বিটুলী সীমান্ত : ৩ দিনেও লাশ আনার কোন উদ্যোগ নেয়নি : বিজিবি’র রহস্যময় ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর সীমান্ত- অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে আটজন গ্রেপ্তার ছাতকে ফুটবল টুর্নামেন্টের বিরোধে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ : আহত শতাধিক চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন- বড়লেখায় ১৮ চা বাগানে ভোটার ৪ হাজার, প্রশাসনের প্রস্তুতি শুরু বড়লেখায় ইউসি ব্যাংকের ক্যাশলেস লেনদেন বিষয়ক র‌্যালি ও আলোচনা সভা কর্মজীবনের ইতি টানছেন ব্যাংকার সালাহ্ উদ্দিন : গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ভাতিজির সাথে অসমপ্রেম : প্রেমিকার পিতার হাতে যুবক নি হ ত জেলা প্রশাসক ও ইউএনওর কাছে অভিযোগ : ছাতকে নীতিমালা লঙ্ঘন করে পাগনা বড়বিলে মাছ লুটের প্রস্তুতি! খন্ডিত শিক্ষা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানুষ তৈরি হয় না- ড. আবেদ চৌধুরী জুড়ীতে ১৩ বায়োগ্যাস প্লান্ট প্লান্ট থেকে ৮০ পরিবার বায়োগ্যাস ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছে কুড়িগ্রামে ৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল : জেলায় পাসের হার ৪০.৭২% 

বিটুলী সীমান্ত : ৩ দিনেও লাশ আনার কোন উদ্যোগ নেয়নি : বিজিবি’র রহস্যময় ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ

  • সোমবার, ২২ মার্চ, ২০২১

Manual5 Ad Code

লাশ ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান স্বজনরা

আব্দুর রব, জুড়ী ফুলতলা সীমান্ত থেকে ফিরে ::

Manual6 Ad Code

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আব্দুল মুমিন বাপ্পা (৩২) নিহত হওয়ার ৩ দিন অতিবাহিত হলেও তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আানার কোন উদ্যোগ নেয়নি বিজিবি। লাশের জন্য নিহতের পরিবারের চলছে শোকের মাতম । বাংলাদেশী এ যুবকের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে বিজিবি’র উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তায় স্বজনসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। প্রায় দুই বছর পূর্বে একই স্থানে বাপ্পার চাচা আব্দুল কালাম বিএসএফের গুলিতে নিহত হন।

এছাড়া গত বছরের ১৮ জুলাই একই সীমান্তের ওপারে গণপিটুনিতে বড়লেখার গাজিটেকা এলাকার ২ যুবক জুয়েল আহমদ ও নুনু মিয়া নিহত হন। স্বজনরা পরিচয় সনাক্ত করে ইউপি চেয়ারম্যান প্রদত্ত কাগজপত্র সহকারে লাশ আনার জন্য বিজিবির সাথে যোগাযোগ করেন। তাদের লাশ গ্রহণের জন্য বিএসএফ বারবার চিঠি দিলেও বিজিবি তাতে সাড়া দেয়নি। বিজিবি’র নিষ্কিয়তায় ৮ দিনের মাথায় অবশেষে বিএসএফ ভারতের পাথারকান্দিতে এ দুই বাংলাদেশীর লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে মাটি চাপা দেয়। আজও হতভাগা এ দুই যুবকের পরিবার পরিজন লাশ না দেখার শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন।

ভারতের ধর্মনগর থেকে নিউজ বাংলার সাংবাদিক আব্দুল হান্নান মুঠোফোনে জানিয়েছেন, শনিবার ভোরে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী যুবকের লাশ গ্রহণের জন্য বিএসএফ বারবার বিজিবি’র সাথে যোগাযোগ করেছে।  কিন্তু তারা কোন সাড়া দেয়নি। মৃত্যুর ৭২ ঘন্টার মধ্যে বিজিবি যদি লাশ গ্রহণে আগ্রহ না দেখায় তবে বিএসএফ ওই বাংলাদেশী যুবকের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে সেখানে দাফন সম্পন্ন করবে বলে বিএসএফ আসাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।

এদিকে নিহত আব্দুল মুমিন বাপ্পার মরদেহ ফিরিয়ে আনার দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার দাবীতে সোমবার দুপুর একটায় নিহতের স্বজনসহ পূর্ব-বটুলী গ্রামের শতাধিক জনতা স্থানীয় ফুলতলা বিজিবি ক্যাম্পের সম্মুখে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

Manual2 Ad Code

সোমবার দুপুরে জুড়ীর ফুলতলা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পূর্ব-বটুলী গ্রামে নিহত আব্দুল মুমিন বাপ্পার বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে স্বজনদের মধ্যে কান্নার মাতম চলতে দেখা যায়। ২২ দিনের শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে বারবার মোর্চা যাচ্ছেন নিহত বাপ্পার স্ত্রী। ৬ বছরের ছেলে জিসান ও ৪ বছরের মেয়ে তৃপ্তির কান্না যেন থামানোই যাচ্ছে না, বাবা বাবা বলে তারা অবিরত বিলাপ করছে। বাবা-মা, বোন ও স্ত্রী-সন্তানের আহাজারি আর আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। বাপ্পার চাচা বয়তুল মিয়া জানান, ঘটনার পরই ওয়ার্ড মেম্বার মইন উদ্দিনকে নিয়ে বিজিবি’র কোম্পানী কমান্ডারের নিকট গিয়ে লাশ আনার ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাই। রোববার লিখিত দরখাস্ত নিয়ে গেলে বিজিবি তা গ্রহণ করেনি। ইউপি মেম্বার মইন উদ্দিন, বিটুলি গ্রামের আব্দুল মতিন, কামাল উদ্দিনসহ উপস্থিত অনেকেই জানান, শনিবার ভোরেই আমরা বাপ্পার লাশের পরিচয় সনাক্ত করি। গত ৩ দিন ধরে লাশ ফিরে পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বিজিবি ক্যাম্পে যোগাযোগ করি, উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ জানাই। কিন্ত বিজিবি’র ফুলতলা ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার দেলওয়ার হোসেন লাশ আনার উদ্যোগ নেয়াতো দূরের কথা, কোন প্রকার আশ্বাস না দিয়েই উপরের নির্দেশ ছাড়া তার কিছু করার নেই জানিয়ে বিদায় করেন।

Manual6 Ad Code

স্থানীয় লোকজন প্রশ্ন রাখেন, একজন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা কি বিজিবি’র দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। বাবা-মা, বোন ও স্ত্রী-সন্তানরা লাশ পেলে অন্তত তারা সান্তনা পেতেন। সীমান্তের ওপারে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবকের লাশ ফিরিয়ে আনতে বিজিবি’র নিষ্ক্রিয়তায় তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে। বাপ্পার লাশ ফিরে পেতে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শনিবার ভোর ৪টার দিকে জুড়ীর ফুলতলা সীমান্তের পূর্ব-বটুলী ও ভারতের কদমতলা ইয়াকুবনগর বকনি সীমান্ত পিলার ১৮২২ ও বাংলাদেশী সীমান্ত পিলার ৮২৩ এর বিপরীত এলাকার কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে বিএসএফের গুলিতে বাপ্পার মৃত্যু ঘটে। এরপর বিএসএফ তার মরদেহ নিয়ে যায়।

বিজিবি ফুলতলা ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার নায়েক সুবেদার দেলওয়ার হোসেন জানান, দুপুর একটার দিকে কিছু লোক ক্যাম্পের সম্মুখে সীমান্তের ওপারে নিহত ব্যক্তির মৃতদেহ দেশে আনার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। অন্যান্য বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

Manual4 Ad Code

বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল শাহ আলম সিদ্দিকীর মুঠোফোনে ফোন দিলে রিং বাজলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও সাড়া না পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews