বিষ দিয়ে ঘাষ ও লতা-পাতা কেটে পেলে। ফলে হারিয়ে গেছে বনাঞ্চলে হরিণ, বাঘসহ বিভিন্ন প্রজাতির বণ্যপ্রাণীদের আনাগোনা ছিল। কিন্তু পাহাড় উজাড় করে পান চাষ ও বসতি স্থাপন এবং বন্য প্রানী শিকার করে খেয়ে ফেলার কারনে বর্তমানে জীববৈচিত্র ধবংস হয়ে গেছে।

এদিকে ১৬ নভেম্বর নলডরী বনবিটের অধীনে লবনছড়া বাঁশ মহালে ৩৫ একর বাঁশ কাটার খবর পেয়ে ও শ্রীমঙ্গল রেঞ্জের এসিএফ জিএম আবু বক্কর সিদ্দিক ও মুরইছড়া বন বিট কর্মকর্তা (নলডরী বিট কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অর্জুন কান্তি দস্তিদার নেতৃত্বে বনকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এসময় তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে সঙ্গে নেন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বনবিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত দুই সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের। বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালায় খাসিয়ারা। তাদের সহযোগীতা করেন পুঞ্জির কয়েকজন বাঙালী চৌকিদার। খাসিয়াদের হামলায় আহত হন নলডরী বন বিভাগের কর্মী আকরাম হোসেন, সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী আমির আলী, জিয়াসহ আরো ৫ জন। পরে তাদের উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। বাঁশ কাটার সময় হাতেনাতে আটক নবনছড়া পুঞ্জির করডর খাসিয়ার ছেলে স্টেপ খাসিয়া (২৫) কে। ওইদিনই বিট অফিসার অর্জুন কান্তি দস্তিদার স্টেপ খাসিয়াকে থানায় হস্তান্তরের পাশাপাশি কুলাউড়া থানায় বাঁশ কাটা ও বন বিভাগের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।

অন্যদিকে এই ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে খাসিয়া। তারা মিথ্যে পান কাটার অভিযোগ এনে স্থানীয় বন বিভাগের উপকারভোগীদের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

Manual5 Ad Code

এ প্রসঙ্গে বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদার বলেন, সংরিক্ষত বনাঞ্চলের পুরোটাই বাঁশ ও গাছপালায় ভরপুর ছিল। কিন্তু খাসিয়ারা পুরো বনকেই উজাড় করে ফেলেছে। খাসিয়াদের প্রধান শত্রু বাঁশ। তারা চায় না পাহাড়ে বাঁশ থাকুক। তাই বাঁশ কেটে উজাড় করে দিচ্ছে। গাছ থাকলেই গাছের ছায় পান না হওয়ায় তারা গাছের মাথা ও ডাল কেটে দেয়। ১-২ বছর পর পর গাছের মাথা ও ডাল কেটে দেয়। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পুঞ্জিতে স্থায়ীভাবে স্থাপনা তৈরী না করতে পারে সেজন্য রড, সিমেন্ট কিংবা বালু তুলতে তাদের নিষেধ করা হয়েছে।

বন বিভাগের উপকার ভোগীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপকার ভোগীরা তাদের বনায়ন দেখাশুনা করবে। সামাজিক বনায়নের বিধিমালায়ই আছে সাধারণ জনগন সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষা করবে। আমাদের নিরাপত্তার জন্য সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু খাসিয়ারা চায় না আমাদের সঙ্গে পাবলিক থাকুক। তাই তারা উপকারভোগী ও সাধারণ জনগনের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। ওই আমরা সঙ্গে ছিলাম। কেউই তাদের বনায়নের কোনো ক্ষতি করে নাই। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো তারা যদি পাবলিকদের মামলা দিয়ে হয়রানি করে তাহলে মামলার ভয়ে পাবলিক আমাদের সঙ্গে থাকবে না। আর আমরা জনবল কম থাকায় তাদের সঙ্গে পারব না।

তিনি বলেন, আমি এই বিটে যোগদান করার পরই দেশের সম্পদ পাহাড় রক্ষার জন্য অপ্রাণ চেষ্টা করছি। সব সময়ই পাহাড় কাটার প্রতিবাদ করেছি। বিভিন্ন সময় খাসিয়াদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। তাই আমাকে এখন থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য খাসিয়ারা চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে কুলাউড়ার প্রবীণ বাম নেতা প্রসান্ত দেব ছানা বলেন, পাহাড় যদি শেষ হয়ে যায় তাহলে মানুষ ও সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে। সভ্যতাকে ঠিকিয়ে রাখতে হলে পাহাড় রক্ষা করতে হবে। তবে খাসিয়াদের সরিয়ে দেয়া যাবে না। পাহাড় রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষন রায় জানান, লবণছড়ার ঘটনায় খাসিয়া এবং বনবিভাগ পরস্পরকে দায়ী করে থানায় মামলা দায়ের করেছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!