- কৃষি, মৌলভীবাজার

যুব সমাজকে মৎস্য চাষের প্রতি আগ্রহী করতে চান কুলাউড়ার জাকির

এইবেলা, কুলাউড়া ০৩ অক্টোবর :- কুলাউড়া শহরেই তার বসবাস। মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন ভাগ্য বদলে। ফিরে এসেছেন দেশে। দেশের মাটিতে সোনা ফলে। তিনিও ফলাতে চান। দেশের বেকার যুবকদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চান, টাকার জন্য বিদেশে যেতে হয়না। এখন তার স্বপ্ন তিনি উদ্যোক্তাদের কাছে মডেল হওয়া।

Kulaura Jakir pic (2)
দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর ২০১৪ সালে দেশের টানে ফিরে আসেন নিজ ভুমি কুলাউড়ায়। ইচ্ছে কিছু একটা করে তাতে যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করা। সিলেটের বিদেশমুখী মনোভাবে পরিবর্তণ আনা। উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের মিটুপুর গ্রামে কিনেন ১ একর ২২ শতক জমি। সেই জমিতে করেন ফিস নার্সারী। প্রথম বছরেই অভুতপূর্ব সাফল্য লাভ করেন। মৎস্য বিভাগের পরামর্শে দেড় কেজি মাছের ডিম থেকে ৩লক্ষাধিক পোনা উৎপাদন করেন। এসব পোনা স্থানীয় মৎস্য চাষীদের কাছে বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি হাওরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। ফিশ নার্সারীর পাশাপাশি পুকুরে করেছেন মাছের চাষ। পুকুরে রুই, বাউশ, মৃগেল, শরপুটি, গ্রাসকার্প, তেলাপিয়া মাছ। পুকুর পাড়ে রয়েছে হরেক রকমের সবব্জি। সেই তালিকায় রয়েছে ঢেড়স, মিষ্টি লাউ, কুমড়া, ডাটা শাক, বেগুন, লাই শাক, লাল শাক প্রভৃতি। এছাড়া তিনি দিলদারপুর চা বাগানের পাশে ১ একর জমিতে করেছেন গাছের বাগান।
প্রবাসী উদ্যোক্তা জাকির হোসেন জানান, তিনি অনাবাদি জমি কিনে তাতে  শুরু করেছেন তার এই বহুমূখী প্রকল্প। নাম দিয়েছেন ‘নিড অগ্রো এন্ড ফিড’। তার লক্ষ্য যুব সমাজের বিদেশমুখীতা রোধ করে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তাদেরকে ধরে রাখা। সিলেট অঞ্চলের পতিত বা অনাবাদি জমিগুলোকে কাজে লাগালে তাতে সোনা ফলানো সম্ভব। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে লেগেছেন কাজে।
ইতোমধ্যে কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শণ করেছেন। প্রত্যেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেন।#

রিপোর্ট- আব্দুল আহাদ

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *